কেন বিশ্বনাথকে দেখা গেল স্ট্রাইকার হিসেবে?
- ব্যখ্যা দিলেন ডুলি

ছবি: আগামীর সময়
সংবাদ সম্মেলনে এসে টমাস ডুলি প্রথমেই বললেন, ' আমি দুঃখিত, আমার গলার অবস্থা খুবই খারাপ।' তবে এরপর ছুটিয়েছেন কথার রেলগাড়ি। ভুটানের বিপক্ষে পাকেচক্রে পাওয়া গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে ডুলির কন্ঠে সুযোগ নষ্টের আফসোস। সেই সঙ্গে শুনিয়েছেন বিশ্বনাথ ঘোষকে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর পেছনের ভাবনার ফিরিস্তি।
ফুটবলে বেশি গোল করা দল জেতে। গোল করার জন্য চাই ফরোয়ার্ড, যে কাজটা বিশেষায়িত দক্ষতার। পৃথিবীতে অনেক দলই 'ফলস নাইন' নিয়েও খেলে, তবে একজন ডিফেন্ডারকে স্ট্রাইকার বানিয়ে দেয়ার উদাহরণ স্কুল পর্যায়ের পরে খুব একটা পাওয়া যাবে না। ডুলি সেটাই করেছেন, বিশ্বনাথ ঘোষকে বানিয়ে দিয়েছেন সেন্টার ফরোয়ার্ড। এরপর সংবাদ সম্মেলনে এসে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইলেন ডুলি, 'হ্যাঁ, মানে, এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। আমাদের কোনো ‘নাম্বার নাইন’ (স্ট্রাইকার) নেই, আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। আর বিশ্বনাথের কথা যদি বলেন, সে... একজন বেশ আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়। আমরা যখন (সান মারিনোয়) ইতালি গিয়েছিলাম, আমি তাকে তখনই বলেছিলাম—সে সাধারণত যেখানে সেন্টার-ব্যাক পজিশনে খেলে, সেখানে তাকে খেলানো আমার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ সে এতটাই আগ্রাসী এবং তীব্র গতিতে খেলে যে পেনাল্টি বা লাল কার্ড দেখার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।'
সেই চিন্তা থেকেই তাকে স্ট্রাইকারে নামিয়ে দিয়েছেন ডুলি, 'এ কারণেই আমি বলেছিলাম, তার একমাত্র পজিশন হতে পারে রাইট-ব্যাক, সে সেখানেও খেলতে পারে। তবে রাইট-ব্যাকে খেললেও মাঝেমধ্যে তাকে বক্সে চলে যেতে হয়। তাই সান মারিনোয় আমাকে তাকে ফাহিমের বদলি হিসেবে রাইট ফরোয়ার্ড হিসেবে নামাতে হয়েছিল, এবং সে অসাধারণ পারফর্ম করেছে। গোলরক্ষকের বিপক্ষে তার দুটি সুযোগ এসেছিল, সে দ্বিতীয় গোলটিতে অ্যাসিস্ট করেছে। সে মাঠে যেভাবে অফুরন্ত শক্তি নিয়ে খেলে, কোনো ডিফেন্ডারের পক্ষেই এমন কাউকে সামলানো খুব কঠিন। কারণ সে থামে না, পুরো শক্তি দিয়ে দৌড়াতে থাকে। আর এই বিষয়টিই আমার ওর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগে।'
বাংলাদেশের ফুটবলার থেকে শুরু করে কর্মকর্তা, সবার জীবনেই যেন পরম লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, আর সেই আসরের প্রথম ম্যাচের এক সপ্তাহ আগে কোচ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ডিফেন্ডারকে স্ট্রাইকার বানিয়ে ফেলার, 'গত সপ্তাহে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে বলেছি যে আমার একটা পরিকল্পনা আছে। যেহেতু সাদ ডান প্রান্তে দুর্দান্ত খেলছে এবং রক্ষণভাগও দারুণ ছন্দে আছে, তাই তোমার ( বিশ্বনাথ) প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়াটা বেশ কঠিন। কিন্তু আমি তাকে খেলাতে চাই। আমি তাকে এমন একটা পজিশনে রাখতে চাই যেখানে সে আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারবে, আর সেটি হলো আক্রমণভাগে। ‘নাম্বার নাইন’ হিসেবে আপনাকে ঠিক সেখানেই যেতে হবে যেখানে বলের জন্য লড়াই করতে গিয়ে ব্যথা পাওয়ার ঝুঁকি থাকে, আর সে ওই চ্যালেঞ্জ নিতে একটুও ভয় পায় না। সে ঠিকই সেখানে যায়, তাই আমি খুব আশা করছিলাম সে যেন একটা গোলের সুযোগ পায়... যদিও ভাগ্য সহায় না থাকায় সে বল জালে জড়াতে পারেনি। তবে যা হোক, তার পারফরম্যান্সে আমি খুবই খুশি।’
তবে খুশির উপলক্ষ্য এনে দিতে পারেননি বিশ্বনাথ। ৬৪ মিনিটে তাকে আর জামাল ভুইয়াকে তুলে নেন কোচ, নামান মিডফিল্ডার সোহেল রানা ও ফর্টিস এফসি'র ফরোয়ার্ড ইব্রাহিমকে। সেই ইব্রাহিমের গোলে ভুটানের কাছে পয়েন্ট খোয়ানোর লজ্জা থেকে বেঁচেছে বাংলাদেশ।



