নিষেধাজ্ঞামুক্ত আবাহনী অপেক্ষায় কিংস

শেখ মোরসালিন ও তপু বর্মন
ফিফার নিষেধাজ্ঞামুক্তির অপেক্ষায় বসুন্ধরা কিংস। ছয়বারের লিগজয়ীদের নিবন্ধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়া এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার। অন্যদিকে ফিফার শাস্তিমুক্ত হয়ে কোনোমতে ঘর গুছিয়েছে আবাহনী লিমিটেড। অর্থাৎ গত মৌসুমের সেরা দুই দলকে নিয়ে শঙ্কার মেঘ কেটে গেছে অনেকটাই।
অথচ পেশাদার যুগের সবচেয়ে সফল দুই দলের আগামী মৌসুমে খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভুগছিল ক্লাব দুটি। দুটি ক্লাবের চ্যালেঞ্জ দুই রকমের। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন আবাহনী লিমিটেডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। আর ৫ আগস্টের পর গ্রেপ্তার হওয়া বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান ছিলেন ক্লাবটির সভাপতি। ডিরেক্টর ইনচার্জ কাজী নাবিল আহমেদও ছিলেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নির্ভরতাই আবাহনীর কাল হয়। নেতৃত্বশূন্যতা আর অর্থ সংকটে ভুগতে থাকে ক্লাবটি।
২০২৪ সালে শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্যে তিনজন ভালোমানের বিদেশির সঙ্গে চুক্তি করেও পরে তাদের আসতে বারণ করে আবাহনী। চুক্তি করে না খেলানোয় সেই তিন বিদেশি নালিশ করেন ফিফায়, নেমে আসে নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা কাটাতে কমবেশি ৬ কোটি টাকা গচ্চা দেওয়ায় আগামী মৌসুমের দলটি মনমতো গড়তে পারেনি আবাহনী।
পুরনো কোচ মারুফুল হককে ধরে রেখেছে তারা। দলবদলের বাজারে ভাটার টান থাকায় ভালো প্রস্তাব না পেয়ে গতবারের ফুটবলাররা অপেক্ষায় ছিলেন নিষেধাজ্ঞা মুক্তির। সেটা কাটতেই আবাহনী কম বাজেটে তাদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করে।
আবাহনীর ভাঙা হাটে জ্বলজ্বলে তারকা শেখ মোরসালিন, দুঃসময়ে আবাহনী ছাড়েননি জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক মিতুল মারমা, তরুণ স্ট্রাইকার মিরাজুল ইসলাম, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইয়াসিন খান ও হাসান মুরাদও থেকে গেছেন। এখনো বিদেশি চূড়ান্ত না করলেও শোনা যাচ্ছে শেষ মুহূর্তে দু-একজনের পাশাপাশি সাফ কোটায়ও কিছু খেলোয়াড় নেবে তারা।
বসুন্ধরা কিংসের মালিকানা দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের। ৫ আগস্ট-পরবর্তী এই গ্রুপ আছে বিষম চাপে। নানা অভিযোগে তাদের অনেক ব্যাংক হিসাব জব্দ। সুবাদে দিন যত গেছে বিদেশি খেলোয়াড়-কোচদের ফিফায় নালিশ ও শাস্তির সংখ্যা বেড়েছে। একটা সময় তা ১৪-তে পৌঁছে যায়। মানে এই ১৪ বিদেশির বকেয়া শোধ করে তাদের নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হতে হবে। দেরিতে হলেও সেই নিষেধাজ্ঞা তোলার উদ্যোগ নেয় বসুন্ধরা। এই দেরির সুযোগটা নেয় মোহামেডান, বসুন্ধরার ৯ ফুটবলারকে নিজের করে নিয়ে।
বর্তমানে বসুন্ধরার ১৪টি নিষেধাজ্ঞা নেমেছে চারটিতে। এর জন্য প্রায় ২৬-২৭ কোটি গুনতে হয়েছে ক্লাবটিকে। সভাপতি ইমরুল হাসান অনেকটাই নির্ভার— ‘আমরা এরই মধ্যে সব অর্থ পরিশোধ করেছি। আশা করছি দু-এক দিনের মধ্যেই সব নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। বসুন্ধরা অবশ্যই মাঠে থাকবে।’
বসুন্ধরা কিংস মাঠে থাকার খবরটা ভীষণ স্বস্তির, একঝাঁক ফুটবলারের জন্য। এ তালিকায় আছেন জাতীয় দলের বেশ কজন তারকাও। তপু বর্মণ, রাকিব হোসেন, সোহেল রানা সিনিয়র, বিশ্বনাথ ঘোষ, মেহেদী হাসান শ্রাবণরা দুঃসময়েও ক্লাব ছেড়ে যাননি। তাদের কেন্দ্র করেই ভেতরে ভেতরে দল গুছিয়েছে বসুন্ধরা। জানা গেছে, কানাডা প্রবাসী কাজেম শাহকে আবাহনী থেকে নেওয়ার পাশাপাশি সুশান্ত্র ত্রিপুরাকে ফেরাচ্ছে বসুন্ধরা। এ ছাড়া আলমগীর মোল্লা ও আব্দুল্লাহকে দেখা যেতে পারে কিংসের জার্সিতে। গত মৌসুমে আবাহনীতে খেলা নাইজেরিয়ান এমেকা ওগবাহর বসুন্ধরায় খেলা এক প্রকার নিশ্চিত। এ ছাড়া সাফ কোটায় কয়েকজনকে নেওয়ার চেষ্টা করছে তারা।
দুই বড় ক্লাবকে টিকিয়ে রাখতে বাফুফেও চরম ধৈর্য দেখিয়েছে এবার, বারবার বাড়িয়েছে দলবদলের সময়, পিছিয়েছে ঘরোয়া মৌসুম শুরুর দিন। ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হবে দলবদল। ১৮ সেপ্টেম্বর মাঠে গড়াবে ঘরোয়া মৌসুম।
স্বস্তির কথা, আগের মতো সর্বজয়ী রূপে না হোক, বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী মাঠে থাকছে এবং অবশ্যই মোহামেডানকে চ্যালেঞ্জ জানাতে।






