লিওনেল মেসি
মানুষ আমাকে লড়াকু ক্রীড়াবিদ হিসেবে মনে রাখুক

আধুনিক ফুটবলের সমস্ত বড় ট্রফি ও ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নিজের নামের পাশে যুক্ত করে রূপকথার মতো এক ক্যারিয়ার কাটিয়েছেন লিওনেল মেসি। আটটি ব্যালনের ড্র কিংবা চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অসংখ্য রেকর্ড তার পায়ে গড়াগড়ি খেয়েছে। তবুও ক্যারিয়ারের এই অন্তিম লগ্নে এসে মেসি যেন বিনয়াবনত। আর্জেন্টাইন জাদুকরের চাওয়া, ট্রফি বা পরিসংখ্যানের চেয়ে নিজের নাছোড়বান্দা মানসিকতা ও লড়াইয়ের স্পৃহা দিয়েই ভক্তদের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চান।
সম্প্রতি স্পেনের ওভিয়েদো শহরে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড ফর স্পোর্টস’ গ্রহণ উপলক্ষে ইএফই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবল দর্শন নিয়ে কথা বলেন ইন্টার মায়ামি তারকা। প্রথম কোনো ফুটবলার হিসেবে তিনি এই সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন। মাঠে তার অসামান্য নৈপুণ্যের পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ‘লিও মেসি ফাউন্ডেশন’-এর দাতব্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার প্রদান করে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। ভবিষ্যতের ফুটবলপ্রেমীরা তাকে কীভাবে স্মরণ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রেকর্ড ও পরিসংখ্যানের আলোচনা থেকে সরে এসে মেসি বলেন, ‘ক্যারিয়ারে কখনো আমি যা চেয়েছি তাই পেয়েছি, আবার কখনো পাইনি। কিন্তু সামনে যত (শিরোপা জয়ের) সুযোগ এসেছে, সেগুলো জয়ের চেষ্টা আমি কখনো থামাইনি। আমি চাই মানুষ আমাকে এমন একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে মনে রাখুক, যে সবসময় নিজের লক্ষ্য এবং স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করে গেছে।’
মেসির মতে, ফুটবলে জয় পাওয়া অত্যন্ত কঠিন এবং যেকোনো পেশাদার ক্রীড়াবিদের জন্যই পথচলাটা নানা প্রতিকূলতায় পূর্ণ থাকে। ২০২১ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের আগে জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে। সেই ব্যর্থতাগুলোই মেসির পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে বড় ভূমিকা রেখেছে। এমনকি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়কেও মেসি বড় শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে খেলে যাওয়া এই মহাতারকা বিশ্বাস করেন, কেবল ট্রফি বা মেডেল দিয়ে একজন খেলোয়াড়ের মূল্যায়ন হওয়া উচিত নয়। পরাজয়কে মেনে নেওয়া এবং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই আসল। পরিসংখ্যানের রেকর্ডবুকে তার নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকলেও ভক্তদের মনে তিনি কেবল সর্বকালের সেরাই নন, বরং একজন নাছোড়বান্দা লড়াকু হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকতে চান।





