স্পাইডারক্যামের তারে বল, বেলিংহামের গোলে ক্ষুব্ধ নরওয়ে

সংগৃহীত ছবি
ইংল্যান্ড বনাম নরওয়ের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে জুড বেলিংহামের প্রথম গোল ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নরওয়ের দাবি, গোলের আগে বলটি স্টেডিয়ামের ওপরের স্পাইডারক্যামের তারে লেগেছিল। তবে ফিফা জানিয়েছে এমন ঘটনার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
হাফ টাইমের আগে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিলান্ডের গোলকিকের পর বলটি স্পাইডারক্যামের তারের খুব কাছ দিয়ে যায়। এরপর বলটি নিচে নেমে এলে এলিয়ট অ্যান্ডারসন থেকে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস পেয়ে গোল করেন বেলিংহাম। গোলের পরই নরওয়ের খেলোয়াড়েরা রেফারি ক্লেমঁ তুরপাঁকে ঘিরে প্রতিবাদ জানান।
নিয়ম অনুযায়ী, বল যদি স্পাইডারক্যামের তারে লাগে তাহলে খেলা থামিয়ে ড্রপ বলের মাধ্যমে পুনরায় শুরু করতে হয়। সে কারণে গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল বলে দাবি নরওয়ের।
ম্যাচ শেষে নরওয়ের মিডফিল্ডার সান্ডার বের্গে বলেন, ‘এটা হাস্যকর। ২-১ ব্যবধানই বলে দেয় কতটা অল্প ব্যবধানে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে। আর আমরা জানি, সিদ্ধান্তগুলো কোন দিকে গিয়েছে।‘
অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডও রেফারিং নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন, ‘ঘটনাটি আমি নিজে দেখিনি। তবে কয়েকটি সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গেছে। এমন ম্যাচে হয়তো ভাগ্যও দরকার হয়।‘
নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেন বিরতিতে রেফারির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন, ‘রেফারি বলেছেন তিনি নিজে কিছু দেখেননি এবং এ ধরনের কোনো বার্তাও পাননি। ফিফাও বলেছে বল তারে লাগার প্রমাণ নেই। তাই তার কিছু করার ছিল না।'
তবে নিজের অবস্থানে অনড় সোলবাকেন, ‘বলটি যেন হঠাৎ আকাশ থেকে সোজা নিচে নেমে এলো। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে যে খেলোয়াড় বলটি গ্রহণ করতে যাচ্ছিল, সবাই একই কথা বলেছে। আমাদের বেঞ্চের অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছিল বলটি তারে লেগেছে। ঘটনাটি সত্যিই অদ্ভুত।'
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফিফা মিডিয়া জানিয়েছে, সংযুক্ত সেন্সরযুক্ত বলের তথ্য বিশ্লেষণে তারে বল লাগার কোনো প্রমাণ মেলেনি, ইংল্যান্ডের গোলের আগে বলটি বাতাসে থাকা অবস্থায় সেন্সরের হার্টবিট ডেটায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। ফলে বলটি ওপরের তারে লেগে গতিপথ পরিবর্তন করেছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।’
বিবিসি স্পোর্টে সাবেক ইংল্যান্ড তারকা ওয়েন রুনি নরওয়ের অভিযোগকে সমর্থন করেছেন, ‘বলটির গতিপথ কিছুটা বদলেছে এবং সেটি দ্রুত নিচে নেমে এসেছে বলে মনে হয়েছে।'
ইংল্যান্ড কোচ থমাস টুখেল মনে করেন বলের ভেতরের চিপ খুব সূক্ষ্ম স্পর্শও শনাক্ত করতে সক্ষম, ‘ক্রোয়েশিয়া–পর্তুগাল ম্যাচে আমরা সেটা দেখেছি। তাই বল তারে লাগলে সেটিও শনাক্ত হওয়ার কথা। আমি অবশ্য ঘটনাটি দেখিনি।'
তবে ম্যাচে ভাগ্যের সহায়তা পাওয়ার কথা স্বীকার করে টুখেল বলেন, ‘জয়ের জন্য আমরা ভাগ্যবান ছিলাম এটা বলছি না। তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে ভাগ্য আমাদের পক্ষে ছিল।'




