আকাশি-সাদায় মেতেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও

আমেরিকায়ও ছোট্ট একটা বাংলাদেশ আছে। দেশে যে আর্জেন্টিনার হাওয়া বইছে, সেটা একইভাবে এখানেও বহমান। মেসির হাতে তারা টানা দ্বিতীয় শিরোপা দেখতে চায়। তাদের সঙ্গে কথা বললে মনে হবে, বিশ্বকাপটা ৪৮ দলের নয়, শুধুই আর্জেন্টিনার।
বাংলাদেশিদের মধ্যে এমন বাড়াবাড়ি রকমের আর্জেন্টিনাপ্রীতি দারুণ এক গবেষণার বিষয়ও হতে পারে। যেমন ব্রুকলিন প্রবাসী সাহিল মির্জা মনে করেন, আকাশির সমর্থন তার রক্তে, ‘বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের রক্তে মিশে আছে আর্জেন্টিনার সমর্থন। নিউ ইয়র্কের কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যেও আমরা কাজ বাদ দিয়ে খেলা দেখছি, লিওনেল মেসির প্রতিটি ড্রিবলিংয়ে চিৎকার করছি। এবার স্কালোনির চাল আর মেসির ম্যাজিক আমাদের আবারও চ্যাম্পিয়ন করবে।’
মেসি প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে যেভাবে শুরু করেছেন তাতে সমর্থকরা এবারও শিরোপা জয়ে আশাবাদী। নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বিগত চার দশক ধরে থাকেন সালাউদ্দিন আহমেদ। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে এখন অবসরে আছেন। আঙিনার বিশ্বকাপ উপভোগে দারুণ সময় কেটে যাচ্ছে ষাটোর্ধ্ব ভদ্রলোকের। ম্যারাডোনাকে দেখে সেই যে আর্জেন্টিনার ভক্ত বনে গিয়েছিলেন, এখনো গলা ফাটান দলটির হয়ে, ‘নিউ ইয়র্কে আর্জেন্টিনার গ্রুপের কোনো ম্যাচ না পড়ায় শুরুর আগেই একটু হতাশ ছিলাম। ইচ্ছে ছিল কানসাস অথবা ডালাসে গিয়ে অন্তত একটা ম্যাচ দেখার। টিকিট পাইনি বলে যাওয়া হয়নি। তাই এখানকার ফ্যান জোনেই মেসিদের খেলা উপভোগ করছি। এখানের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আর্জেন্টিনা আর মেসিকে নিয়ে অনেক উন্মাদনা।’
উচ্চশিক্ষার জন্য দুই বছর আগে নিউ ইয়র্কে ঘাটি গেড়েছেন রুম্মান প্রণয়। পড়ালেখার পাশাপাশি ফুড ডেলিভারি করেন ২৪ বছরের এ তরুণ। এ ফাঁকেই প্রিয় দল আর্জেন্টিনার খেলা উপভোগ করছেন বন্ধুদের নিয়ে, ‘দেশে থাকলে নিশ্চিত এখন টিএসসিতেই খেলাগুলো দেখতাম। এখানে চলে আসায় হয়তো বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়াতে পারছি না। তবে একইরকম রোমাঞ্চ নিয়ে মেসিদের সমর্থন জানাচ্ছি।’
আর্জন্টিনার ম্যাচ মানেই ব্রুকলিন বা জ্যাকসন হাইটসের ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টগুলো হয়ে উঠছে মিনি বুয়েনেস এইরেস। গতকাল ম্যাচের আগে প্রবাসী রাসেল আহমেদের মন পড়েছিল টেক্সাসে, ‘এখানে কাজ করছি, কিন্তু আমার মনটা পড়ে আছে টেক্সাসে। আমার বিশ্বাস স্কালোনির কৌশলের কাছে পাত্তাই পাবে না অস্ট্রিয়া।’
এ উন্মাদনা প্রমাণ করে, বাংলাদেশি দেশে বা বিদেশে থাকলেও সমর্থনের জায়গা খুব বদলায়নি। মেসির দলের পেছনেই আছে তারা।




