হৃদয়ে ব্রাজিল মস্তিষ্কে ফ্রান্স
- দোরিয়েলতন গোমেজ

বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। গোটা দুনিয়া ব্রাজিলকে ফুটবলের দেশ হিসেবে জানে। ব্রাজিলে জন্ম, বেড়ে ওঠা ও সেখান থেকে উঠে এসে সারা দুনিয়ায় ফুটবল খেলে বেড়ানো আমার জন্য ভীষণ গর্বের। জানেন তো, আমরা সবসময় ব্রাজিল জাতীয় দলের ওপর বিশ্বাস রাখি। তা যেমন দলই হোক। বিশ্বকাপ এলে সবসময় বিশ্বাস করি আমরাই জিতব। যদিও দুর্ভাগ্যবশত গত ২৪ বছর আমরা ট্রফিটি ছুঁতে পারিনি।
বরাবরের মতো এবারও ব্রাজিল দলের ওপর আমার অগাধ আস্থা। আমাদের ভালো ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। তবে আমি মনে করি এটা সহজ নয়। কারণ ফ্রান্স। তারাও ভীষণ শক্তিশালী। তবে আমি চাই ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হোক। সেই শুভকামনা থাকবে সবসময়। পাশাপাশি আমাদের জাতি হিসেবে ইতিবাচক হতে হবে, সমর্থন জানিয়ে যেতে হবে।
যদিও আনচেলত্তি যে দল গড়েছেন, তা নিয়ে আমার নিজের মনেই কিছু প্রশ্ন রয়েছে। আমার কাছে অন্য কিছু নাম আছে, যারা এ দলে সুযোগ পেতে পারতেন। হয়তো কোচও সেই নামগুলো রাখতে পারতেন। তবে কেন তিনি রাখেননি বলতে পারব না। আনচেলত্তি অনেক বড় কোচ। তিনি যাদের নিয়ে দল গড়েছেন, নিশ্চয়ই তারাও খারাপ নয়।
বিশেষ করে আমার কাছে সবসময় নেইমার এক নম্বর। লাখো ব্রাজিলিয়ানের মতো আমিও খুব করে চাচ্ছিলাম সে সুযোগ পাক। তার আছে বিশাল অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। হয়তো আগের মতো সে তরুণ নেই। এখন আর পাগলের মতো দৌড়াতে পারবে না। আমিও যেমন পারি না (হাসি)। তবে নেইমার এখন অনেক চিন্তা করে খেলে। সে যদি এক, দুই বা তিনবার বলের দেখা পেয়ে যায়, তার পায়ে-বলে স্পর্শ পেতে শুরু করে। সে এখনো অনেক কিছু করে ফেলতে পারে। অনেকে বলছেন, নেইমারকে নেওয়াটা আনচেলত্তির অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত। কোচ অনেক বড় ঝুঁকি নিয়েছেন। আমি এমনটা মনে করি না। আমার মনে হয় নেইমার কোচের ভাবনায় সবসময় ছিল। কারণ, তিনি (আনচেলত্তি) নেইমারের যোগ্যতা সম্পর্কে জানেন। কোচ আসলে অন্যদের পরখ করতে চেয়েছিলেন। নেইমারকে পরখ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
দুর্ভাগ্যবশত গত ২৪ বছর আমরা ট্রফিটি ছুঁতে পারিনি। বরাবরের মতো এবারও ব্রাজিল দলের ওপর আমার অগাধ আস্থা। আমাদের ভালো ও মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। তবে আমি মনে করি এটা সহজ নয়। কারণ ফ্রান্স। তারাও ভীষণ শক্তিশালী। তবে আমি চাই ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হোক। সেই শুভকামনা থাকবে সবসময়
নেইমার যুক্ত হওয়ায় আমাদের আক্রমণভাগ আরও শক্তিশালী হয়েছে। সবাই জানেন, ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইন সবসময়ই ভালো। তবে এটাও ঠিক, নেইমার ও রাফিনিয়া জুটিকে জাতীয় দলের জার্সিতে সেভাবে সফল হতে দেখিনি। আসলে কিছু খেলোয়াড় ক্লাবে যা করেন, জাতীয় দলে তা করতে পারেন না। জাতীয় দলে অনেক চাপ নিয়ে খেলতে হয়। এ ব্যাপারটা কিছু মানুষ হয়তো বোঝেন না। যখন মাঠে নামবেন, আপনার ওপর চাপ থাকবেই। এটি সহজ নয়। আপনি শুধু মাঠে এলেন, বল স্পর্শ করলেন আর শেষ করে দিলেন— এটি অসম্ভব। তারপরও আমি তাদের ওপর বিশ্বাস রাখতে চাই। কারণ সব খেলোয়াড় নেইমারকে পছন্দ করেন এবং তাকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী। আমার মনে হয় নেইমার দলকে ভালো সমর্থন দেবেন এবং তার সংযুক্তিতে দল আগের চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে।
আমি ব্রাজিল দলে সবসময় বড় কতগুলো নাম ভীষণভাবে মিস করি। রোনালদো, রোনালদিনহো, কাকা, রবিনহো। তারাই আমাদের বছরের পর বছর বিনোদিত করেছেন। আর বর্তমান দলটি ঠিক আগের মতো নয়। আগের সময়টাই আলাদা ছিল। তারপরও আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে। হয়তো কাজটি সহজ নয়। তারপরও...।
আমি আগেও বলেছি, ব্রাজিল আমার হৃদয়ে, তবে মগজ বলছে ফ্রান্স এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। হয়তো তারাই সেরা হবে। তারা সেরা ফর্ম নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। আমার একটি স্বপ্ন আছে। আমি চাই ফাইনালটা হোক ব্রাজিল বনাম ফ্রান্স। সেরা দলকে হারিয়েই আমরা শিরোপার অপেক্ষার ইতি টানতে চাই।
আর জানেন তো হেক্সার স্বপ্নটা আমরা লালন করে আসছি অনেক দিন ধরে। আমি জানি না, সত্যি জানি না, এবার আমরা পারব কি না। হয়তো জিতব, তবে সেটি অর্জন মোটেই সহজ নয়। কারণ, অন্যরাও বসে থাকবে না। সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করবে। তবে আমার কাছে যদি সেমিফাইনালে ফেভারিট চার দলের নাম জানতে চান, আমি চারবারই ব্রাজিলের নাম উচ্চারণ করব (হাসি)।
গত বিশ্বকাপে আমি বাংলাদেশে ছিলাম। সে সময় খেলা চলছিল। তার মধ্যেও বিশ্বকাপ খুব উপভোগ করেছি। এ অঞ্চলের মানুষ ফুটবল বলতে পাগল। বিশ্বকাপে অনেক মানুষ ব্রাজিলকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। তাদের সাধারণত আমি সাক্ষাৎকার দিই না। তবে যখনই আপনাদের সঙ্গে কথা হয়, ব্রাজিলের ফুটবল নিয়ে প্রশ্ন শুনতে হয়। এ দেশে থেকে দেখেছি মানুষ বিশ্বকাপ কী পরিমাণ পাগলামি করে। এবারও আশা করছি জমজমাট একটি বিশ্বকাপ হবে। তবে এবার বিশ্বকাপ উপভোগ করব বাড়িতে থেকে। স্ত্রী, সন্তান ও মাকে নিয়ে।
লেখক: বসুন্ধরা কিংসকে ট্রেবল জেতানো ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার






