বিজ্ঞানকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গতি বাড়িয়েছেন মেসি

ছবি: রয়টার্স
৩৯ বছর বয়সেও জাদু দেখিয়ে চলেছেন লিওনেল মেসি। এর পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া, দক্ষ পেশাদারদের পরামর্শ আর সাফল্যের জন্য তীব্র ক্ষুধা, যা কোনো সুপার মার্কেটে কিনতে পাওয়া যায় না। এটিই তার সাফল্যের আসল রহস্য।
মেসি শুধু একের পর রেকর্ড ভাঙছেন না, বরং এই বয়সের কোনো ফুটবলারের বেলায় জীববিজ্ঞানের নিয়মে যা যৌক্তিক, তাকেও বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন। মেসির পুষ্টিবিদ স্প্যানিশ বিশেষজ্ঞ ইসমায়েল গালানচো ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন, কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও এবার বেশি গতিতে খেলছেন তিনি! অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টো।
গালানচো লিখেছেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটবলারের গতি কমতে থাকে। সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে প্রতি বছর ১ থেকে ২ শতাংশ গতি কমে যায়। ৩৫ বছরের পর থেকে প্রতি বছর তা কমে ১.৫ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত। মেসির বেলায় তা হয়নি। উল্টো চার বছর আগের চেয়ে গতি বেড়েছে তার।’
গতি বাড়ার পরিসংখ্যানটাও তুলে ধরেছেন গালানচো, ‘২০০৯ থেকে ২০১৫ সালে মেসির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৩২.৫ থেকে ৩৩.৫ কিলোমিটার। কাতার বিশ্বকাপে তিনি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯.৩৮ কিলোমিটার গতিতে ছুটেছিলেন। এই বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সে তার সর্বোচ্চ গতি ২৮.৩ থেকে ২৯.০৯ কিলোমিটার হওয়ার কথা। কিন্তু সোফাস্কোরের তথ্য অনুযায়ী মেসির গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০.৯ কিলোমিটার ছিল, যা ২০২২ সালের চেয়ে ৫ শতাংশ বেশি! এটি বিজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখানো।’
মেসি অবশ্য তার বিখ্যাত ‘হাঁটা’ ছাড়েননি এই বিশ্বকাপেও। এবার পাঁচ ম্যাচে মেসি দৌড়েছেন ৩৫ হাজার ৮৬৮ মিটার। এর ৬৪ শতাংশ, বা ২২ হাজার ৯৫৮ মিটার, তিনি কাটিয়েছেন ‘জোন ওয়ান’-এ, যেখানে গতি থাকে ঘণ্টায় ০ থেকে ৭ কিলোমিটার। এটাই হাঁটা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ কেপ ভার্দের বিপক্ষে একটা পরীক্ষা চালিয়েছিল মেসির ওপর। বিরতির পর ১৫ মিনিটের এক স্পেলে তারা স্টপওয়াচ ধরেছিল। সেই ১৫ মিনিটে মেসি মাত্র ৫১ সেকেন্ড দৌড়েছিলেন! এটা পুরোপুরি বৈজ্ঞানিক না হলেও বোঝায় মেসি সেভাবে দৌড়ানটা। তবে যখন গতি বাড়ানোর দরকার তখন ঠিকই করেন সেটা। আর গতি বাড়িয়েই শেষ দিকে মিসরের সঙ্গে করেছিলেন একটি গোল ও অ্যাসিস্ট। আর্জেন্টিনাও পেয়েছিল অবিশ্বাস্য জয়।




