এই জার্মানি ভয়ংকর

সংগৃহীত ছবি
পরপর দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ছয় ম্যাচে গোল মাত্র আটটি। চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানির এমন বাজে সময় সবশেষ কবে এসেছিল, সেটা মনে করতেই হয়তো কষ্ট হয়েছে সমর্থকদের। বিকল হতে বসা সেই ‘জার্মান যন্ত্র’ বহুদিন পর যেন ফিরে পেল তার আসল গতি। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে ‘সেভেন আপের’ তিক্ত স্বাদ দিয়ে জুলিয়ান নাগলসমানের দল জানান দিল, জার্মানি কিন্তু এখনো ভয়ংকর!
আগের দুই আসরে আট গোল করা জার্মানির গোলখরা কাটল ২০২৬ সালে এসে। জার্মানরা তাদের ব্যর্থতা যেন পুষিয়ে দিল এক ম্যাচেই। হিউস্টনে রবিবার ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে নবাগত কুরাসাওকে পাত্তাই দেয়নি চারবারের চ্যাম্পিয়নরা। ২০১৪ আসরের সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানোর পর, এই প্রথম বিশ্বকাপের ম্যাচে সাত গোল করল জার্মানরা।
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে বিধ্বংসী জার্মান দলকে নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে তুমুল আলোচনা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যে দলকে ফেভারিটের কাতারে রাখেননি অনেকে, তারাই এখন শিরোপার অন্যতম দাবিদার মানছেন নাগলসমানের দলকে।
৭-১-এর জয়ের পর তরুণ জার্মান দলের বেশ কিছু দিক বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছে সমর্থকদের। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ জুড়েই সেটপিসে জার্মানি ছিল দুর্দান্ত। ব্রাউনের কর্নারে শ্লোটারবেকের হেডে প্রথমার্ধে লিড ফিরে পেয়েছিল দল।
দলের অন্যতম সেরা ফুটবলার জামাল মুসিয়ালার ফর্ম নিয়ে ছিল নানা প্রশ্ন। সব সমালোচনার জবাব মুসিয়ালা কাল মাঠেই দিয়েছেন, পেয়েছেন গোলও। মুসিয়ালার ফর্মে ফেরা নাগলসমানের জন্য বড় এক পাওয়া।
গত ইউরোর পর থেকেই মাঝমাঠ নতুন করে সাজিয়েছেন নাগলসমান। ফেলিক্স নেমেচা ও আলেকজান্ডার পাবলোভিচের জুটি দারুণ সফল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। এ দুজনের কল্যাণে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ দারুণভাবেই রাখে জার্মানরা।
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে গোল পেয়েছেন জার্মানির ছয়জন ফুটবলার। তারা সবাই বিভিন্ন পজিশনে খেলেন। নাগলসমানের জন্য এটা এক বড় পাওয়া। অভিষেকেই রক্ষণে দৃঢ়টা দেখিয়েছেন ডিফেন্ডার নাথানিয়েল ব্রাউন। শুধু তাই নয়, ২২ বছর বয়সী এ ফ্রাংকফুর্ট ডিফেন্ডার করেছেন গোলও।
ফ্লেরিয়ান উইর্টজকে নিয়ে বিশ্বকাপের আগে থেকেই চলছিল আলোচনা। দলে তার ভূমিকাটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রথম ম্যাচেই। নিজে গোল পাননি, তবে গোল পেতে সাহায্য করেছেন। রুখে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণও।
ম্যাচ শেষে জার্মান কোচ বলছেন, কুরাসাওয়ের বিপক্ষে সাফল্যের যে ‘ট্রেন’ চালু হলো, সেটাই বজায় রাখতে চান তারা। গত দুই আসরে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি ছিল প্রবল। এবার সেটা পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান নাগলসমান, “এই দলকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। ১-১ সমতার সময় আমাদের ধৈর্য ধরতে হয়েছিল। দল সত্যিই শতভাগ উজাড় করে দিতে চায়। আমরা সঠিক তীব্রতা নিয়ে খেলেছি। এটা ধরে রাখতে পারলে ভালো একটি টুর্নামেন্ট কাটবে আমাদের। একচেটিয়া জয় এবং আত্মবিশ্বাস আমাদের সত্যিই প্রয়োজন ছিল। নিজেদের ওপর আস্থা তো ছিলই, তবে এখন তা আরও বেড়েছে। জার্মানির মানুষদের এটা দেখানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, আমরা পারফর্ম করতে পারি। ম্যাচ শেষে জার্মান সমর্থকরা ‘দ্য ট্রেন হ্যাজ নো ব্রেকস’ গানটি গাইছিলেন। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করব এ টুর্নামেন্ট সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।”
শুরুটা উড়ন্ত হলেও, মাটিতেই পা রাখছেন নাগলসমান, ‘এটা দারুণ এক শুরু ছিল। বিশেষ করে প্রথম ১৫ মিনিট আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। কুরাসাওয়ের গোলটা অবশ্য অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে দল যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা অসাধারণ ছিল।’
কুরাসাওয়ের প্রশংসা করতেও ভোলেননি, ‘জার্মানির অনেক মানুষের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলেছে কুরাসাও। তারা আগের চেয়ে ভিন্ন কৌশলে এবং অনেক সাহস নিয়ে খেলেছে। সাত গোল করা সহজ নয়, তাই আমরা অনেক সন্তুষ্ট। আমরা সঠিক পথেই আছি। তবে কিছু দিকে আরও উন্নতির জায়গা আছে। টুর্নামেন্টে সামনে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে।’




