চ্যাম্পিয়নস লিগ
রাফিনিয়ার মাঠ ছাড়ার আসল কারণ তাহলে এই

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্প ন্যু-তে ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। দলের এমন পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি বার্সার জার্মান কোচ হ্যানসি ফ্লিক। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বার্সেলোনার রক্ষণের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি রাফিনিয়াকে তুলে নেওয়া এবং ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের প্রত্যাবর্তন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
অ্যাস্টন ভিলার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের রক্ষণভাগের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট ফ্লিক বলেন, ‘অ্যাস্টন ভিলা দারুণ একটি দল। আমরা সত্যিই অসাধারণ রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলেছি এবং গোলপোস্ট অক্ষত রেখে ম্যাচ শেষ করতে পেরেছি। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দের। আমাদের ডিফেন্স লাইন অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছে, প্রতিপক্ষের আক্রমণগুলো তারা নিখুঁতভাবে রুখে দিয়েছে। আমাদের গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়াও চমৎকার খেলেছেন। ভুল করা বা হেরে যাওয়াটা বড় কথা নয়, সেখান থেকে আপনি কীভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন সেটাই আসল। পরের পদক্ষেপটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার কৌশল ব্যাখ্যা করে বার্সা কোচ আরও যোগ করেন, ‘আমরা হাই-প্রেসিং ফুটবলের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করেছিলাম। এই কৌশলেই আমাদের গোলগুলো এসেছে। এটাই আমাদের খেলার ধরণ এবং এটাই বার্সেলোনার দর্শন। বল পায়ে থাকুক বা না থাকুক, আমাদের আত্মবিশ্বাস কতটা শক্ত তা এই জয়েই পরিষ্কার বোঝা যায়।’ ম্যাচের মাঝপথে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার রাফিনিয়াকে তুলে নেওয়ার পর তাঁর চোট বা রাগ নিয়ে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন কোচ। গত দিনে স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগুয়েলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার প্রভাবেই রাফিনিয়া কিছুটা মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত জানিয়ে ফ্লিক বলেন, ‘তেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগুয়েলের মর্মান্তিক প্রয়াণে রাফিনিয়া মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, ঠিক যেমনটা আমরা সবাই হয়েছি। এই নির্মম ট্র্যাজেডিতে তার পরিবার, ক্লাব ও সমর্থকদের প্রতি আমরা আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই। আমরা সবাই মানুষ এবং এত বড় একটা ট্র্যাজেডির পর মানসিক কষ্ট পেছনে ফেলে মাঠে শতভাগ দেওয়া সবসময় সহজ হয় না। অনেকেই ভাবছেন আমি রাফিনিয়ার ওপর রেগে গিয়ে তাকে তুলে নিয়েছি, কিন্তু আসল বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়।’
দীর্ঘদিন পর ডাচ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কি ডি ইয়ংয়ের মাঠে ফেরা নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ফ্লিক, ‘ডি ইয়ংয়ের প্রত্যাবর্তন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে অনুশীলনে এবং মাঠে খুব ভালো পারফর্ম করছে। চোট থেকে ফেরার পর স্বাভাবিকভাবেই তার শারীরিক ফিটনেস এখনো শতভাগে পৌঁছায়নি, যা একদমই স্বাভাবিক। আমাদের ধীরে ধীরে তাকে নিয়ে এগোতে হবে। স্কোয়াডের প্রতি পজিশনে আমরা একাধিক আন্তর্জাতিক মানের প্রতিভা চাই, আর ডি ইয়ংকে দিয়ে আমরা দুটি পজিশনেই সেই শক্তি পাই।’






