বিশ্বকাপ
রোনালদোর শেষের শুরু

বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে তাকে একরকম বিদায়ই বলে দিয়েছিলেন ভক্তরা। কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর কাছে হেরে চোখের জলে মাঠ ছেড়েছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। কিন্তু গল্পের শেষটা হয়নি। চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে হাজির পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। আজ রাতে গ্রুপ ‘কে’র ম্যাচে হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সিআর সেভেনের শেষের শুরু।
৪১ বছর বয়সে রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন রোনালদো। ক্লাব কিংবা জাতীয় দল, ‘গোলমেশিন’ রোনালদো যেন থামতেই চাইছেন না। হাজারতম গোলের দিকে ছুটে চলা এ পর্তুগিজ তারকার লক্ষ্য সেই সোনালি ট্রফিটাই।
সময়ের সঙ্গে গতি কমেছে, কমেছে আগের সেই ফিনিশিং দক্ষতাও। কিন্তু গোল করার ক্ষুধা কিংবা বড় ম্যাচে নিজেকে প্রমাণ করার ব্যাপারটা এখনো সমানভাবে আছে রোনালদোর মধ্যে।
দলে তারকার অভাব নেই। ব্রুনো ফের্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া, জোয়াও ফেলিক্সরা থাকলেও সবার নজর থাকবে ‘বুড়ো’ রোনালদোর দিকেই।
পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর সাফল্য ১০ বছর আগে সেই ঐতিহাসিক ইউরো জয় ও নেশনস লিগের শিরোপা। লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা এলেই আসে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ। মেসি জিতেছেন, রোনালদো ছুঁয়ে দেখতে পারেননি সেই অধরা শিরোপা। নিজের শেষ বিশ্বকাপে রোনালদোর চোখ তাই শিরোপার দিকেই।
মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীলতায় এবারের আসরে পর্তুগালকে ফেভারিটদের তালিকায় রাখছেন অনেকেই। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে পর্তুগালের বাধা প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ।
বিশ্বকাপে কঙ্গো এসেছে বড় স্বপ্ন নিয়ে। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখা আফ্রিকার দেশটি বাছাই পর্ব পার করেছে দারুণ পারফর্ম করে। বিশেষ করে তাদের দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করেছে বরাবরই।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে আগে কখনোই মুখোমুখি হয়নি দুই দেশ। বিশ্বকাপের এ দেখা তাই দুই দলের জন্যই কিছুটা চ্যালেঞ্জের। পর্তুগাল আক্রমণভাগে আধিপত্য বিস্তার করবে আর ডি আর কঙ্গো রক্ষণ সংগঠিত রেখে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুঁজবে— এ ম্যাচের গল্প হতে পারে এমনটাই।
ম্যাচ যত এগোবে, রোনালদোর ভূমিকা ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বড় টুর্নামেন্টে তার অভিজ্ঞতা এবং চাপের মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতাই পর্তুগালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। শেষ পর্যন্ত রোনালদোই এ ম্যাচে পর্তুগালের নায়ক হতে পারেন কি না, এজন্য অপেক্ষা করতে হবে রাত ১১টা পর্যন্ত।




