কিলিয়ান এমবাপ্পে
রোনালদো-মেসি অন্য খেলোয়াড়দের জন্য খুব বেশি সুযোগ রাখেনি

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বকাপের পর নতুন ক্লাব মৌসুমেও দারুণ ছন্দে কিলিয়ান এমবাপ্পে। নিজের ফর্ম, ব্যালন ডি’অর, জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের কোচ হওয়া, মেসি-রোনালদোর সঙ্গে তুলনা নিয়ে ফরাসি দৈনিক ‘লেকিপ’-এ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এমবাপ্পে। তুলে ধরা হলো এর চুম্বক অংশ।
সময়ের সেরা তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে
আমি নির্দিষ্ট কোনো নাম বলতে চাই না, কারণ কাউকে বাদ দিয়ে ফেললে... তবে বিশ্বের সেরা ১০ বা ১৫ জন খেলোয়াড় কারা—সেটা নিয়ে সবাই একমত হবেন। তরুণদের মধ্যে লামিন ইয়ামাল; তার মধ্যে সব গুণই আছে। এস্তেভাওকেও আমার বেশ পছন্দ, তার সৃজনশীলতা দারুণ। এখানে আরদা গুলের অনেক দূর যেতে পারে। এনদ্রিকের বেশ সম্ভাবনা রয়েছে, ও একজন দারুণ গোলদাতা। এ ছাড়া ওয়ারেন (জাইর-ইমেরি) এবং দেজিরে (দুয়ে) নিশ্চিতভাবেই চমৎকার ক্যারিয়ার গড়ে তুলবে।
সমালোচনা প্রসঙ্গে
আমি প্রচুর সমালোচনার শিকার হই। কিছু সমালোচনা থাকে গঠনমূলক, আর কিছু থাকে কিছুটা অযৌক্তিক। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমি ভয় পাই না। আমি যদি জানি যে সিদ্ধান্তটি আমার জন্য সঠিক, তবে আমি সেটির দিকেই এগিয়ে যাই। আমার ক্যারিয়ার ও সাফল্যের রেকর্ডই তার প্রমাণ। আমি গোল না করলে তারা বলবে, 'কেন গোল করল না?' প্রতি ম্যাচে লাখ লাখ কোচ তৈরি হয় এবং সবারই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। ফুটবলের মূল বিষয়ই হলো গোল করা এবং প্রতিপক্ষের চেয়ে একটি গোল বেশি দেওয়া। যে খেলোয়াড় গোল করে, সে দলের জন্য কখনো সমস্যা হতে পারে না। এই ধরনের বিতর্ক ফুটবলের প্রতি একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের কারণে হয়।
সেরা গোলদাতারা কি আত্মকেন্দ্রিক হন
সব খেলোয়াড়ই কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড—সবাই। এটা বলা কোনো অসম্মানজনক নয় যে, মাঝে মাঝে আমরা কিছু পজিশনকে খুব একটা পাত্তা দিই না। তবে একজন সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড সবসময় আতশ কাচের নিচে থাকে। তাকে লাইমলাইটে থাকতেই হয়—কখনো যোগ্য হিসেবে, কখনো অযথাই। আমি এমন অনেক ম্যাচে গোল করেছি, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা আমার চেয়ে ভালো খেলেছে। কিন্তু ফুটবলে গোল করাই সবচেয়ে কঠিন এবং মূল্যবান কাজ। তাই কখনো পুরো কৃতিত্ব পাওয়া আবার কখনো উল্টোটা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা
আমি খেলা আর ব্যবসাকে আলাদা করতে জানি। ফুটবলের প্রতি আমার ভালোবাসা কখনোই শেষ হবে না। আমি এই খেলাটার প্রেমে পড়েছিলাম। ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পরও আমি ম্যাচ দেখব, স্টেডিয়ামে যাব, কিন্তু হয়তো ফুটবলের পেশাদারজগতের সঙ্গে আমার আর কোনো সম্পর্ক থাকবে না। অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সবকিছু আলাদা করতে শেখে এবং ঢালাও মন্তব্য করা বন্ধ করে। সব বিষয়কে এক করে দেখা একটা ভুল। খেলাটাই এত মানুষকে এক সুতোয় বাঁধে, আর সেই আবেগ আমাদের ধরে রাখতে হবে।
মেসির মতো ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত খেলার ভাবনা
(হেসে) প্রয়োজন পড়লে আমি ১০০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলে যেতে চাই! তবে আমি কি তখনো একইরকম পারফর্ম করতে পারব? কখন থামতে হবে সেটা বুঝতে হবে। মেসিকে এসব নিয়ে ভাবতে হয়নি, কারণ সে এখনো খেলে যেতে পারছে। তা ছাড়া মেসি তো মেসিই। আমি নিজেকে অন্য রকম খেলোয়াড় মনে করি। তবে অন্য খেলোয়াড়দের চেয়ে সে এক অন্য উচ্চতার।
রোনালদো ও মেসির সঙ্গে তুলনা প্রসঙ্গে
ছয়টি করে বিশ্বকাপ খেলেছে তারা... হ্যাঁ, তারা হয়তো সব কটি জেতেনি। কিন্তু নিজের দেশের নেতা হিসেবে, কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা কাঁধে নিয়ে ছয়বার বিশ্বকাপ মঞ্চে যাওয়া সামান্য কথা নয়। তারা সম্পূর্ণ আলাদা এক যুগের। তাদের কাতারে কেবল তারাই দুজন আছে। আমি পরবর্তী প্রজন্মের; তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছি। তারা ফুটবলের নিয়ম এবং আমাদের ভাবনারজগতকে বদলে দিয়েছে। ফুটবলে তাদের আগের ও পরের যুগ একদম আলাদা। আর এভাবেই ফুটবলে নিজেদের ছাপ রেখে যেতে হয়। মেসি বা রোনালদোর চেয়ে নিজেকে পিছিয়ে ভাবার মধ্যে কোনো চাপ নেই।
গত মৌসুম কি দলগতভাবে সবচেয়ে খারাপ ছিল
না, প্রতিটি মৌসুমই নতুন কিছু শেখায়। আমি সবসময় যতটা সম্ভব শেখার চেষ্টা করি, বিশেষ করে যখন জয় আসে না। রিয়াল মাদ্রিদে থাকা আমাদের শেখায় যে চলতি মৌসুমে আরও ভালো করার জন্য কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে।
পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে ‘ইগো’র পার্থক্য
প্রতিটি ড্রেসিং রুমেই এই ধরনের মানুষ থাকে, এমনকি যেখানে কোনো তারকা খেলোয়াড় নেই সেখানেও। প্যারিসে আমার শেষ বছরে আমি ছাড়া আর কোনো বড় তারকা ছিল না। উসমান (দেম্বেলে) মূলত পরেই তারকা হয়ে ওঠে। মানুষ সবসময় 'ইগো' বিষয়টিকে তারকাদের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলে। অথচ আমি এমন খেলোয়াড়দেরও দেখেছি যাদের কাছ থেকে কেউ অটোগ্রাফ বা ছবি চায় না, কিন্তু তাদের ইগো আকাশছোঁয়া। শুধু খেলোয়াড় নয়, পর্দার আড়ালে ক্লাবের প্রশাসনিক পদে থাকা অনেকের মধ্যেই প্রবল ইগো থাকে।
বার্নাব্যুর দর্শকদের দুয়োধ্বনি দেওয়া প্রসঙ্গে
এসব ঘটে থাকে। আপনি কি জানেন মাদ্রিদে কত শত বড় বড় খেলোয়াড় দুয়োধ্বনি শুনেছেন? রিয়ালে চুক্তি করার সময়ই আপনি জানবেন এখানে কী হতে পারে। এটি আমাকে খুব একটা প্রভাবিত করেনি। সমর্থকরা তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতেই পারেন, সেটা আমি বুঝি।
মরিনহোকে নিয়ে মন্তব্য
তিনি দূরদর্শী ও বুদ্ধিমান! তার কৌশল আমাকে মুগ্ধ করেছে। অবশ্য এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তেমন ব্যক্তিত্ব না হলে কেউ জোসে মরিনহো হতে পারে না। তাকে দেখলেই বোঝা যায় তিনি কী করছেন এবং তার লক্ষ্য কী। খেলোয়াড়দের জন্য একজন সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া কোচ থাকা খুব জরুরি। ওনার অধীনে সঠিক কাজ করার মতো সব উপকরণই আমাদের আছে। তিনি শুধু আমাকে বলেছেন, 'গোল করে যাও' (হাসি)।
মরিনহোর কাছ থেকে প্রত্যাশা
শুধু একটাই—তিনি যেন আমাকে একাদশে খেলান (হাসি)। বাকি সবকিছুর সঙ্গে আমি মানিয়ে নিতে পারব। বিশেষ কোনো প্রত্যাশা নেই, তিনি নিজের মতো থাকলেই যথেষ্ট।
বিশ্বকাপ কি ব্যর্থ ছিল
একদমই না! ম্যাচের ঠিক পরপরই জিজ্ঞেস করলে হয়তো বলতাম 'হ্যাঁ'। কিন্তু এখন বলব, এটা ব্যর্থতা ছিল না; ছিল শুধু আক্ষেপ। স্পেন ম্যাচটি আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের অভিনন্দন। ম্যাচের শুরুতে আমাদের কৌশলে কিছু ভুল ছিল। পেনাল্টিটাই মোড় ঘুরিয়ে দেয়, কারণ তার আগে তেমন কিছুই ঘটছিল না। যে দল পজেশন ধরে রাখতে ভালোবাসে, তাদের বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়লে ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যায়। আমরা নতুন করে কৌশল সাজাতে পারিনি। আমরা ফরাসিদের স্বপ্ন দেখাতে পেরেছিলাম এবং তাদের গর্বিত করেছি—সেটাও এক ধরনের জয়।
প্যারাগুয়ের এক সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্য প্রসঙ্গে
আমি প্যারাগুয়ে সরকার এবং প্রেসিডেন্ট (ইমানুয়েল মাখোঁ)-এর সমর্থন পেয়েছিলাম। এ ছাড়া বিশ্বের সব ফুটবল সংস্থার সমর্থনও আমার ছিল। মিশেল প্লাতিনি বলেছিলেন আমাদের নাকি সবকিছু মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমি এসব মেনে নেওয়ার পাত্র নই। ২০২৬ সালেও যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন অযোগ্য মানুষ বসে আছে—তা তুলে ধরতে আমার কোনো দ্বিধা নেই। এদের বিপক্ষে লড়াই করার পর্যাপ্ত শক্তি আমাদের সবসময় থাকবে।
ফ্রান্সের অধিনায়ক হওয়া নিয়ে
দলে একজন ব্যক্তি হিসেবে এটি আমাকে পরিপক্ব হতে সাহায্য করেছে। জাতীয় দলে আমি সবসময় এমন একজন ছিলাম যার দিকে সবাই তাকিয়ে থাকত। তবে অধিনায়কের দায়িত্ব হলো অন্যদের খেয়াল রাখা। এতে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়, তবে আনন্দও কম নয়। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।
জিদান প্রসঙ্গে
জিদান তো জিদানই। ফরাসিদের কাছে তার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি একজন কিংবদন্তি, আমাদের জাতীয় 'জিজু'। তিনি মহানুভবতার প্রতীক। খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের হয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। ফুটবলে তার অসংখ্য অবিস্মরণীয় মুহূর্ত রয়েছে। ফরাসি জাতীয় দলকে তার চেয়ে ভালোভাবে কেউ তুলে ধরতে পারেনি। তিনি সেই অল্প কয়েকজন খেলোয়াড়দের একজন, যারা প্রজন্মকে ছাড়িয়ে গেছেন এবং ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে এক অমলিন ছাপ রেখে গেছেন।
পিএসজির পরপর দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় ও রিয়াল মাদ্রিদের কোনো শিরোপা না পাওয়া প্রসঙ্গে
আমি বিষয়টাকে একদম সহজ হিসেবে দেখি। তারা জিতেছে, সেই কৃতিত্ব তাদের দেওয়া উচিত, অভিনন্দন। তারা নিজেদের যোগ্যতায় জিতেছে এবং পরপর দ্বিতীয়বার ট্রফি তুলে নেওয়া সত্যিই অসাধারণ। এখন তারাই সেই দল, যাদের সবাইকে হারাতে হবে। আমরা রিয়াল মাদ্রিদ এবং বাকি সব দল এবার নামব সেই টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের সিংহাসনচ্যুত করতে। লুইস এনরিকের অধীনে আমার শেষ বছরে আমরা সেমিফাইনালে উঠেছিলাম। পিএসজির জন্য সেটা একটা নতুন অধ্যায়ের শুরু ছিল।
পিএসজিতে কাটানো সময় নিয়ে
আমি যখন পিএসজিতে ছিলাম, ইউরোপের যেকোনো ক্লাবে যেতে পারতাম। তবু আমি থেকে গিয়েছিলাম। আমার সাত বছরে কত প্রস্তাব এসেছিল তা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। আমি সেখানে ছিলাম, কারণ প্যারিসে আমি সুখী ছিলাম।
ব্যালন ডি'অর জেতার সম্ভাবনা
আমার মন বলছে এবার আমি এটা জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য।
শিরোপা না পাওয়ার পরও ব্যালন ডি'অর দাবি করার যুক্তি
অবশ্যই যুক্তি আছে। মানুষ বলে আমি নাকি কোনো (দলগত) ট্রফি জিতিনি। কিন্তু মনে রাখতে হবে এটা একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। ব্যালন ডি'অর কি ১০০% ভোট পেয়ে কেউ কখনো জিতেছে? তার মানে সবসময়ই এমন কেউ থাকে যে মনে করে বিজয়ী এই পুরস্কারের যোগ্য ছিল না। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপে ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২২টি গোল) হওয়া এবং সব কিংবদন্তিদের ছাড়িয়ে যাওয়া—নিশ্চিতভাবেই এক অবিশ্বাস্য অর্জন আমার।
আমি সবসময় বিশ্বাস করি ব্যালন ডি'অর পাওয়া উচিত একজন সত্যিকারের অসাধারণ খেলোয়াড়ের। অবশ্যই দলগত অর্জনের একটা ভূমিকা আছে এবং সেটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফুটবল একটি দলীয় খেলা। তবে ট্রফিটি ব্যক্তিগত। মেসি ও রোনালদোর যুগে ব্যালন ডি'অর যেভাবে দেওয়া হতো, আমার দৃষ্টিভঙ্গি তেমনই। এটি সাধারণ কাউকে দেওয়া হয় না, দেওয়া হয় অসাধারণদের। আর আমি মনে করি এই বছর আমি বিশেষ কিছু করে দেখিয়েছি, তাই বিশ্বাস করি এটি জেতা আমার পক্ষে সম্ভব।
আগেও কি ব্যালন ডি'অর জেতার সুযোগ ছিল?
কিছু বছর আমি নিজেকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় মনে করেছি। আমার চেয়ে ভালো কাউকে দেখিনি। তবে যখন মেসি মঞ্চে উঠে ট্রফি জিতত, আমি বলতাম, 'সেরা খেলোয়াড় তো মঞ্চেই আছে।' কোনো সমস্যা ছিল না। রোনালদো জিতলেও একই কথা বলতাম... তবে অন্য কারও হাতে ব্যালন ডি'অর দেখলে কখনো তাদের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করিনি। তবে এসব প্রতিযোগিতা ক্যারিয়ারের গল্পটাকে সুন্দর করে তোলে।
ব্যালন ডি'অরে বিশ্বকাপ রেকর্ডের প্রভাব
এটি সেরা খেলোয়াড়দের, তারকাদের এবং ইতিহাসের সেরা ফুটবলারদের টুর্নামেন্ট। আর মাত্র ২৭ বছর বয়সে আমিই সেই খেলোয়াড়, যে কি না বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করেছে! তা-ও আবার লিওনেল মেসির মতো খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এই রেকর্ড কেড়ে নেওয়া—যাকে অনেকে রোনালদোর সঙ্গে ইতিহাসের সেরা মনে করেন—বিষয়টি দুর্দান্ত। এই ধরনের অর্জন একেবারেই আলাদা।
ব্যালন ডি’অরের জন্য কাকে ভোট দিতেন
একদম নিরপেক্ষভাবে বললে—নিজের কথাই বলব। যারা অন্য কাউকে ভোট দেবেন তাদের যুক্তিও আমি বুঝি, কারণ সবার চিন্তা তো এক হবে না। তবে যখন আপনি পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স ও যুক্তি বিশ্লেষণ করবেন, তখন আমাকে বিজয়ী করাটা কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত হবে না। গত মৌসুমে আমার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স আর কারও ছিল না।
১০ বছর আগে কেউ ভাবেনি মেসি ৩৯ বছর বয়সেও খেলবে এবং আরও তিনটি ব্যালন ডি'অর জিতবে! রোনালদো ও মেসি আমাদের মতো অন্য খেলোয়াড়দের জন্য খুব বেশি সুযোগ রাখেনি। তা ছাড়া এমন কিছু সময়ও গেছে যখন সেরা দলের সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে নয়।



