বিশ্বকাপে চোখ ‘অভাগা’ কেইনের

তার মতো অভাগা এই ফুটবলবিশ্বে আর কে আছে? ইংল্যান্ড তাকে বারবার ফিরিয়েছে খালি হাতে। হ্যারি কেইন যেন রূপকথার সেই দুঃখী রাজপুত্র। বিশ্বকাপে ইংলিশদের ছয় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে আবারও কেইনের নেতৃত্বে মাঠে নামছে দল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে কেইনই হয়ে উঠবেন জয়ের নায়ক?
ইংল্যান্ডের হয়ে আজও শূন্য কেইনের ট্রফির শোকেস। ২০১৮ সালে শুরু বিশ্বকাপ যাত্রা, বয়স তখন মাত্র ২৪। অভিষেকের মাত্র তিন বছরের মাথায় সিনিয়র ফুটবলারদের পেছনে ফেলে দলের অধিনায়ক হয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে পা রাখেন তিনি। গ্রুপ পর্বে পানামার বিপক্ষে করেন হ্যাটট্রিক।
ছয় গোল করে জেতেন সেই আসরের গোল্ডেন বুটও। সেবার তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড পৌঁছে যায় সেমিফাইনালে। ১৯৯০ সালের পর যা ছিল দেশটির সেরা সাফল্য। স্বপ্নভঙ্গ হয় ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে।
কাতার বিশ্বকাপে এক গোল, তিন অ্যাসিস্টে কেইন ছিলেন ফ্লপ। কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে থামে যায় তাদের যাত্রা। সেই ম্যাচে মহাগুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করে তিনি ট্র্যাজিক হিরো।
১১২ ম্যাচে করেছেন ৭৮ গোলে বহু আগেই ওয়েইন রুনিকে ছাড়িয়ে হয়েছেন দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ৩২ বছর বয়সে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন কেইন।
‘ফুটবলের জনক’ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জিতেছে শুধু ১৯৯৬ আসরে। একের পর এক ব্যর্থতায় বিশ্বকাপ জয়ের আশা যেন ছেড়েই দিয়েছিলেন দেশটির ফুটবল ভক্তরা।
কেইনের আগমনে সেই আশার পালে লেগেছিল নতুন হাওয়া। ২০১৮ ও ২০২২-এ হয়নি তো কী হয়েছে? ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন করে ইংলিশ সমর্থকরা গাইছেন— ‘ইটস কামিং হোম’!
জার্মান লিগে বায়ার্নের হয়ে লিগে এবার করেছেন ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল। সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে বল জালে জড়িয়েছেন ৫৩ বার। এই ফর্মের ঝলক যদি বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে দেখাতে পারেন, ইংল্যান্ডকে আটকায় কে?
বায়ার্নে আসার পর কেটেছে কেইনের ‘ট্রফি অভিশাপ’। যার কপালে বছরের পর বছর জোটেনি কোনো ট্রফি, সেই কেইনই পরপর দুবার জিতেছেন বুন্দেসলিগা। কেইনের হাত ধরেই ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান হলে ক্ষতি কী!




