অবশেষে বিশ্বকাপের গ্যালারিতে ভোজিনহার মা

সংগৃহীত ছবি
টাকার অভাবে মাকে নিয়ে বিশ্বকাপে আসতে পারেননি বলে কেঁদেছিলেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। তার সেই কান্না দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। অবশেষে ভোজিনহার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গতকাল উরুগুয়ের বিপক্ষে পুঁচকে কেপ ভার্দের ২-২ গোলের মহাকাব্যিক ড্রয়ের রাতে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন ৬৪ হাজার ৩ জন দর্শক। তাদের একজন ছিলেন ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরা।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্রয়ের রাতে ভোজিনহার মা গ্যালারিতে থাকতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে আটকে ছিল তার বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন। কিন্তু ফুটবল যেখানে মেলবন্ধনের নাম, সেখানে বাধা হয়ে থাকতে পারেনি লাল ফিতার দৌরাত্ম্য। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট, ফিফা, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা এবং কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের যৌথ প্রচেষ্টায় দূর হয় সব আইনি জটিলতা। দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার ভ্রমণক্লান্তি শেষে গত শুক্রবার বিকালে মায়ামিতে পা রাখেন তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ফিফার কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
রবিবার রাতে মায়ামি স্টেডিয়ামের একটি বিশেষ ভিআইপি স্যুইটে বসে ছেলের খেলা দেখেন আনা। গায়ে ছিল ছেলের নাম ও জার্সি নম্বর লেখা জার্সি, আর হাতে দেশের পতাকা। ম্যাচের আগে ফিফার মাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় ছেলেদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মাথা উঁচু করে মাঠে নামো, গোলের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ো। তোমরা দারুণ খেলবে, আমার ছেলেরা। তোমাদের জন্য অনেক ভালোবাসা, শক্ত ও সাহসী হও। গো ব্লু শার্কস।’
বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের সামনে দাঁড়িয়ে ছেলে যখন দেশের জাল সামলাচ্ছেন, গ্যালারিতে বসে গর্বিত মা তখন প্রতিনিয়ত প্রার্থনা করছেন। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ছেলেকে দুটি গোল হজম করতে দেখার কষ্ট তাকে সইতে হলেও, শেষ পর্যন্ত রাতটি ছিল এই দ্বীপরাষ্ট্রের ফুটবলারদের জন্য আনন্দের। ম্যাচ শেষে মাঠ থেকে ছেলে যখন গ্যালারির দিকে হাত নাড়ছিলেন, মা তখন দেশের পতাকা উড়িয়ে বুনো উল্লাসে মাতেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে যদি
কেউ বলত যে উরুগুয়ের সঙ্গে কেপ ভার্দে ড্র করবে, তাহলে তাকে নিশ্চয়ই পাগল ভাবত সবাই।
কিন্তু স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষে টানা দুই ড্রয়ে এখন ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে নকআউটের স্বপ্ন দেখছে কেপ ভার্দে। আগামী
ম্যাচে সৌদি আরবকে হারাতে পারলেই নিশ্চিত হবে দ্বিতীয় পর্ব। মায়ামির এই রাতে আনা কান্দিদা
কেবল ছেলের খেলা দেখেননি, বরং বিশ্বমঞ্চে এক মায়ের বিশ্বাসের শক্তি দিয়ে পুরো দলকে
উজ্জীবিত করেছেন।






