ব্রাজিলের জয়ের আসল নায়ক ‘ডন’ আনচেলত্তি

ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
কার্লো আনচেলত্তি আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাকে ডাগআউটের ‘ডন’ বলা হয়ে থাকে। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয়ে আনচেলত্তি দেখিয়েছেন তার মাস্টারক্লাস। প্রথমার্ধে লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তির ট্যাকটিক্যাল মাস্টারস্ট্রোকের কাছে হার মানতে হলো এশিয়ান জায়ান্টদের। বিশ্লেষকদের মতে, নকআউট পর্বে ব্রাজিলের এই জয়ের আসল নায়ক স্বয়ং আনচেলত্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের এনআরজি স্টেডিয়ামে গত রাতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটির প্রথমার্ধ যদি হয় জাপানের সুশৃঙ্খল ফুটবলের, তবে দ্বিতীয়ার্ধ ছিল ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞ মস্তিস্কের। ম্যাচের শুরু থেকেই জমাট রক্ষণ আর ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাকে ব্রাজিলের ওপর ছড়ি ঘোরাচ্ছিল জাপান। ২৯ মিনিটেই মিডফিল্ডার কাইশু সানোর চোখ ধাঁধানো এক গোলে তারা এগিয়ে যায়। চাপে পড়ে যায় ব্রাজিল। বিরতির পর সেই ব্রাজিলকেই দেখা যায় অন্য রূপে, ভিন্ন কৌশলে। বিশ্বকাপের সবচেয়ে দামি কোচ কার্লো আনচেলত্তি বুঝতে পেরেছিলেন, মাটিতে বল খেলে জাপানের কমপ্যাক্ট রক্ষণভাগ ভাঙা কঠিন। তাই তিনি মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে উঠিয়ে তরুণ তুর্কি এন্দ্রিককে মাঠে নামান এবং আক্রমণভাগকে ৪-২-৪ ফর্মেশনে রূপ দেন। মাঠের দুই প্রান্ত ও হাফ-স্পেস থেকে একের পর এক হাই ক্রস বা শুরু করে ব্রাজিল, যা ঐতিহ্যগতভাবেই জাপানি ডিফেন্ডারদের দুর্বলতার জায়গা।
খাতায়-কলমে একজন মিডফিল্ডার কমিয়ে আক্রমণভাগে চারজন খেলোয়াড় নিয়ে আসা যেকোনো কোচের জন্যই আত্মঘাতী হতে পারত। কিন্তু আনচেলত্তির এই সাহসী সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে প্রমাণিত হলো। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেসে আসা এক নিখুঁত ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো ব্রাজিলকে ১-১ সমতায় ফেরান। সমতায় ফিরে যেন রুদ্ররূপ ধারণ করে সেলেসাওরা। জাপান গোলরক্ষক সুজুকি বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল রুখে দিলেও কোনোভাবেই ব্রাজিলের আক্রমণ থামানো যাচ্ছিল না। আনচেলত্তি এরপর গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামিয়ে ক্রস ও সেকেন্ড বলের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন। ব্রাজিলের দুই উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়র এবং রায়ানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল একদম টাচলাইন ঘেঁষে খেলার জন্য। এতে জাপানের নিচ্ছিদ্র রক্ষণভাগ দুই পাশে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয় এবং তাদের টানা প্রেসিংয়ের কার্যকারিতা কমে যায়। দুই উইং প্রসারিত হওয়ায় দুই প্রান্ত থেকে বক্সে ক্রস বাড়ানোর রাস্তা খুলে যায়। গোলমুখের জটলা তৈরি করার ঠিক পরেই সমতায় ফেরে ব্রাজিল।
মাঠের ফাঁকা জায়গা ব্যবহার করে দ্বিতীয়ার্ধে নিজের চেনা ছন্দে ফেরেন ভিনিসিউস জুনিয়র। তার বিদ্যুৎগতির ড্রিবলিং আর নিখুঁত পাসিং জাপানি রক্ষণকে সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে ফেলে। অবশেষে ম্যাচের ৮৯ মিনিটে মার্তিনেল্লির সেই জয়সূচক গোলটি আসে, যা জাপানের সব প্রতিরোধ ভেঙে চুরমার করে দেয়। প্রথমার্ধের ছন্নছাড়া ব্রাজিলকে দ্বিতীয়ার্ধে স্রেফ এক সিদ্ধান্তে খোলস ছেড়ে বের করে আনলেন আনচেলত্তি। ইতালিয়ান এই ডনের ফুটবল মস্তিস্কই আরও একবার প্রমাণ করল—কেন তিনি বিশ্বসেরা।







