আবাসিক মাদরাসায় সিসিটিভি, পৃথক বেড ও কড়া নজরদারির সুপারিশ

সংগৃহীত ছবি
ধর্ষণ ইস্যুতে সাম্প্রতিক এক ফেসবুক পোস্টে আবাসিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অনাচার ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন, আবাসিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নানা ধরনের অনাচারের ঘটনা অস্বীকারের উপায় নেই এবং মাদরাসায় যৌন নিপীড়নের মতো ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে তিনি ২০১৯ সালে একটি লিখিত সুপারিশমালা দিয়েছিলেন, যা কমেন্টে যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে হজ সফরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি। তবে দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে ২০১৯ সালের ৬ জুলাই মসজিদ-মাদরাসায় যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ কয়েকটি পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ তুলে ধরেছিলেন।
প্রথম পর্যবেক্ষণে তার ভাষ্য ছিল, হুজুররাও মানুষ, তারা ফেরেশতা নন। তাদেরও কামনা-বাসনা ও প্রবৃত্তির তাড়না রয়েছে। ফলে লক্ষ লক্ষ হুজুরের মধ্যে দু-চারজনের অন্যায় কর্মকাণ্ডে অতিরঞ্জিত প্রতিক্রিয়া দেখানো যুক্তিযুক্ত নয়।
দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণে তিনি দাবি করেন, গণমাধ্যম সবসময় চমক সৃষ্টি ও ভিন্নধর্মী সংবাদ প্রচারে আগ্রহী থাকে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুজুরদের মাধ্যমে অপরাধ তুলনামূলক কম সংঘটিত হলেও ইসলামী পোশাকধারী কারও নেতিবাচক খবর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, বেশিরভাগ গণমাধ্যম বামপন্থী হওয়ায় এসব সংবাদ অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করা হয়।
তৃতীয় পর্যবেক্ষণে তিনি স্বীকার করেন, নানা কারণে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে, যা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এ থেকে উত্তরণের জন্য তিনি কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরেন।
সুপারিশে তিনি উল্লেখ করেন, মসজিদ স্টাফ নিয়োগে বিবাহিত এবং যথেষ্ট বয়স্ক হওয়ার শর্ত আরোপ করতে হবে। পাশাপাশি তাদের জন্য পারিবারিক আবাসনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
মসজিদের মকতব ব্যবস্থায় পর্যবেক্ষণের ঘাটতির কথা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, এসব স্থানে শিক্ষকরা অনেক সময় এককভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তাই মকতবকে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে সার্বিক মনিটরিং অব্যাহত রাখতে হবে, যাতে বড় কোনো ঘটনা ঘটার আগেই অনিয়ম শনাক্ত করা যায়।
আবাসিক মাদরাসার সব বিভাগ সম্পূর্ণ সিসিটিভির আওতায় আনার পাশাপাশি শিক্ষক ও স্টাফদের জন্য আচরণবিষয়ক কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সুপারিশ করেন তিনি।
এ ছাড়া আবাসিক মাদরাসায় ঢালাও বিছানা পদ্ধতি বাতিল করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য পৃথক খাট বা বেডের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা উল্লেখ করেন। শ্রেণিকক্ষ ও আবাসন একসঙ্গে না রাখার পরামর্শও দেন তিনি।
মাদরাসা শিক্ষকদের পরিবারের সঙ্গে বসবাসের সুযোগ এবং সে জন্য উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
নারী মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ করে তিনি উল্লেখ করেন, কেবল একজন বয়স্ক প্রহরী রাখা যেতে পারে। পুরুষ আগন্তুক বা অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ হবে ওই প্রহরীর মাধ্যমে এবং প্রয়োজনীয় লেনদেন সন্তান বা প্রহরীর মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরব-এর মেয়েদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরুষ হিসেবে কেবল প্রহরী থাকেন এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ধারণা নেওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থের অভাবে এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে তাদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা উচিত নয়।
পোস্টের শেষাংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ উল্লেখ করেন, মাদরাসাগুলো নীতি ও আদর্শের শেষ ঠিকানা হিসেবে বিবেচিত। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে মুসলিম সমাজের অন্যতম ভরসার জায়গাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।






