বলছেন রোমারিও
ব্রাজিলকে ১০-এ ৮ দেব

রোমারিও
কী এক উত্তেজনা আর স্নায়ুচাপের ম্যাচই না গেল! প্রথমার্ধে আমরা খুব একটা ভালো খেলিনি। বলের দখল বেশি থাকার পরও প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি চেপে ধরতে পারেনি ব্রাজিল। আধিপত্য থাকলেও কার্যকারিতা ছিল না। অন্যদিকে জাপান দারুণ রক্ষণভাগ সামলে আক্রমণ প্রতি-আক্রমণ চালাচ্ছিল। বিরতির সময় কোচ আনচেলত্তি প্রমাণ করে দিলেন যে, দলের ওপর সত্যিই তার দারুণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। পাকেতা ইনজুরিতে পড়ায় মিডফিল্ড দুর্বল হয়ে যাওয়ার একটা শঙ্কা ছিল। কিন্তু তরুণ এনদ্রিক, প্রত্যাশামতোই আক্রমণে গতি বাড়িয়ে দিল। তারপরই আমরা ওদের ওপর চড়াও হলাম। আমাদের খেলার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলো এবং আমরা একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সচেতনতা নিয়ে জাপানিদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলাম।
আমরা জাপানি খেলোয়াড়দের কম উচ্চতার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শূন্যে ভাসানো বল দিয়ে দারুণভাবে ফায়দা লুটেছি।
ম্যাচের আসল দিকটি হলো, কোনো ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ছিল না, বরং তা ছিল পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
জাপানের কঠিন প্রতিরোধ বিবেচনা করে সব মিলিয়ে আমাদের এই পারফরম্যান্সকে ১০-এর মধ্যে ৮ দেব। আমি আগেই বলেছি, আমাদের দলটির দিন দিন উন্নতি হচ্ছে আর বিশ্বকাপে এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আশা করছি, পাকেতা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে আর আমরা আবার একই দল নিয়ে মাঠে নামতে পারি। এটি শুধু দলের বোঝাপড়ার জন্যই নয়, বরং শুরুর এই কম্বিনেশনটাকে আরও শক্তিশালী করার জন্যও অত্যন্ত জরুরি, যা ধীরে ধীরে আরও ধারাবাহিক হচ্ছে। দলের খেলার একটি নির্দিষ্ট শৈলীও তৈরি করছে। সত্যি বলতে, বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোনো সহজ রাস্তা নেই! জাপানের বিপক্ষে ম্যাচটি আবারও দেখিয়ে দিল, নকআউটে জেদ এবং লড়াইয়ের মানসিকতাই আসল।




