জঙ্গল সলিমপুর
মধ্যরাতে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলা, সাঁড়াশি অভিযান শুরু

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রামের অপরাধপ্রবণ জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ের পর দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী।
সোমবার রাত ১টার দিকে আকস্মিকভাবে সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এক বার্তায় জানান, সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ চালিয়েছে এ হামলা। জবাবে র্যাব প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে গুলিবিনিময়।
তিনি আরও বলেন, দুর্গম পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় প্রবেশ করেছেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা। চলমান রয়েছে অভিযান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাছে ‘দোয়া ও সমর্থন’ও কামনা করেন তিনি।
এ হামলার ঘটনা ঘটল এমন সময়ে, যখন আগামী ৩১ মে জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। রবিবার সকালে তার সফরসূচি সম্পর্কে অবহিত হয় প্রশাসন।
চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডসংলগ্ন সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি খাসজমি রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর। দীর্ঘদিন ধরে ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন ওই জমি দখল করে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে সেখানে। বর্তমানে এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস।
ভূমিদস্যু ও অপরাধী গোষ্ঠীর আস্তানা হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে ‘রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র’ বলেও উল্লেখ করেন স্থানীয়রা। সেখানে সক্রিয় কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম হলো মো. ইয়াসিনের নেতৃত্বাধীন ‘ইয়াসিন বাহিনী’।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতীতে একাধিকবার অভিযান চালালেও পুরো এলাকায় নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আহত হন আরও তিন সদস্য।
এরপর ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩ হাজার ২০০ সদস্য একযোগে অভিযান চালিয়ে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে সেখানে যৌথবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ওই এলাকায় কারাগার স্থানান্তরসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার।






