মেসির ছেলের গায়ে নিকো পাসের জার্সি

ইতালিয়ান ক্লাব কোমোতে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নিয়মিত খবরের শিরোনাম হচ্ছেন ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নিকো পাস। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচে জোড়া গোল ও এক অ্যাসিস্ট করে চমকে দিয়েছেন। এমন সময়ে নিকো পাসের জীবনের অন্যতম আবেগঘন এক মুহূর্ত তৈরি হয়েছে ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির পরিবারকে ঘিরে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, লিওনেল মেসির কনিষ্ঠ পুত্র চিরো মেসি ক্লাবের জার্সি গায়ে জড়িয়ে বাবার পাশে বসে আছে। আর সেই জার্সিটি অন্য কোনো দলের নয়, বরং নিকো পাসের ক্লাব কোমোর! মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুচ্ছোর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট করার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এটি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক জয়ের পর এই ছবির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে নিজের অনুভূতি চেপে রাখতে পারেননি নিকো পাস। রোমাঞ্চিত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলারের ছেলে আমাদের ক্লাবের জার্সি পরেছে—এটি আমার ও পুরো ক্লাবের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই ছোট একটি ঘটনা প্রমাণ করে যে, আমরা ক্লাবে সঠিক পথেই এগোচ্ছি।’
কোমোর এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে আরেকটি বড় সংযোগ রয়েছে। দলটির স্প্যানিশ প্রধান কোচ সেস্ক ফ্যাব্রেগাস লিওনেল মেসির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পুরোনো বন্ধু। বার্সেলোনার বিখ্যাত অ্যাকাডেমি লা মাসিয়া থেকে শুরু করে মূল দলে একসঙ্গে খেলার সুবাদে তাদের এই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সম্প্রতি স্পেনে ‘প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড’ নেওয়ার সময়ও মেসির সঙ্গে তার সম্পর্কের গভীরতা ফুটে ওঠে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো মঞ্চে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতো জায়ান্ট দলকে বড় ব্যবধানে হারানোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নিকো পাস বলেন, ‘এটি আমার ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এবং স্মরণীয় একটি রাত। শুধু আমার জন্য নয়, ক্লাবের সব সমর্থক এবং পুরো শহরের জন্যই এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ইতিহাসের অন্যতম সেরা একটি দলের বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরের মাঠে এমন ফুটবল খেলতে পারা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে ভীষণ আনন্দিত।’
ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানজনক এই টুর্নামেন্টে এবারই প্রথম পা রেখেছে কোমো। টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচের দুটিতে জিতে ইতোমধ্যে ৬ পয়েন্ট অর্জন করে প্লে-অফ পজিশনে নিজেদের স্থান শক্ত করে নিয়েছে তারা। তরুণ এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার যোগ করেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি আমাদের প্রথম অভিজ্ঞতা। তাই প্রতিটি ম্যাচ আমাদের নতুন করে উপভোগ করতে হবে এবং এই দারুণ মুহূর্তগুলোকে স্মৃতিতে ধরে রাখতে হবে।’





