আর্জেন্টিনা আগে শেষে গোল খেত এখন দেয়

ছবি: রয়টার্স
শেষ বেলায় হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার! বছরের পর বছর, একের পর এক বিশ্বকাপে এটাই ছিল আর্জেন্টিনার নিয়তি। লিওনেল স্কালোনি আর লিওনেল মেসির জাদুতে শেষের কান্নার বদলে এখন শেষ বেলায় হৃদয় জিতছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এবারের বিশ্বকাপেই তারা পিছিয়ে পড়ে শেষের নাটকে হারিয়েছে মিসর আর ইংল্যান্ডকে।
শুরুটা ১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকেই করা যাক। ১৯৮৬-তে শিরোপা জয়ের পর ’৯০ বিশ্বকাপেও ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে ৮৫ মিনিটে আন্দ্রেস ব্রেহামের পেনাল্টিতে ১-০ গোলে হেরে যায় তারা। রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ পর্যন্ত নেমে গিয়েছিলেন রাস্তায়।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে প্রথম দুই ম্যাচ জেতার পর বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ৬১ ও ইনজুরি টাইমের গোলে ২-০’তে হারে তারা। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পর বিশ্বকাপটাই আসলে এলোমেলো হয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনার। শেষ ষোলোতে রোমানিয়ার কাছে ৩-২ গোলে হেরে বাদ পড়ে তারা।
১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দাপটে পৌঁছেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয়ের পর শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডকে হারায় টাইব্রেকারে। কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা ছিল ৮৯ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু ৯০ মিনিটে ডেনিশ বার্গক্যাম্পের গোলে হৃদয়ভাঙে তাদের।
২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও জার্মানির কাছে হারতে হয় শেষ বেলার গোলে ৪৯ মিনিটে রবার্তো আয়ালার গোলে লিড নিয়েছিল আর্জেন্টিনা। মিরোস্লাভ ক্লোসা সমতা ফেরান ৮০ মিনিটে। এরপর টাইব্রেকারে ৪-২’এ হারে আর্জেন্টিনা।
২০১৪ সালের ফাইনালে আরও একবার শেষের গোলে বেদনায় নীল হতে হয় আর্জেন্টিনাকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য ড্র’র পর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সবাই যখন টাইব্রেকারের ক্ষণ গুণছিল তখনই ১১৩তম মিনিটে মারিও গোৎসের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
সেই আর্জেন্টিনা এবার অতিরিক্ত সময়ের গোলে শেষ ৩২-এ হারায় কেপ ভার্দেকে। ১১১তম মিনিটে রোমেরোর হেড দিনিয়ের শরীরে লেগে জড়ায় জালে। শেষ ষোলোতে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত তারা ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল মিসরের বিপক্ষে। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বকাপে জেতারই রেকর্ড ছিল না আর্জেন্টিনার। সেই ইতিহাস বদলে লিওনেল মেসি জাদুতে তারা জিতে ৩-২ গোলে।
সেমিফাইনালেও ফিরে আসার আরেক মহাকাব্য। এবার ৫৫ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে ৮৫ ও ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটের গোলে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে পৌঁছাল তারা।




