আর্জেন্টিনাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে কেপ ভার্দে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আফ্রিকান ফুটবল কি আসলে ইউরোপিয়ান ফুটবলের সঙ্গে টেক্কা দিচ্ছে? বিষয়টি এখন বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আমি বিষয়টিকে মোটেই এভাবে দেখি না। আমি দেখি যে, এখনো আফ্রিকান ফুটবল ইউরোপিয়ান ফুটবলের চেয়ে বেশ পিছিয়ে। টেকনিক্যাল এবং ট্যাকটিক্যাল স্কিল, ডিসিশন মেকিংয়ের মতো বিষয়গুলো যদি বিবেচনায় আনি, তাহলে অবশ্যই আফ্রিকান ফুটবল এখনো ইউরোপিয়ান এবং লাতিন ফুটবল থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
এ কথা বলা যায়, আফ্রিকান ফুটবল উন্নতি করছে এবং তার কিছু উদাহরণ আমরা দেখছি এই বিশ্বকাপে। সাত-আটটি আফ্রিকান দল রাউন্ড অব ৩২-এ এসেছে, তারা বেশ চ্যালেঞ্জও জানাচ্ছে ইউরোপিয়ান ও লাতিন দলগুলোকে।
ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোয় আফ্রিকান ফুটবলাররা নিয়মিত খেলেন এবং আফ্রিকান প্লেয়াররা অভিবাসী হয়ে বিভিন্ন দেশে যান। সেখানে ফুটবলার হওয়ার নেশায় বিভিন্ন একাডেমিতে যান। নিজেদের পরিপূর্ণ ফুটবলার হিসেবে গড়ে তুলে শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পরে যেখানে যান, সে দেশে অভিবাসী হিসেবে খেলার সুযোগ না পেলে নিজের দেশে ফেরত আসেন এবং সেই দেশের হয়ে খেলেন। ডিআর কঙ্গো এর বড় উদাহরণ। ইউরোপের লিগগুলোয় খেলার কারণেই আফ্রিকান প্লেয়ারদের উন্নতি ঘটে এবং তাদের ফুটবলীয় আচার-ব্যবহার— যেটাকে আমরা বলি ফুটবলীয় পরিভাষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠা। যখন তারা নিজেদের জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করেন তখন একটা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ প্রতিপক্ষ ইউরোপিয়ান অথবা লাতিন দলগুলোকে ছুড়ে দেন।
আফ্রিকান ফুটবল ইউরোপ বা লাতিন ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব খর্ব করছে কি না, সে আলোচনায় আমি মোটেই যাব না। বরং আমি বলব ইউরোপিয়ান দলগুলো শক্তি হারাচ্ছে। বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের পর এখন যে দল, তাদের কিন্তু সেনেগাল দারুণ চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিল গত রাতে। সেনেগাল ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। সেখান থেকে তারা বাউন্স ব্যাক করেছে। এখনো ইউরোপ যে এগিয়ে, তা আফ্রিকানদের ভুলগুলোতেই বোঝা যায়। টেকনিক্যাল অ্যাবিলিটি, ডিসিশন মেকিং, পজিশনিং সেন্স— কিছু ঘাটতি তাদের আছে। ইংল্যান্ড ও কঙ্গোর ম্যাচে হ্যারি কেইন যে গোলগুলো করেছেন, সেখানেও কিন্তু কিছু ডিফেন্সিভ অ্যারর ছিল।
অবশ্যই আফ্রিকান ফুটবল উন্নতি করছে। এই উন্নতির ছাপ তারা রাখছে বিশ্বকাপে।




