জার্মান ঝড়ের সামনে আইভরি কোস্ট

সংগৃহীত ছবি
টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়। ছয় ম্যাচে গোল মাত্র ৭টি। নিজেদের হারিয়ে খুঁজতে থাকা জার্মানি এই বিশ্বকাপে ফিরল প্রবল প্রতাপের সঙ্গে। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানরা জানান দিয়েছে, এবার শিরোপা জিততেই যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছেন তারা। আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জার্মানদের সামনে আফ্রিকার সিংহ আইভরি কোস্ট।
কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে কিছুটা চমকে গিয়েছিল জার্মানি। এগিয়ে গেলেও ম্যাচে সমতা ফেরায় নবাগত কুরাসাও। এরপরই শুরু জার্মান ঝড়ের। গুনে গুনে প্রতিপক্ষের জালে তারা দেয় ৭টি গোল। সেই ম্যাচ যেন মনে করিয়ে দিয়েছে ২০১৪ সালের ব্রাজিল-জার্মানি সেমিকে।
জার্মানির মতো দাপটের সঙ্গে না হলেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে এক যুগ পর বিশ্বকাপে ফেরা আইভরি কোস্টও। ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর দলটি।
ম্যাচের সবচেয়ে বড় লড়াই হবে মাঝমাঠে। জার্মানির দুর্দান্ত পাসিং ও পজিশন ফুটবলের বিপরীতে থাকছে আইভরি কোস্টের দ্রুত বল ছিনিয়ে নেওয়ার কৌশল ও পাল্টা আক্রমণ। আগের ম্যাচে বেশিরভাগ সময় জার্মান ডিফেন্স ও কিপার তেমন পরীক্ষা দেননি। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বেশ ভালো পরীক্ষা অপেক্ষা করছে তাদের সামনে।
পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকা জার্মান কিপার মানুয়েল নয়ার ম্যাচের আগেই দিলেন বিশেষ ঘোষণা। অবসর থেকে ফেরা এই তারকা কিপার জানিয়ে দিয়েছেন, এ আসর শেষে বিদায় বলবেন জাতীয় দলকে, ‘এটা একদম পরিষ্কার যে, এটাই আমার শেষ টুর্নামেন্ট। আগামী দুই বছর পর ইউরোতে খেলার কোনো পরিকল্পনা আমার নেই। গত কয়েক দিন ধরে আমি নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছি যে, এগুলোই জার্মানির হয়ে আমার শেষ ম্যাচ। তবে আমি বিদায়ী সংবর্ধনা বা বিদায়ী জার্সি নিয়ে ভাবছি না, আমি প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করতে চাই।’
টানা ১০ ম্যাচ জেতা জার্মান দল জয়রথ আরও এগিয়ে নেবে, বিশ্বাস দলের অধিনায়ক কিমিচের, ‘ওই জয়ের পর দলের পরিবেশটা দারুণ অবস্থায় আছে। আমাদের সবার লক্ষ্যটা এক। এ মুহূর্তে সবকিছু দারুণভাবে এগোচ্ছে। সামনের ম্যাচগুলোয়ও ভালো ফলের আশা করছি।’
জার্মানির অনুশীলন মাঠে হানা দিয়েছিল বিষধর সাপ। দ্রুত অনুশীলন থামিয়ে সেখান থেকে সরে আসে জার্মানি দল। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় বিষধর সাপটিকে।
কিমিখ অবশ্য রসিকতাই করেছেন ঘটনা নিয়ে, ‘জার্মানিতে আমরা ম্যাচের আগে নিজেদের শানিয়ে নিই, চোট-আঘাত আর পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে চিন্তাভাবনা করি। এখানে এসে তো ঘাসের ভেতর কী আছে, সেটা নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। গতকাল আমরা একটা সাপ দেখতে পেয়েছি। পরে জানতে পারলাম, এই সাপ নাকি বিষধর। কামড়ালে আমাদের হাসপাতালেও যেতে হতে পারত। সত্যি বলতে, জার্মানিতে আমাদের এত ভয়ংকর জীবজন্তুর মুখোমুখি হতে হয় না।’
জার্মানি ও আইভরি কোস্টের দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ২০০৯ সালের সেই প্রীতি ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ২-২ গোলে। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাই এই প্রথমবার লড়বে দুই দেশ।
ম্যাচে জার্মানি স্বাভাবিকভাবেই বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকবে। তবে আইভরি কোস্ট প্রতিপক্ষের প্রতিটি ভুলকে কাউন্টার অ্যাটাকে রূপান্তর করতে পারে। জার্মানি যদি শুরুতেই গোল পেয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আইভরি কোস্ট কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, সেটিই দেখার বিষয়।
‘ই’ গ্রুপের লড়াইয়ে আজ রাত ২টায় কানাডার টরন্টোতে মুখোমুখি জার্মানি-আইভরি কোস্ট।




