ওসাকায় ঋতুদের প্রতিপক্ষ চেনা উত্তর কোরিয়া

ছবি: বাফুফে
গত মার্চে ওমেন্স এশিয়ান কাপে নারী ফুটবলের পরাশক্তি উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে নাস্তানাবুদ হয়েছিল বাংলাদেশ। ছয় মাসের ব্যবধানে ফের তাদের মুখোমুখি হচ্ছেন ঋতুপর্ণা চাকমা-মারিয়া মান্দারা। সোমবার জাপানের ওসাকায় এশিয়ান গেমসের অভিযান শুরু হবে নারী দলের। শুরুর ম্যাচেই উত্তর কোরিয়ার কাছে আরেকবার বিধ্বস্ত হওয়ার শঙ্কা প্রবল। তাই দুই দলের মানের বিচারে বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার বললে ব্যবধানটা আকাশ আর পাতাল।
দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমসে খেলছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এর আগে হ্যাংঝুতে অভিষেকটা মনে রাখার মতো হয়নি। দুই হার ও এক ড্র নিয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল সেবার। তবে এবার বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার। এফ গ্রুপে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি আছে মিয়ানমার। দুই কোরিয়ার কাছে হারলেও বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে মিয়ানমারকে হারিয়ে সেরা তৃতীয় দল হয়ে শেষ আটে যাওয়ার।
গত বছর মিয়ানমারকে বাছাইয়ে হারিয়ে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। তাই তাদের হারানো অসম্ভব কিছু নয়। যদিও এখনই ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে একদমই ভাবছেন না বাটলার। তিনি শুধুই উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসন থামানোর কৌশল খুঁজে ফিরছেন। রবিবার সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘এই ম্যাচের জন্য আমাদের আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া। নিজেদের প্রতি সৎ থেকে বলতে গেলে— এই ম্যাচে আমাদের জয়ের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও কেউ দেখছে না, বাস্তবতাও হয়ত সেটাই। তবে কালকের ম্যাচটা আমাদের জন্য শেখার, দলের মর্যাদা রক্ষার এবং মাঠে একটি ইতিবাচক পারফরম্যান্স তুলে ধরার লড়াই। যেন মেয়েরা এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে পারে। বাংলাদেশের ফুটবলের সঙ্গে কোরিয়ার ফুটবলের কোনো তুলনা চলে না— দুই দেশের ফুটবলের তফাতটা আকাশ-পাতাল।’
গ্রুপের কঠিন বাস্তবতা মাথায় রেখেই অভিযানে নামার কথা বলেছেন বাটলার, ‘আমরা বাস্তবধর্মী লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি। কারণ আমরা ভালো করেই জানি যে এমন একটি গ্রুপে খেলছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দুটি দল— উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া রয়েছে। এমনকি র্যাংকিংয়ে বিচারে মিয়ানমারও আমাদের চেয়ে এগিয়ে।’
তবে কঠিনকে উপভোগের মন্ত্রে বদলে ফেলার কথা বলেছেন কোচ, ‘পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র বিভ্রান্তি নেই। তবে এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মাঝেও আমরা খেলাটি উপভোগ করতে চাই। দলে অভিজ্ঞদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমি বেশ কিছু তরুণ মেয়েকে সুযোগ দেব। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এই বড়ো মঞ্চের সুযোগগুলো থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, শেখা এবং নিজেদের ফুটবলের উন্নয়ন ঘটানো।’
নারী ফুটবল দলের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ বহরের এশিয়ান গেমস অভিযান। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর একটায়।



