ফিফা বিশ্বকাপ
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দর্শকের টিকিটের দাম বেড়েছে ৪৫ গুণ

কাতার বিশ্বকাপের ১০ ডলারের টিকিট এবার বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ ডলারে। ছবি: সংগৃহীত
দিনশেষে খেলাটা তো দর্শকের জন্যই। সেই দর্শক যদি হন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন কেউ, গ্যালারির পরিবেশটাও বদলে যায়। ক্লাব ফুটবল থেকে বিশ্বকাপ, বিশেষ দর্শকের জন্য বরাবরই থাকে বিশেষ ব্যবস্থা। তবে এবারের বিশ্বকাপে দেখা যাবে একেবারেই উল্টো রূপ। নানা জটিলতায় বিশ্বকাপের গ্যালারিতে হয়তো দেখাই যাবে না হুইলচেয়ারে বসা সমর্থকদের।
ম্যাচ দেখতে হলে প্রথমেই পেতে হবে টিকিট। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ম্যাচ দেখতে আসার অপেক্ষায় আছে লাখো সমর্থক। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ফুটবল ভক্তরাও চার বছর ধরে এই মুহূর্তের প্রহর গুণছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অবশ্য টিকিট পাওয়া নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন সমর্থকরা।
ইংল্যান্ডের জো ম্যাকনিকোলের কথাই ধরুন। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সমর্থক জানিয়েছেন, হুইলচেয়ারে গিয়ে বসার মতো টিকিট পেতেই বেগ পোহাতে হচ্ছে তাকে, ‘যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কানাডায় বিশ্বকাপ হবে শুনে আমি খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম। দেশগুলো যাতায়াত ব্যবস্থা, হোটেল ও অন্য ব্যাপারগুলোতে কোন চিন্তার অবকাশ নেই। কিন্তু টিকিটই তো পাচ্ছি না! বিশেষ করে হুইলচেয়ারের জন্য যেসব টিকিট আলাদাভাবে বরাদ্দ থাকতো, সেগুলোকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।‘
টিকিট যদি আপনি পেয়েও যান, সেখানেও স্বস্তি নেই। হুইলচেয়ারে বসে খেলা দেখার জন্য আপনাকে গুণতে হবে দ্বিগুণ দাম! সবচেয়ে কম মূল্যের টিকিট ক্যাটাগরিতে হুইলচেয়ারে খেলা দেখার সুযোগই যে রাখা হয়নি।
কাতার বিশ্বকাপে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সমর্থকদের জন্য টিকিটের সর্বনিম্ন মূল্য ধরা হয়েছিল ১০ ডলার। এবার সেটা বেড়েছে কয়েকগুণ। তাদের এই টিকিট বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ৪৫০ ডলারে। কাতারে যে দর্শক ১০ ডলারে টিকিট কিনেছেন, এবার ৪৫০ ডলারেও কিনতে হচ্ছে সেই টিকিট। মানে দাম বেড়েছে ৪৫ গুণ!
শুধু টিকিটের মূল্য নয়, হুইলচেয়ারে করে বিশ্বকাপের ম্যাচ উপভোগ করতে এসে আরেকটি বাধার মুখে পড়বেন সমর্থকরা। ম্যাকনিকোল জানালেন কেমন ধরনের জটিলতা অপেক্ষা করছে এমন সমর্থকদের জন্য, ‘আমার সঙ্গী হিসেবে কেউ মাঠে প্রবেশ করতে পারবে কি না, সেটার নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে না। মাটিতে যদি আমার কিছু পড়ে যায়, সেটা তোলার কেউ নেই। আমি যদি বাথরুমে যেতে চাই, আমাকে অন্যের সাহায্য নিতে হবে। এ ছাড়া নিজের পছন্দের মানুষদের সঙ্গে বসার সুযোগ থাকছে না। অচেনা মানুষের সঙ্গেই হয়তো ম্যাচ উপভোগ করতে হবে।’
ফিফার এমন অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ বিশ্বের নানা প্রান্তের সমর্থকরা। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ গ্রুপের সদস্য জেমস ফ্ল্যানাগন ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, এই সমস্যার সমাধান ফিফাকেই করতে হবে, ‘ফিফার উচিত বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন দর্শকের ব্যাপারে আলাদাভাবে ভাবা। তাদের অসুবিধার দিকগুলো ভেবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কে তাদের সঙ্গে খেলা দেখবে, তারা কীভাবে মাঠে প্রবেশ করবে, সবকিছুই ফিফার দায়িত্ব। আমার মনে হয় না কোন দর্শকের সঙ্গে আলোচনা করে এবারের নিয়মগুলো তৈরি করা হয়েছে। আশা করি ফিফা আরও মানবিকভাবে ব্যাপারটা ভেবে দেখবে।’

