বিশ্বকাপ
কী আছে ফিফার 'রিপ দ্যা স্ক্রিপ্ট' বিজ্ঞাপনে?

সংগৃহীত ছবি
হলিউডের বিশাল স্টুডিওর কোনো এক সেট। সেখানে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে শুটিং চলছে। নিকো উইলিয়ামস ও কিলিয়ান এমবাপ্পে প্রথম শটের মূল চরিত্র। স্ক্রিপ্ট মতো এমবাপ্পে স্পেনের বিপক্ষে হেডে গোল করবেন। চোখ কপালে তুলে সাসপেন্সে ভরা গোল করার আগ মুহূর্তের সেই দৃশ্য আপনি দেখছেন।
দেখলেন এমবাপ্পে হেডে নয়, গোল করলেন বাইসাইকেল কিকে। অসম্ভব সুন্দর গোল। এরপর যথারীতি ফরাসী তারকার সিগনেচার সেলিব্রেশন। ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক হবে, দর্শকদের উল্লাসধ্বনি থাকবে, এমবাপ্পেকে লো অ্যাঙ্গেল শটে বিশাল কিছু বানিয়ে দেখানো হবে, কিন্তু না। এবার ভ্রু কুঁচকে যাওয়ার পালা।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর কিছুদিন বাকি। কিন্তু ফুটবল দুনিয়ার শুক্রবার থেকে বড় আলোচনা এখন মাঠে নয়, বরং একটা বিজ্ঞাপন নিয়ে! একদিনেই টুইটারে এই বিজ্ঞাপনের ভিউ ১ কোটি ৬০ লাখ। ইউটিউবে ১ কোটি ১৪ লাখ।
'রিপ দ্যা স্ক্রিপ্ট' বিজ্ঞাপনের লিংক- https://www.youtube.com/watch?v=fsaPiwtgjbM
নাইকির নতুন সিনেমাটিক ক্যাম্পেইন 'রিপ দ্যা স্ক্রিপ্ট' প্রকাশের পর মাত্র একদিনেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি ভিউ পেয়েছে। অনেকেই এটাকে বলছেন—'ফুটবল বিজ্ঞাপনের অ্যাভেঞ্জার্স এন্ডগেম'!
প্রথম দৃশ্যে ফেরা যাক। এমবাপ্পের গোলের পর প্রশংসা পাওয়ার কথা। কিন্তু পরিচালক রেগে আগুন। কেন গোলটি হেড না দিয়ে বাইসাইকেল কিকে দেওয়া হলো? পরিচালকের রাগ দেখে ফুটবলাররা সিদ্ধান্ত নেন—নাহ, আমরা স্ক্রিপ্ট মানব না!
কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হলান্ড, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো—একের পর এক তারকা ক্যামেরার সামনে নয়, বরং স্ক্রিপ্টের বিপরীতে গিয়ে নিজেদের মতো মজা শুরু করে। তাদের সঙ্গে হাজির হন রোনালদিনহো, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, এরিক ক্যান্টোনা, দিদিয়ের দ্রগবার মতো কিংবদন্তিরা। আর ফুটবলের বাইরের জগৎ থেকে দেখা যায় লেব্রন জেমস, কিম কার্দাশিয়ান, ট্রাভিস স্কট, লিসা, এমনকি টেড লাসোকেও!
পুরো বিজ্ঞাপনের মূল বার্তা হলো- কেউ নির্দেশ মানার জন্য স্বপ্ন দেখে না। ফুটবলের সবচেয়ে জাদুকরী মুহূর্তগুলো আসে তখনই, যখন খেলোয়াড়রা নিজেদের প্রবৃত্তি, সৃজনশীলতা আর সাহসকে অনুসরণ করে।
এ কারণেই বিজ্ঞাপনের নাম—'রিপ দ্যা স্ক্রিপ্ট'। মানে লিখে দেওয়া নির্দেশটা ছিঁড়ে ফেলো। নিজের গল্প নিজেই লেখো। আর এখানেই নাইকির চালাকি।
২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল স্পনসর না হয়েও তারা আবারও বিশ্বকাপের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। বিজ্ঞাপনটি শুধু একটি ভিডিও নয়; বরং পুরো বিশ্বকাপজুড়ে চলবে এমন একটি বিশাল মার্কেটিং ইউনিভার্সের দরজা খুলে দিয়েছে।
মজার বিষয় হলো, বিজ্ঞাপনটিতে এত বেশি তারকা, এত টুইস্ট ও চমক আছে যে অনেক দর্শক একবার দেখে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বারবার দেখে নতুন নতুন চরিত্র খুঁজে বের করছেন।
তাই বলা যায়, নাইকি শুধু একটা বিজ্ঞাপন বানায়নি। তারা বিশ্বকাপের আগে ফুটবল ভক্তদের জন্য ছয় মিনিটের এক বিশাল সিনেমা বানিয়েছে।
আর সেই সিনেমার বার্তা একটাই— ফুটবলের সৌন্দর্য স্ক্রিপ্টে নয়, অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে।
কারণ ইতিহাস নির্দেশনা মেনে লেখা হয় না। ইতিহাস লেখা হয়—স্ক্রিপ্ট ছিঁড়ে ফেলে।




