ডাচদের ভোগাচ্ছে মিডফিল্ড

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জার্মানি প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়েছে। যে ম্যাচটি তাদের জন্য অনেক সহজ ছিল। সে ম্যাচে জার্মানি খেলেছে তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে। জশুয়া কিমিচ ও নয়ার ছাড়া বাকি সবাই তরুণ। সে ম্যাচে জার্মানির বেশ কয়েকজন গোল পেয়েছে, যা তাদের জন্য ইতিবাচক। আজ তাদের প্রতিপক্ষ আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডরকে যারা শেষ মুহূর্তের গোলে হারিয়েছিল। জয় পাওয়ায় তারাও আছে সুবিধাজনক স্থানে।
জার্মানি-আইভরি কোস্ট খুব হাইভোল্টেজ ম্যাচ হবে। এটা অনেকটা ফিজিক্যাল ম্যাচও হবে। দুটি দলই চাইবে এই ম্যাচ জিতেই রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করতে। অনেক ট্যাকটিক্যাল ম্যাচ হবে, জার্মানি কোনো অবস্থাতেই ম্যাচটি হারতে চাইবে না। জিতলে তো কথা নেই, ড্র করলেও তাদের গ্রুপসেরা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আইভরি কোস্ট অন্যদিকে চাইবে পয়েন্ট পেতে। তারা শেষ ম্যাচে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে খেলবে। সে ম্যাচে তারাই হয়তো জিতবে।
সুতরাং এই গ্রুপ থেকে জার্মানি ও আইভরি কোস্টের সম্ভাবনাই বেশি। দুদলের গভীরতা দেখলে আমার কাছে ম্যাচটি হবে সমানে সমান। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে খুব সহজেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল জার্মানি। যে কারণে ফরোয়ার্ডরা অনেক বেশি বল পেয়েছেন এবং গোলও করেছেন অনায়াসে। আইভরি কোস্টের সঙ্গে এতটা সহজ হবে না। আইভরি কোস্ট ইকুয়েডরের সঙ্গে ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলেছিল এবং তাদের মিডফিল্ডে ফোফানা কিংবা কেসিয়ে এবং রাইট ওয়াইড মিডফিল্ডে পেপে এবং ডায়মন্ডে লেফট সাইডে। তাই মিডফিল্ড নিয়ে দুদলের লড়াইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানিকে জয়ের ধারা ধরে রাখতে হলে এখানে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ট্যাকটিক্যালি তাদের খেলতে হবে।
নেদারল্যান্ডসও একই দিনে মাঠে নামছে। তারা জাপানের সঙ্গে এগিয়ে থেকেও ড্র করেছিল। তাদের এবার খেলতে হবে আরেকটি টিপিক্যাল স্ক্যান্ডিনাভিয়ান দেশ সুইডেনের সঙ্গে। সুইডেন তাদের প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ব্যাক ফোর এবং মিডফিল্ডের বোঝাপড়াটা ঠিকঠাক করা।
নেদারল্যান্ডসের ১ পয়েন্ট, সুইডেনের ৩। তাই সুইডিশরা চাইবে যেকোনোভাবে হার এড়াতে। ড্র করে ম্যাচ শেষ করতে পারলে তাদের ভালো সম্ভাবনা থাকবে। নেদারল্যান্ডসের জন্য এ ম্যাচ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা সবসময় একটা ফেভারিট তকমা নিয়ে খেলে। যদিও যে কারণেই হোক, তাদের কখনোই শিরোপা জেতা হয়নি। খুব বেশি দূর যেতে পারেনি। তারা এ ম্যাচে চাইবে জয়ের খাতা খুলতে। এটা নিশ্চিত, খুব রোমাঞ্চকর একটি লড়াই হবে।
নেদারল্যান্ডস খুব করে চাইবে ম্যাচটা জিততে। তাতে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত হবে। সুইডেনের গাইকরেস, আইজ্যাক এবং নাইগ্রেন্ট। তাদের সঙ্গে মিডফিল্ডে বার্নহার্ড এবং গুডমান্ড ও সেন্ট্রাল মিডফিল্ড পজিশনে কার্লস্ট্রম এবং আইয়ারি। তাদের সঙ্গেই মূল লড়াইটা হবে রেইন্ডার্স, ডি ইয়ং এবং গ্রাভেনবার্চের। আমি এই রোমাঞ্চকর দ্বৈরথটা দেখার অপেক্ষা করছি। প্রতিটি দলই একটা লক্ষ্য নিয়ে খেলে। ডাচরাও নিশ্চিত জয়ের লক্ষ্য থাকবে। অন্যদিকে সুইডেন চাইবে না হারতে। সব মিলিয়ে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে ইউরোপের দুদল তাদের কোচদের পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন করতে চাইবে।
নেদারল্যান্ডস-সুইডেন এবং জার্মানি-আইভরি কোস্ট— এই দুটি ম্যাচই খুব গুরুত্বপূর্ণ তাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ পারসপেক্টিভ থেকে।




