ভেন্যু বাদে সবই বেহাল

আর এক দিন পর ঢাকায় বসবে সাফের আসর। আট বছর পর এ শহরে হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট। অথচ এ নিয়ে ঢাকাবাসীর খুব বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। আগ্রহটা জন্মানোর কোনো রসদই যে দৃশ্যমান নয়। আয়োজনের সবকিছুতেই খামতি স্পষ্ট। প্রচার-প্রচারণা নেই বললেই চলে। তাই ঢাকাকে এবার ফুটবলের শহর বলা যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ চতুর্থবারের মতো স্বাগতিক এ টুর্নামেন্টে। তবে বাংলাদেশকে ঠিক আয়োজক বলা যাচ্ছে না। আয়োজনের পুরো দায়িত্বই সাফ নিজেদের নিয়ন্ত্রণের রেখেছে। মাঠ, গ্যালারি, প্রচার, টিকিট স্বত্ব, অতিথি দলগুলোর থাকা-খাওয়া সবকিছুই তাদের কবজায়। সাফ দায়িত্ব দিয়েছে টিএসএ নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানকে, যাদের এত বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। যেহেতু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়ন্ত্রণে সেভাবে কিছু নেই, তাই ফুটবল কর্তাদের মাঝেও আছে গা-ছাড়া ভাব।
সাফের টানা চারবারের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। আট বছর আগেও তিনি ছিলেন সাফের শীর্ষ আসনে। সেবার পুরো দায়িত্বই ছিল বাফুফের। মোটা দাগে একটা সফল টুর্নামেন্ট বাফুফে আয়োজন করেছিল। এবার সেরকমটা হচ্ছে না। সবকিছুতেই ঘাটতি স্পষ্ট বলেই আগামীর সময়ের কাছে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন সালাউদ্দিন নিজেও— ‘আয়োজন নিয়ে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। এর বেশি কিছু এখন বলতে পারছি না।’ সালাউদ্দিন অবশ্য কথা বলার অবস্থায়ও নেই। শেষ মুহূর্তে যেদিকেই তাকাচ্ছেন, সেখানেই অব্যবস্থাপনা। সাফ সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম কাট্টালের কাজটা কী বোঝা দায়।
জানা গেছে, অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশসহ পাঁচটি এখন ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছে। গতকাল মঙ্গলবার ভারত ও শ্রীলঙ্কা দল এসেছে। ভুটান এসেছে এক দিন আগে। পাকিস্তানের গতকাল রাতে নামার কথা। মালদ্বীপেরও আসার কথা ছিল। তবে সাফ থেকে সময়মতো টিকিট না পাওয়ায় তাদের আসা পিছিয়েছে। নিজ উদ্যোগে টিকিট কেটে তারা আসবে টুর্নামেন্ট শুরুর দিন।
আজ অংশগ্রহণকারী দলগুলো কখন, কোথায় অনুশীলনের সুযোগ পাবে, কেউ বলতে পারছে না। ম্যাচ কমিশনার প্রস্তাবিত একটি ট্রেনিং ভেন্যু আর্ম ব্যাটালিয়ন পুলিশ ফিল্ড বাতিল করেছেন। বসুন্ধরায় একটি ট্রেনিং গ্রাউন্ড, আরেকটি কিংস অ্যারেনা। সাফের যেকোনো টুর্নামেন্টের আগের দিন সব দলের কোচ, অধিনায়ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা। গতকাল রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি সম্মেলন ভেন্যু। ছয় দলের ম্যানেজার্স মিটিংয়ের সময় ও স্থান ঠিক হয়নি।
কোথাও কোনো ব্যানার-ফেস্টুন নেই, প্রচার-প্রচারণা হয়নি রাজধানীর কোনো প্রান্তে। বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল সাফের প্রস্তুতি নিয়ে বলতে গিয়ে একটু যেন দায়িত্ব এড়ালেন— ‘এই টুর্নামেন্ট সাফের। মূল আয়োজক তারাই। বাফুফের শুধু সাফকে সহযোগিতা করার দায়িত্ব। সাফ টিভি রাইটস, ব্র্যান্ডিং, টিকিট, গ্যালারি সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। আয়োজন নিয়ে আমি অবশ্যই কিছুটা হতাশ। টুর্নামেন্ট ঘিরে যে উন্মাদনা থাকা উচিত ছিল, সেটা নেই। তবে আশা করছি বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে চ্যাম্পিয়ন হবে।’
প্রথম দিনে বাংলাদেশের খেলা থাকা সত্ত্বেও অনেক টিকিট রয়েছে অবিক্রীত। সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ সেভ বাংলাদেশ ফুটবলের অ্যাডমিন দ্বীন মোহাম্মদ হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘সাফ কিংবা দেশের ফুটবল এখনো ওই পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে টিকিট মূল্য ১ হাজার টাকা করতে হবে। এক টিকিট দিয়ে দুই ম্যাচ দেখানোর সিদ্ধান্তটাও হতাশাজনক। মানুষ কেন এত সময় গ্যালারিতে কষ্ট করবে? কারণ একবারই টিকিট দিয়ে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। দুই ম্যাচের মাঝখানে আড়াই ঘণ্টা কী করবে তারা। অতীতে কয়েক মিনিটের মধ্যে আমরা ম্যাচ টিকিট বিক্রি হতে দেখেছি। এবার টিকিট মূল্য, অনলাইনে মূল্য পরিশোধে যথেষ্ট বিকল্প না থাকা এবং টুর্নামেন্ট ঘিরে প্রচার-প্রচারণা ঠিকঠাক হয়নি বলেই মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’
দেখা যাচ্ছে, সাফের মূল ভেন্যু ঢাকা স্টেডিয়াম ছাড়া কিছুই প্রস্তুত নয়। খেলার মাঠটি বাদ দিলে সবখানেই হ-য-ব-র-ল অবস্থা।



