১৩ মিনিটে লেখা ফিরে আসার গল্প

লিওনেল মেসি
মেসি কাঁদছেন! লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠও বাষ্পরুদ্ধ! মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া দলটি যখন বিদায়ের প্রহর গুনছিল, সেই দল লিখেছে এক অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প। শেষ বাঁশি বাজতেই বিজয়ের উল্লাসের ভাষা হয়েছিল তাদের আনন্দ অশ্রু। সেই অশ্রুতে আছে স্বস্তি, বিশ্বাস আর লড়াই করে ফিরে আসার গৌরব।
শুরুটা ছিল ট্র্যাজেডির। জাদুকরের পায়ে পেনাল্টি মিসের মুহূর্ত যেন স্তব্ধ করে দিয়েছিল কোটি হৃদয়ের স্পন্দন। ভাগ্য বুঝি আজ অন্য গল্প লিখতে বসেছে। কিন্তু কিংবদন্তির গল্প কি এত সহজে অনুমান করা যায়। তার হাতেই থাকে সব ‘টুইস্ট অ্যান্ড টার্ন’!
৭৮ মিনিট পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, আর্জেন্টিনা ছিটকে গেছে ম্যাচ থেকে। পরের মিনিটে লিওনেল মেসিই নতুন প্রাণ সঞ্চার করেন। তার বাড়ানো ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো গোলের সূচনা করেন হেডে। এরপর নিজের বাম পায়ের ভলিতে সমতার গোল করে বাঁচিয়ে তোলেন আর্জেন্টিনাকে। ৯২ মিনিটে এনসো ফের্নান্দেসের হেডে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প পূর্ণতা পায়।
এ জয়ের পর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারছেন না, ‘আমি চোখ তুলে তাকাতেও পারছি না। ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। কী এক অসাধারণ খেলোয়াড়দের দল এটা! আমাকে ক্ষমা করুন।’ আবেগে ভেসে যাওয়া কোচ আর কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। বিস্ময়কর এক কামব্যাক। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের সেই রোমাঞ্চকর অভিযানেরই যেন পুনঃচিত্রায়ণ— যে যাত্রাপথের প্রতিটি অধ্যায় ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। আর্জেন্টিনা কখনো সহজ পথে হাঁটে না। যখনই মনে হচ্ছে সব শেষ, সেখান থেকেই তাদের পুনর্জাগরণ। যেন আরেকটি সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্লাসিক ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে ফুটবলবিশ্ব।
মিসরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা মাত্র ১৩ মিনিটেই ঘুরিয়ে দিয়েছে ম্যাচের মুখ। আর্জেন্টিনার এক সময়ের সেন্টারব্যাক রবার্তো আয়ালা আছেন দলের সঙ্গে। তিনিও আবেগাপ্লুত, ‘এই ছেলেদের ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে, যারা কখনো ক্লান্ত হয় না, যারা সবসময় লড়াই করে। এ ধরনের অভাবনীয় কিছু করে দেখানোর সামর্থ্য সবসময় আমাদের আছে।’
পিছিয়ে পড়ে একসময় আর্জেন্টিনার ডাগআউটও যেন হারের ক্ষণ গুনছিল। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া দলের পক্ষে ফেরাটা সত্যি কঠিন। সেই অবিশ্বাস্য ফেরা দেখে খেলোয়াড়ের বীরত্বের কথা শোনা গেছে আয়ালার মুখে, ‘আমরা ভেঙে পড়েছিলাম। কিন্তু তারা যেন নিজেদের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিল— যদি বিদায় নিতেই হয় মাথা উঁচু করেই নেব। অবিশ্বাস্য দলটির কাছ থেকে অবিশ্বাস্য পাওয়া।’
স্কালোনির হাতে গড়া দলে এত রহস্য লুকিয়ে আছে! আট বছর ধরে এ খেলোয়াড়দের ওপর তিনি আস্থা রেখেছেন আর তারা একের পর এক অবিশ্বাস্য জয় ও শিরোপা উপহার দিচ্ছে। তাদের মাঠের নেতা জাদুকর লিওনেল মেসি। যার পায়েই নির্ধারিত হয় পক্ষ-বিপক্ষের ভাগ্য। এবার হয়েছে অবিশ্বাস্য ক্লাসিকের জন্ম, যার প্রতিটি পঙ্ক্তি লেখা হয়েছে জাদুকরের পায়ের ছোঁয়ায়।




