আজ জর্ডান তারপর কেপ ভার্দে

লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসিকে এই বিশ্বকাপে জ্বলতে দেখে বিস্ময়ের ঘোর কাটছেই না জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের। সুইডিশ কিংবদন্তি এ বিশ্বকাপে আছেন ফক্স স্পোর্টসের বিশেষজ্ঞ হিসেবে। সুবাদে মেসিকে নিয়ে নিয়মিতই বলতে হচ্ছে তাকে। সম্প্রতি বলেছেন, ‘মেসি শুধু আর্জেন্টিনার সেরা ফুটবলারই নন, তিনি আর্জেন্টিনার পুরো সিস্টেম।’ অর্থাৎ মেসিকে ঘিরেই আর্জেন্টিনা দলের পুরো সিস্টেম তৈরি করেছেন লিওনেল স্কালোনি।
স্কালোনি ২০২২ বিশ্বকাপের সাফল্যসূত্র এবারও প্রয়োগ করছেন। মেসিকে কেন্দ্র করেই সাজাচ্ছেন পুরো দল, ম্যাচের কৌশল। ফিফা টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ স্কালোনির এই কৌশলের একটা অদ্ভুত নাম দিয়েছে— ‘সাজানো বিশৃঙ্খলা’। অর্থাৎ অ্যাটাকিং থার্ডের অন্যরা প্রতিপক্ষের রক্ষণে গিয়ে একটা বিশৃঙ্খলা পাকাবেন। সে সুযোগে জায়গা করে নিয়ে মেসি গোলের মালা গাঁথবেন।
মালা ঠিকই গেঁথে চলেছেন ৪০-এ পা রাখা মেসি। অন্য যেকোনো বারের চেয়ে দ্রুতগতিতেই। দুই ম্যাচে পাঁচ গোল করে এই আসরে এখনো সবার ওপরে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছেন। ১৮ গোলে মিরোস্লাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে সেরার মুকুট পরেছেন। সেই মেসিই কি না জর্ডানের বিপক্ষে আজ থাকছেন না আর্জেন্টিনার একাদশে!
দলের মূল অস্ত্রকে ‘আসল’ লড়াইয়ের জন্য আরও শানিয়ে নিতেই স্কালোনির এমন সিদ্ধান্ত। শেষ ৩২ নিশ্চিত হয়েছে ‘জে’ গ্রুপের সেরা হিসেবে। ৪ জুলাই নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে মায়ামিতে হবে ম্যাচ। তার আগে আজ জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচটা শুধুই আনুষ্ঠানিকতার। এ সুযোগে স্কালোনি পরখ করতে চান সাইড বেঞ্চের গভীরতা। পাশাপাশি মেসিকে বাইরে রেখে বিশ্বমঞ্চে দল কেমন খেলে, সেটিও দেখে নিতে চান। খুব দরকার হলে বেঞ্চ থেকে হয়তো মেসিকে নামাবেন অল্প সময়ের জন্য।
বিশ্বকাপে এরকম ঘটনা খুব বেশি ঘটেনি। ২০০৬ বিশ্বকাপে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে অভিষেকে বদলি হয়ে নেমে সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়ে নিজেও করেছিলেন মেসি। এরপর টানা দুই ম্যাচে খেলেছেন পুরোটা সময়। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে হোসে প্যাকারম্যান মেসিকে নামাননি। সেই ম্যাচ হেরে শেষ হয়েছিল আর্জেন্টিনার পথচলা। সেই বাদ পড়ার পর অবশ্য আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১০ বিশ্বকাপ থেকে টানা ২৫ ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রতি ম্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে। জর্ডানের বিপক্ষে এই ধারায় ছেদ পড়বে আজ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোচ স্কালোনি, ‘মেসিকে বাইরে রেখেই আমি শুরুর একাদশ চূড়ান্ত করেছি। তবে মেসি পরে নামবে।’ শুধু মেসি নন, অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে গ্রুপসেরা নিশ্চিত হওয়ায় স্কালোনি অনেককেই বিশ্রাম দিচ্ছেন, ‘পরিকল্পনা হলো (স্কোয়াডের) বেশিরভাগ খেলোয়াড়কে খেলার সুযোগ দেওয়া। আমি মনে করি, তারা এটির যোগ্য এবং ম্যাচে যখনই আমাদের সেই সুযোগ আসবে, আমরা তা করব।’
অথচ এ ম্যাচেও রেকর্ড ভাঙা-গড়ার সুযোগ আছে মেসির। বেঞ্চ থেকে এসে যদি গোল করতে পারেন, তবে বিশ্বকাপে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা সাত ম্যাচে গোলের রেকর্ড গড়বেন, যা ফরাসি জুস্ত ফোঁতেনের ১৯৫৮ সালের এবং ব্রাজিলিয়ান জর্জিনহোর ১৯৭০ সালে টানা ছয় ম্যাচের গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। স্কালোনির কাছে অবশ্য সবার ওপরে দল। মেসি না খেলায় তাকে কৌশলে বদলাতে হবে, যেটা বিশ্বকাপের আগে নিয়মিতই করেছেন। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনা ২১টি ম্যাচ খেলেছে মেসিকে ছাড়া। এর মধ্যে ১৬টি জয়, তিনটি ড্র আর হার মাত্র দুই ম্যাচে। বাছাইয়ে ব্রাজিলকে ৪-১ গোলে হারানো, কলম্বিয়ার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে। অর্থাৎ মেসিকে ছাড়াও ভালো খেলা ও জয়ের অভ্যাস গড়ে তুলেছেন অন্যরা।
মেসিকে নিয়ে ইব্রাহিমোভিচের বহু বচনের আরেকটা ছিল এমন, ‘তিনিই সেই কারণ, যার জন্য অন্য সব খেলোয়াড় মাঠে নামার সময় বিশ্বাস করে, অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। আপনি দলে থাকার কারণে যখন বাকি সবাই আরও ভালো খেলতে শুরু করবে, সেটিকেই বলে মহত্ত্ব।’
তবে মেসি যখন থাকবেন না, তখন কী হবে? ৪ জুলাই কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে আজ জর্ডান ম্যাচের বড় একটা সময় মেসি সতীর্থরা আরেকবার পাবেন ওপরের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সুযোগ।




