মাতালেন মরক্কোর ১৮ বছরের বুয়াদি

তার জন্ম ফ্রান্সে। দেশটির অনূর্ধ্ব-২১ দলে খেলেছেন কিছুদিন আগেও। হয়তো বিশ্বকাপে সঙ্গী হতে পারতেন কিলিয়ান এমবাপ্পের। কিন্তু বাবা-মায়ের জন্মসূত্রে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটাই বেছে নিয়েছেন আয়ুব বুয়াদি। বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগে ছাড়পত্র পেয়েছেন মরক্কোর হয়ে খেলার।
১৮ বছরের এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডারকে ব্রাজিলের বিপক্ষে শুরুর একাদশেই নামান মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি। এত বড় মঞ্চে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে মোটেও স্নায়ুর চাপে ভোগেননি বুয়াদি। বরং কাসেমিরো, পাকেতাদের মতো তারকাদের ম্লান করে আলো ছড়িয়েছেন তিনিই।
তার ৬৬টি পাসের মধ্যে সঠিক ছিল ৬১টি। ফাইনাল থার্ডে ১৬টি পাসের সবকটিই ছিল নির্ভুল। রিকভার করেছেন ছয়টি বল। ব্রাজিলের পাস আটকে দিয়েছেন পাঁচটি। এমন পারফরম্যান্সে মাতামাতি চলছে বুয়াদিকে নিয়ে। বিশ্বকাপ শেষে লিলের এই তরুণকে নিয়ে আর্সেনাল বা লিভারপুলের টানাটানি লাগবে বলে জানিয়েছেন দলবদলের নির্ভরযোগ্য সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানো।
মরক্কো কোচের তাতে কিছু যায় আসে না। বুয়াদির সেরাটা তিনি চান বিশ্বকাপে। তার পারফরম্যান্স নিয়ে মোহাম্মদ ওয়াহবির সন্তুষ্টি, ‘বয়স ১৮ হলেও তাকে নামানো নিয়ে ঝুঁকি ছিল না কোনো। আমি বয়স দেখে নয়, পারফরম্যান্স দেখে নিয়েছি ওকে।’
লিলের হয়ে মাত্র ষোলো বছর বয়সে ফরাসি লিগে অভিষেক হয়েছিল বুয়াদির। ফরাসি লিগে তার চেয়ে কম বয়সে অভিষেক হয়েছে মাত্র তিনজনের। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লিলের ১-০ গোলের জয়ে বুয়াদির পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল সবার। এরপরই মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের ডাক পেয়ে ‘হ্যাঁ’ বলে দেন তিনি।
শুধু বুয়াদি নন, ব্রাজিলের বিপক্ষে সিংহের মতোই খেলেছে ‘আটলাসের সিংহ’খ্যাত মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর ইতিহাস গড়েছিল তারা। দাপটে খেলে ব্রাজিলকে হারাতে না পারায় অসন্তুষ্টিই জানালেন কোচ ওয়াহবি, ‘আমরা জিততে চেয়েছিলাম, খেলোয়াড়রাও জয়ের জন্য মরিয়া ছিল। ম্যাচটা ড্র হওয়ায় আমাদের মনে হচ্ছে জয়টা যেন আমাদের হাত থেকে ফসকে গেল। যারা বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিল, তারা বেশ ভালো করেছে। তীব্র গরম খেলোয়াড়দের ওপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। তা ছাড়া আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় এবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে। কাজটা সত্যিই সহজ নয়।’
বয়স ১৮ হলেও তাকে নামানো নিয়ে ঝুঁকি ছিল না কোনো। আমি বয়স দেখে নয়, পারফরম্যান্স দেখে নিয়েছি ওকে
মোহাম্মদ ওয়াহবি
বছর তিনেক আগে ফিফা র্যাংকিংয়ে মরক্কো ছিল ১৪ নম্বরে। তারা বিশ্বকাপে এসেছে ৭ নম্বরে থেকে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জিতেছে সব ম্যাচ। তাদের যুব দল জিতেছে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ। এটিই প্রমাণ করে, উন্নতির শিখরে আছে মরক্কো। তাই এবার সেমিফাইনালের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন কোচ ওয়াহবি, ‘সেমিফাইনালের বাইরেও যেতে চাই। এটি ছিল একটি ভালো ম্যাচ। এটি যথেষ্ট ভালো এবং আমরা আরও উন্নত হব। আমি যেটা নিয়ে সত্যিই গর্বিত, তা হলো চাপের মধ্যেও বল দাবি করে খেলার সাহস আমাদের আছে। এটা আমাদের একটা বড় গুণ।’
স্ট্রসবার্গে খেলা মুরাবাত ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, ‘ব্রাজিলের বিপক্ষে এটি একটি ভালো ফল, এখন আমরা আমাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে চোখ ফেরাব। অত্যন্ত আবেগাক্রান্ত একটা ম্যাচ ছিল আমার জন্য, বিশ্বকাপে খেলা আমার শৈশবের স্বপ্ন। তবে একবার যখন মাঠে নামার পর শতভাগ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে এবং নিজের সেরাটা ঢেলে দিতে হবে। আমরা জানি, আরও কিছু গোল করতে পারতাম এবং আগামী ম্যাচগুলোতে ভালো করার জন্য এটিকে আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।’


