মাও বিতর্ক
এমবাপ্পের কাণ্ডে ১২০০ কোটি ক্ষতির মুখে রিয়াল মাদ্রিদ

ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে চীনের বিশাল বাজারে বড় ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়েছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ। চীনের সাবেক শীর্ষ নেতা মাও সে তুংকে নিয়ে তৈরি করা একটি ব্যঙ্গাত্মক মিম নিয়ে মন্তব্য করে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছেন ক্লাবটির এই সেরা তারকা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল রূপ নিয়েছে যে, রিয়াল মাদ্রিদ, লা লিগা কর্তৃপক্ষ এবং স্বয়ং এমবাপ্পে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েও চিনের মন গলাতে পারেননি।
প্রধানত তিনটি জায়গা থেকে রিয়াল মাদ্রিদের আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে:
১. ইমেজ রাইটস: এমবাপ্পে বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ থেকে বছরে প্রায় ৩ কোটি ইউরো আয় করেন। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, এমবাপ্পের ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন রাজস্বের একটি নির্দিষ্ট অংশ অনুপাত হিসেবে পায় ক্লাবটি। ইতিমধ্যে চীনের তিন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান—ডংপেং বেভারেজ, মেংনিউ এবং মিল্কগ্রাউন্ড এমবাপ্পের সঙ্গে তাদের কোটি কোটি টাকার চুক্তি বাতিল করেছে। এর সরাসরি ধাক্কা এসে পড়ছে রিয়ালের কোষাগারে। ২. জার্সি ও মার্চেন্ডাইজ বিক্রি হ্রাস: বিশ্বজুড়ে রিয়াল মাদ্রিদের অফিশিয়াল জার্সি ও মার্চেন্ডাইজ বিক্রির প্রায় ১৫ শতাংশ একাই নিয়ন্ত্রণ করে চীনের বাজার। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের ১ নম্বর বিক্রিত জার্সি হলো এমবাপ্পের ১০ নম্বর জার্সি। চীনা সমর্থকরা বয়কটের পথে হাঁটলে এই জার্সি বিক্রি থেকে ক্লাবের আয় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩. সম্প্রচার স্বত্ত্ব ও লিগের সার্বিক ক্ষতি: চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম ‘সিসিটিভি’ এবং প্রভাবশালী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘মিগু’ লা লিগার ম্যাচ সম্প্রচার স্থগিত রেখেছে। লা লিগার স্পনসরশিপ এবং সম্প্রচার স্বত্বের বড় অর্থ রিয়াল মাদ্রিদ পেয়ে থাকে। লিগ ও ক্লাবের সামগ্রিক ব্র্যান্ড মূল্য কমে যাওয়া তাদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ ও ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই বিতর্কের কারণে রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগার যৌথ ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি ডলারের (১২০০ কোটি টাকার বেশি) ঘর ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এই ক্ষতির সুনির্দিষ্ট মোট অংক এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হিসাব করা সম্ভব হয়নি। কারণ, স্থগিত হওয়া বেশ কিছু চুক্তির মূল্যায়নের কাজ এখনো চলছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাস স্পেনে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের সাথে জরুরি বৈঠক করেছেন। একই সাথে রিয়াল মাদ্রিদ ক্লাব বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চীনা সংস্কৃতি ও তাদের ইতিহাসের প্রতি ক্লাব সর্বদা শ্রদ্ধাশীল। এখন চীনের বাজার ও ফুটবলপ্রেমীদের অসন্তোষ কতটা দ্রুত থামানো সম্ভব হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে লস ব্লাঙ্কোসদের বাণিজ্যিক ভবিষ্যতের স্থায়িত্ব।





