সেরা গোলের লড়াই
মেসি-হলান্ডের সঙ্গে কাবরালও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শনিবার সকাল পর্যন্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে গড়িয়েছে ৯৮টি ম্যাচ আর বাকি মাত্র ৬ ম্যাচ। পাঠক যখন লেখাটা পড়ছেন তখন শেষ দুটো কোয়ার্টার ফাইনালও হয়ে গেছে। বাকি শুধু দুটো সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ আর ফাইনাল। ৯৮ ম্যাচে হয়েছে ২৮৫টা গোল, ম্যাচ প্রতি গড় গোল সংখ্যা ২.৯১। বিশ্বকাপের এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড এই বিশ্বকাপে হয়ে গেছে ৫৯তম ম্যাচেই, অবশ্য সেটা হবারই কথা। ৪৮ দলের বিশ্বকাপও তো আগে কখনো হয়নি। ২৮৫টা গোল হয়েছে এখন পর্যন্ত, যেগুলো করেছেন ১৪৮ জন ফুটবলার মিলে। এর ভেতর ১৪টা পেনাল্টি থেকে। দৃষ্টিনন্দন গোলের তালিকা থেকে এই ১৪টি গোলকে বাদ দিলে যে ২৭১টা গোল থাকে, তার থেকে আরও ১৩টাকে বাদ দেয়া যায় কারণ সেগুলো আত্মঘাতী। বাকি ২৫৮টা গোল থেকে ফিফা’র ওয়েবসাইটে বাছাই করা কিছু গোল প্রকাশ করা হয়েছে, খেলার প্রতিটা পর্বের শেষে হয়েছে ভোট। সেই ভোটে গ্রুপ পর্বের সেরা গোল উজবেকিস্তানের এলদর শমুরোদভের কঙ্গোর বিপক্ষে করা গোলটি। শেষ ৩২ এর রাউন্ডের সেরা গোল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে কেপ ভার্দের সিডনি লোপেস কারভালের করা গোল। শেষ ১৬’র রাউন্ডের সেরা গোল ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্লিং হলান্ডের দূর থেকে নেয়া শটে করা গোলটি। কোয়ার্টার ফাইনালের সেরা গোলের তালিকা ক্রমশ প্রকাশ্য।
ফিফার ওয়েবসাইটে গ্রুপ পর্বের সেরা গোলগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান পায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিওভান্নি রেভনা, ব্রাজিলের বিপক্ষে মরোক্কোর ইসমাঈল সাইবারি,একই ম্যাচে মরোক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র,কুরাসাও এর বিপক্ষে জার্মানির ফেলিক্স এনমেচা,ইরানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের এলিজাহ জাস্ট,সেনেগালের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে রদ্রিগো দি পলের পাস থেকে লিওনেল মেসির গোল, ৩৫ গজ দূর থেকে ফ্রি কিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে গোল করা কেপ ভার্দের কেভিন পিনা, মরোক্কোর বিপক্ষে দূরপাল্লার শটে গোল করা হাইতির উইলসন ইসিডোর, কাতারের বিপক্ষে গোল করা বসনিয়ার ১৮ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা কেরিম আলাইবেগোভিচ, সুইডেনের বিপক্ষে গোল করা জাপানের দাইজেন মায়েদা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর বিপক্ষে লবে পাওয়া চলতি বলে ভলি করে জালে পাঠানো শমুরোদভের গোলটা। ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের ভোটে, গ্রুপ পর্বের সেরা গোল নির্বাচিত হয় শমুরোদভের গোল। মোট ভোটারদের ৩৬ শতাংশের ভোট পেয়েছেন শমুরোদভ। । শেষ ৩২ পর্বে ১৬ ম্যাচে হয়েছে ৪২ গোল। এর ভেতর সেরার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে ৮টি গোল। ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের কাইসু সানোর গোল, সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পের প্রথম গোলটা, নরওয়ের আন্তনিও নুসার আইভরি কোস্টের বিপক্ষে করা গোলটা, ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেক্সিকোর জুলিয়ান কিনোনেসের গোল, কঙ্গোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে জেতানো হ্যারি কেইনের সেই নো লুক গোল আর বেলজিয়ামের বিপক্ষে দৌড়ে গিয়ে বুক দিয়ে বল রিসিভ করে নামিয়ে ভলি করা ইসমাইলিয়া সারের গোল আছে তালিকায়। আছে কেপ ভার্দের বিপক্ষে লম্বা পাসটা বাম পায়ে আলতো করে রিসিভ করে জালে পাঠিয়ে দেয়া মেসির গোলটাও। তবে সেরা গোল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে একই ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বক্সের বাইরে বামপ্রান্ত থেকে বাঁকানো শটে করা সিডনি লোপেস কাবরালের গোলটা। ভোটারদের ৮৮.৭%ই ভোট দিয়েছেন কাবরালকে, মেসি দ্বিতীয় স্থানে আছেন ৪.১ % ভোট পেয়ে আর তিনে থাকা কাইসু সানে পেয়েছেন ১.৯% ভোট।
শেষ ১৬’র ৮ ম্যাচে হয়েছে ২৩ গোল। এই ২৩ গোল থেকে বেছে নেয়া ৬টি গোল স্থান পেয়েছে সংক্ষিপ্ত তালিকায়। কানাডার বিপক্ষে ফ্রি কিকে করা মরোক্কোর আজদিন ওনাহির গোল,মেক্সিকোর বিপক্ষে জুড বেলিংহামের ডাইভিং হেড, বদলী নামা মিকের মেরিনোর চতুর দৌড়ে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোল,মিশরের বিপক্ষে মেসির বাম পায়ের ভলি আর একই ম্যাচে এনজো ফার্নান্দেসের গোল জায়গা পেয়েছে এই তালিকায়। তবে সেরা গোল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে হলান্ডের হাতুড়ি সুলভ গোল! ব্রাজিলের বিপক্ষে বক্সের বাইরে থেকে যে জোরালো শটে গোল দিয়েছেন হলান্ড, সেটা বলে কিক নয় বরং হাতুড়ির আঘাতের মতই ছিল তীব্র। সেই হাতুড়ির আঘাতেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্নের কফিনে পড়েছে শেষ পেরেক। হলান্ড পেয়েছেন ৩৪% ভোট, মেসি পেয়েছেন ২৫% ভোট।




