যোগ্য দল হয়েই ফাইনালে স্পেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ফ্রান্স ও স্পেনের বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, স্পেন কৌশলগতভাবে ফ্রান্সকে সম্পূর্ণরূপে আউট-প্লে করেছে। ডিফেন্ডিং, মিডফিল্ডে বল পজেশন নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যাটাকিং থার্ডে সুযোগ তৈরি— সবক্ষেত্রেই স্পেন অনেক বেশি কার্যকর ছিল।
ফ্রান্সের মূল পরিকল্পনা ছিল স্পেনের বিল্ড-আপের সময় হাই-প্রেসিং করে বাধা দেওয়া। তবে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের দ্রুত পজেশন ও বল রোটেশনের কারণে ফ্রান্সের প্রেসিং ব্যর্থ হয় এবং স্পেন সহজেই মিডল থার্ডে খেলা গুছিয়ে নেয়। মিডফিল্ডে রোদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসরা বল পজেশন একচ্ছত্রভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। সেখান থেকে দানি ওলমো, লামিন ইয়ামাল ও ওয়ারসাবালদের নিয়মিত বল সাপ্লাই দেওয়া হয়, যা স্পেনের আক্রমণকে ধারালো করে তোলে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের প্রধান শক্তির জায়গা ছিল লেফট হাফ-স্পেস ও ওয়াইড এরিয়া থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পের গভীরে মুভমেন্ট এবং ডান দিকে উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের কম্বিনেশন। তবে স্পেন তাদের ডিফেন্ডিং ট্রানজিশনে চমৎকার ‘রেস্ট ডিফেন্স’ প্রদর্শন করে। ফ্রান্স বল পাওয়া মাত্রই রোদ্রি, ফাবিয়ান রুইস ও দানি ওলমো মিলে বল-ওরিয়েন্টেড জোনে একটি ‘ট্রাফিক জ্যাম’ তৈরি করে ফেলতেন। এই কনজাস্টেড ওভারলোডের কারণে এমবাপ্পে বা দেম্বেলে স্ট্রাইক করার মতো কোনো স্পেস পাননি।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল ফ্রান্সের কনসিড করা পেনাল্টিটি, যা লুকাস দিনিয়ের একটি শতভাগ টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল ভুল। লেফট সাইডের একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে তার হেডে বল ওপরে উঠে যায়। পেনাল্টি বক্সের ভেতর বলের ট্রাজেক্টরি ও পেরিফেরিয়াল ভিশনে পেছনে থাকা লামিন ইয়ামালকে স্ক্যান না করেই দিনিয়ে প্রি-ডিটারমাইন্ড কিকে বল ওড়াতে যান। ফলস্বরূপ, ইয়ামাল গতি বাড়িয়ে আগে চলে আসেন এবং দিনিয়ের কিক তার থাইয়ে লাগলে পেনাল্টি হয়, যা থেকে ওয়ারসাবাল স্পেনকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। দিনিয়ে যদি বল ও নিজের পজেশন বুঝে ইয়ামালকে শিল্ড করতেন, তবে এই ফাউল এড়ানো যেত।
সালিবার ইনজুরির পর ক্রিস্টাল প্যালেসের ডিফেন্ডার লাক্রোয়া নামলে ফ্রান্স দ্বিতীয় গোলটি হজম করে। পেদ্রো পোরো বল পাস করে যখন ব্যাকলাইনের পেছনে রান নেন, তখন লাক্রোয়া জোনাল পজেশন ধরে না রেখে নিচে ড্রপ করা ওলমো বা ওয়ারসাবালকে ফলো করতে যান। এতে তৈরি হওয়া শূন্যস্থান ব্যবহার করে স্পেন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।




