বিশ্বকাপ
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ হাতছাড়া করছেন ইকুয়েডরের নারী

সংগৃহীত ছবি
প্রায় ৩০ বছর আগে একটি লটারি জিতে জীবন বদলে গিয়েছিল ইকুয়েডরের মারিয়া দেল হেসুস পিনারগোতে জাম্ব্রানোর। ৬৬ বছর বয়সী এই নারী ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে উপস্থিত ছিলেন। তবে এবার স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ইকুয়েডরেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
১৯৯৮ সালে কোকা-কোলার একটি প্রচারণায় অংশ নিয়ে এই অবিশ্বাস্য পুরস্কার জিতেছিলেন মানাবি প্রদেশের মারিয়া। প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে কোকা-কোলার বোতলের ক্যাপ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কেন্দ্রে জমা দিতে হতো, বিনিময়ে মিলত কুপন। সেই কুপনে হাতে লিখে ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করে সুপারমার্কেট ও স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রাখা ব্যালট বাক্সে ফেলতে হতো।
১৯৯৮ সালের ১৪ জুন ফোনে বিজয়ের খবর পান মারিয়া। তবে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি। সিএনএন এস্পানিওলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ফোন করে বলল আমি জিতেছি এবং বিশ্বকাপে যেতে পারব। বিশ্বাস হচ্ছিল না। স্বামীকে বারবার যাচাই করতে বললাম। তারপর সে বলল — 'হ্যাঁ, তুমিই জিতেছ। বাকি জীবন সব বিশ্বকাপ দেখবে।' সে আনন্দ ছিল অপরিসীম। আমরা সবাই অনেক উদযাপন করেছিলাম।’
পুরস্কার জেতার বছরই ফ্রান্স বিশ্বকাপে প্রথমবার মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেন মারিয়া। ২০০২ সালে জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে দেখেন নিজের দেশের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান এবং ব্রাজিলের পঞ্চম শিরোপা জয়। ২০০৬ সালে জার্মানিতে উপভোগ করেন ইকুয়েডরের সেরা অর্জন — রাউন্ড অব সিক্সটিনে উত্তরণ। এরপর ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, ২০১৪ সালে ব্রাজিল, ২০১৮ সালে রাশিয়া এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে কাতারেও ছিলেন তিনি।
শুধু বিশ্বকাপ দেখার সুযোগই নয়, এই পুরস্কার মারিয়ার জীবনে এনেছিল আরও অনেক প্রথম অভিজ্ঞতা — জীবনে প্রথমবার বিমানে চড়েছিলেন তিনি এই পুরস্কারের সুবাদে। সঙ্গী নিয়ে যাওয়ার সুযোগও ছিল। প্রথম দিকে পাশে থাকতেন স্বামী। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে কাজিন ও ভাবিসহ বিভিন্ন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের স্মৃতি গড়েছেন এই অদম্য নারী।




