বলছেন সেবাস্তিয়ান ভেরন
ফুটবলের প্রতিটা ম্যাচই নতুন গল্প

সংগৃহীত ছবি
মেসির পারফরম্যান্স আমাকে অবাক করে না, কারণ সে তার শেষ ম্যাচ পর্যন্ত লড়াই করে যাবে। এটি তার রক্তেই আছে। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন সে ফুরিয়ে গেছে, কিন্তু সে আপনাকে ভুল প্রমাণ করবে।
বিশ্বকাপের আগে আমি বলেছিলাম, আমাদের উচিত তার খেলার সময়টা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আগলে রাখা। কিন্তু না, ব্যাপারটা সম্পূর্ণ উল্টো। যতদিন মেসি দলে আছে, ততদিন আশা থাকবে। তার পেছনে একটি শক্তিশালী সাপোর্ট সিস্টেম আছে। তবে লিও যখন মাঠে খেলে, তখন প্রতিপক্ষের কাছে মানসিকতাটাই বদলে যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে হলে ৩৯ বছরের এই মেসির সেরাটাই দরকার আর্জেন্টিনার।
বিশ্বকাপের জন্য আর্জেন্টিনা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। আমি বলছি না যে এটি সহজ হতে যাচ্ছে বা এই ধরনের কিছু। এটা এমন নয় যে আমরা বলতে পারি, ব্যাস, ‘আমরা তো জিতেই গেছি।’ প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি ধাপ এক একটি নতুন গল্প। তবে দলটিকে ভালো দেখাচ্ছে; আমি কাজের একটি ধারাবাহিকতা এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতি লক্ষ করছি, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর কিছু খেলোয়াড়কে আমার বেশ পছন্দ, যেমন এনসো ফের্নান্দেস, অালেক্সিস ম্যাক অালিস্টার।
প্রশ্ন হচ্ছে, স্কালোনির এই দলে কি আমি খেলতে পারতাম? জানি না; সম্ভবত হ্যাঁ। তবে সত্যি বলতে, আমি যে ফুটবল খেলেছি, তা আজকের ফুটবলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। তখন নিয়মের এত কড়াকড়ি ছিল না এবং স্বাধীনতা বেশি ছিল। সত্যি বলতে, আজকের ফুটবলে আমি নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নিতাম, সেটি জানি না। সেখানে নিজেকে কল্পনা করা আমার জন্য কঠিন।
তখন প্রযুক্তি ছিল না। আর প্রযুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করার কোনো মানে হয় না। কারণ, দীর্ঘমেয়াদে এটিই একসময় নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়। কিছু খেলা আছে, যা বিরতি ও থমকে যাওয়ার জন্যই তৈরি। কারণ, সেগুলো বিচ্ছিন্ন কিছু খেলার ওপর নির্ভর করে, যেমন আমেরিকান ফুটবল। বাস্কেটবল এর মাঝামাঝি কিছু। কিন্তু ফুটবল হলো গতিশীল, আর যখন আপনি ভিএআর বা ওয়াটার ব্রেক দিয়ে এটিকে বারবার থামিয়ে দেন, তখন সেই গতি হারিয়ে যায়।
আমাদের আর্জেন্টিনার কোচরা এবার বিশ্বকাপে ভালো করেছে। তবে মার্সেলো বিয়েলসার অধীনে খেলা উরুগুয়ের দ্রুত বিদায়ে আমি হতাশ হয়েছি। উরুগুয়ে খুব ভালো দল, যারা সারা বিশ্বে খেলোয়াড় রপ্তানি করে। তবে ভেতরের প্রক্রিয়াটি কেমন ছিল, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা নেই, আর না জেনে মন্তব্য করা আমার জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীনতা হবে। আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি যে, মার্সেলো একজন সৎ মানুষ, যিনি সবসময় স্পষ্ট কথা বলেন। আর একজন ফুটবলারের কাছে এর মূল্য অনেক। তিনি সবসময় একইভাবে কাজ করে গেছেন, তাই বিশ্লেষণটা আগেই করা দরকার ছিল এবং আমি মার্সেলোকে বাদ দিয়েই এ কথাটি বলছি। তিনি যেভাবে কাজ করেন, তা জানার পর আমি তাকে দোষ দেব না।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলা চার দলই শিরোপার দাবিদার। তবে ফুটবলে কারও কাছেই সব উত্তর থাকে না এবং প্রতিটি ম্যাচই একটি নতুন গল্প।




