এবারও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে জার্মানিকে

চারবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি এবার ভীষণ শক্ত গ্রুপে পড়েছে। তাদের প্রথম ম্যাচ নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে। অনেকে ভাবছেন এই ম্যাচটা সহজ হবে। তবে অন্য দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর ও আইভরি কোস্ট বলেই জার্মানিকে সতর্ক থাকতে হবে। আইভরি কোস্ট ব্যালান্সড দল। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মূল পর্ব শুরুর আগে প্রীতি ম্যাচে তারা ফ্রান্সকে হারিয়েছিল। ইকুয়েডরও লাতিন আমেরিকান জোন থেকে বাছাই উতরে এসেছে এবং বিশ্বকাপে সবসময় তারা চমকজাগানিয়া দল। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া জার্মানির জন্য তাই কুরাসাও বড় প্রতিপক্ষই। নবাগত দলটিকে হালকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা চাইবে ৩ পয়েন্ট নিয়ে বের হতে। পরের দুটি ম্যাচই তাদের জন্য অনেক সমীকরণ মেলানোর ম্যাচ হবে। এবার যেহেতু ১২ গ্রুপ থেকে ২৪ দল সরাসরি যাবে চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ হয়ে এবং সেরা আট তৃতীয় স্থানের দল যাবে। আমি মনে করি যে জার্মানির মতো দল চাইবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে। যাতে নকআউট পর্বের শুরুতে মোটামুটি সহজ প্রতিপক্ষ পায়। যদিও এই কাজটা তাদের জন্য অনেক কঠিন হবে গ্রুপ পর্যায়ে। তারপরও জার্মানির স্কোয়াডের যে গভীরতা দেখেছি, এই দলটির সে সক্ষমতা রয়েছে।
গোলকিপিং পজিশনে জার্মানি অভিজ্ঞ মানুয়েল নয়ারে আস্থা রাখবে। ব্যাকলাইনে আন্টোনিও রুডিগারের সঙ্গে শ্লোটারবেক কিংবা ইয়োনাথান, রাউম, ইয়োশুয়া কিমিচ থাকতে পারেন; যিনি রাইটব্যাক পজিশনেও খেলেন। লেয়োন গোরেৎস্কা, আলেক্সান্দার পাভলোভিচ ও ফ্লেরিয়ান ভির্টস থাকবেন ব্যাক ফোরের ওপরে। ফ্রন্ট লাইনে লেরয় সানে, কাই হাভার্টজ ও জামাল মুসিয়ালা। আমি মনে করি, জার্মানি একটা ব্যালান্সড দল এবং প্রথম ম্যাচেই বোঝা যাবে তাদের প্লেয়ারস কম্পোজিশনগুলো কেমন হবে এবং ডেফিনেটলি জার্মানিও এই ওয়ার্ল্ড কাপের একটা স্ট্রং কন্টেন্ডার। তাদেরও একচুয়ালি ভালো করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
একই দিনে শিরোপার আরেক দাবিদার মাঠে নামছে। নেদারল্যান্ডসকে শুরুতেই মুখোমুখি হতে হচ্ছে জাপানের। আমার ধারণা, এটা খুব কঠিন একটা ম্যাচ হবে।
জাপান সুশৃঙ্ক্ষল একটা দল, ট্যাকটিক্যালি অনেক শার্প। অনেকটা দক্ষিণ কোরিয়ার মতোই তারা। কোরিয়া এরই মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়েছে। বিগত বিশ্বকাপগুলোতে চোখ রাখলে দেখা যায়, জাপান সবসময় গ্রুপ পর্ব থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মতো দল। তাদের রাউন্ড অব সিক্সটিন, এমনকি তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই ডাচদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েই হাজির হবে জাপান। আমার বিশ্বাস এ গ্রুপ থেকে নেদারল্যান্ডস ও জাপান যাবে পরের ধাপে। কারণ গ্রুপের অন্য দুটি দল সুইডেন এবং তিউনিশিয়া।
নেদারল্যান্ডসের ব্যাকলাইনে আছেন ভার্জিল ফন ডাইক, নাথান আকে, ডামফ্রিস,
ফন দে ফেন। মিডফিল্ডে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, রাইন্ডার্স,
মার্তিন দে রুন, কুইন্টেন
টিম্বার অ্যান্ড জাস্টিন ক্লুইভার্ট এবং ফরোয়ার্ড লাইনে মেমফিস ডিপাই, কোডি গাকপো, ডোনিয়েল মালেন, ভেগহর্স্ট,
নোয়া লাং।
তিন পজিশনের সঙ্গে বোঝাপড়াই তাদের এগিয়ে রাখবে।


