প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠেও যাবেন না নেইমার

বিশ্বকাপ সামনে রেখে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপের আগে শেষবারের মতো একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামবে সেলেসাওরা। ক্লেভেল্যান্ডে মিসরের বিপক্ষে সেই ম্যাচের আগে সম্ভাব্য একাদশ বাছাই করতেই দলকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি।
এদিকে অনুশীলনের সময় আরেকটু হলেই বড় বিপদে পড়তে পারত ব্রাজিল। নিজেদের মধ্যে ম্যাচ খেলার সময় ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি এন্দ্রিককে বাজেভাবে ফাউল করেন কাসেমিরো। সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্য তার কাছে ক্ষমা চান এই অভিজ্ঞ ফুটবলার। এন্দ্রিকের চোখেমুখে অবশ্য বিরক্তিটা ছিল স্পষ্ট!
ব্রাজিলের এই অনুশীলনে দেখা যায়নি নেইমারকে। আগেই জানা গেছে, ইনজুরির কারণে প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না তার। এবার ‘গ্লোবো’ জানিয়েছে মিসরের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বেঞ্চেও থাকবেন না নেইমার। পুরো ফিট হতে তিনি ভ্রমণ করবেন না, থেকে যাবেন হোটেল। সান্তোস থেকে নেইমারের ইনজুরিকে বলা হচ্ছিল সাধারণ। তবে ব্রাজিল জাতীয় দলের ডাক্তাররা পরীক্ষা করে দেখেছেন এটা গ্রেড-টু টাইপের ইনজুরি।
এদিকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মার্কিনিয়োসের পেনাল্টি মিসেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। পেনাল্টি মিসটা এতটাই যন্ত্রণা দিয়েছিল যে, ব্রাজিলিয়ান অধিনায়ক আর নেননি কোনো স্পটকিক!
পোস্টে লেগে ফিরে আসে মার্কিনিয়োসের শট। পেনাল্টি মিসের পর মার্কিনিয়োসের হাঁটু গেড়ে বসে পড়ার সেই দৃশ্য এখনো পীড়া দেয় সেলেসাও ভক্তদের।
কাতারে ব্রাজিলের সেই বিদায়ের পর পিএসজি চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বশেষ ফাইনালসহ মোট ছয়বার টাইব্রেকারের মুখোমুখি হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ কোপা আমেরিকা কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। এর একটি ম্যাচেও পেনাল্টি শট নেননি মার্কিনিয়োস।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দলে খেলোয়াড়দের স্ত্রীদের জীবন নিয়ে বানানো ‘কনভোকাদাস’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র মুক্তি দিয়েছে দেশটির টিভি চ্যানেল ‘গ্লোবো টিভি’। সেখানে মার্কিনিয়োসের স্ত্রী ক্যাব্রিনো বলছিলেন, ‘সেদিনের পর মার্কিনিয়োস আর কখনো পেনাল্টি শট নেয়নি। সেই দিনে আমার চেনা দুনিয়াটা ওলট-পালট হয়ে গিয়েছিল। যে মুহূর্তে বুঝতে পারলাম ও ভুল করে ফেলেছে এবং আমি জানতাম আমাকে ভীষণ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু ঘটনার ভয়াবহতা আমি পুরোপুরি টের পাই ওর কাছ থেকে একটি বার্তা পাওয়ার পর। ও আমাকে লিখেছিল, ওর ক্যারিয়ার হয়তো এখানেই শেষ, সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছে, ব্রাজিলে এটি সবচেয়ে লজ্জার ব্যাপার।’
সেই পেনাল্টি মিসের পর পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন মার্কিনিয়োস। তাকে সে সময় সান্ত্বনা দিয়েছিলেন সতীর্থ নেইমার। ক্যাব্রিনো তাই নেইমারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, ‘আমার মনে আছে, সে সময় নেইমারকে একটা বার্তা পাঠিয়ে বলেছিলাম, আমার রুমে এসে তোমার বন্ধুর সঙ্গে একটু কথা বলো। নেইমার যখন এলো, তখন ও কাঁপছিল; চারপাশের পরিবেশটাই কেমন যেন থমথমে হয়ে উঠেছিল। নেইমার এসে ওকে সান্ত্বনা দিল, পাশে দাঁড়াল। আমি ওকে শুধু বলেছিলাম, ফুটবল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তোমারও একটি পরিবার আছে। ভুল করলেও তুমি তো মানুষ। ম্যাচের সব দায় একা নিজের কাঁধে তুলে নিতে পারো না।’
চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিল। এবার দলের অধিনায়ক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছেন মার্কিনিয়োস। দলে আছেন গ্যাব্রিয়েল মাহালেসও। যার পেনাল্টি মিসে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনাল শিরোপা হাতছাড়া করে।
মাহালেস যখন পেনাল্টি মিস করেন, মার্কিনিয়োস তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তাকে শক্ত থাকতে ও মাথা উঁচু রাখতে বলেছিলাম। এ মৌসুমে সে দারুণ পারফর্ম করেছে। এ মুহূর্তে সে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার। ওই একটা মুহূর্তের জন্য সবকিছু মিথ্যা হয়ে যায় না।’




