হৃদয়ে দাগ কেটে বিদায় তাদের

ক্লাব ফুটবলের ব্যাপারটাই এমন— খেলোয়াড় আসে, আবার চলেও যায়। এ আসা-যাওয়ার মাঝে কিছু খেলোয়াড় থাকেন ব্যতিক্রম, যারা সমর্থকদের হৃদয়ে দাগ কেটে যান। বার্সেলোনার ক্ষেত্রে এ নামটা সম্ভবত রবার্ট লেভানদোভস্কি। তিনি এমন সময় কাতালান ক্লাবটিকে বেছে নিয়েছিলেন, যখন আর্থিক সংকটে টালমাটাল অবস্থা। সাফল্য হয়ে গেছে দূরের বাতিঘর।
সব জেনেও বার্সেলোনাকে বেছে নিয়েছিলেন লেভানদোভস্কি। ন্যু ক্যাম্পে যোগ দিয়ে বলেছিলেন, ‘বার্সাকে সাহায্য করতেই এসেছি। এ ক্লাবকে আবার শীর্ষে নিয়ে আসব।’ পোলিশ স্ট্রাইকার পেরেছেন। সে কারণেই বিদায়বেলায় বলতে পারছেন, ‘আমার মিশন পূর্ণ হয়েছে।’
বিদায়ের ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন, সেটির আনুষ্ঠানিকতা হলো শনিবার রাতে। বার্সেলোনা খেলে ফেলেছে মৌসুমের শেষ ম্যাচ, যেটি লেভানদোভস্কির বিদায়ী ম্যাচ। ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে ৩-১ গোলে হেরেছে লিগ চ্যাম্পিয়নরা। অবশ্য ব্যক্তিগত জায়গায় কাতালানদের জার্সিতে গোল করেই বিদায় নিয়েছেন পোলিশ তারকা। বার্সার একমাত্র গোলটি তারই। সব মিলিয়ে ১৯৩ ম্যাচে ১২০ গোল। আক্ষেপ তার একটাই— লিগ শ্রেষ্ঠত্ব ফেরালেও চ্যাম্পিয়নস লিগে ব্যর্থ।
বিদায়ের পর্ব আছে রিয়াল মাদ্রিদেও। ২০২০-২১ মৌসুমে সের্হিয়ো রামোসের ক্লাব ছাড়ার পর গত পাঁচ মৌসুমে বিদায় নিয়েছেন পাঁচ অধিনায়ক। সর্বশেষ নামটি দানি কারভাহাল। রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলে বেড়ে উঠে কিছুদিন কাটিয়েছেন বেয়ার লেভারকুসেনে। এরপর রিয়ালের মূল দলে সুযোগ পেয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন ১৩ বছর। মাঠে তার লড়াকু মনোভাব ও নেতৃত্ব রিয়াল সমর্থকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা দিয়েছে। ছয়টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও চারটি লা লিগা জেতার আনন্দ নিয়ে বিদায় নিলেন সাদাশুভ্র জার্সিতে ৪৫১ ম্যাচ খেলা কারভাহাল।
শুধু কারভাহালের ২ নম্বর নয়, ফাঁকা হচ্ছে রিয়ালের ৪ নম্বর জার্সিও। বিদায় নিয়েছেন আরেক ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা। রিয়াল মাদ্রিদে তার জার্নিটা হাহাকার হয়েই রইল। যে প্রত্যাশা নিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তিনি এসেছিলেন বা নিয়ে আসা হয়েছিল, তার সামান্যই পূরণ হয়েছে। ইনজুরির বড় সমস্যা তো ছিলই, এর ওপর ফর্মহীনতায়ও ভুগেছেন অনেক। এ কারণেই পাঁচ বছরে রিয়াল মাদ্রিদ অধ্যায়ে খেলেছেন মোটে ১৩২ ম্যাচ।






