‘নিরাপত্তার স্বার্থে কাউকে জার্সি দেব না’: মরক্কান তারকার অদ্ভুত দর্শন

২০২৫ সালের যুব বিশ্বকাপে মরক্কোর শিরোপা জয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন ওসমান।
ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় বা গ্যালারির সমর্থকদের সঙ্গে জার্সি বদলানো ফুটবলের এক চিরাচরিত দৃশ্য। কিন্তু মরক্কোর তরুণ সেনসেশন ওসমান মাম্মার কাছে বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। ওয়াটফোর্ডের এই তারকা ফুটবলার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের ব্যবহৃত জিনিস অন্যের হাতে তুলে দিতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কারণ এতে নাকি তার ‘নিরাপত্তা’ বিঘ্নিত হতে পারে!
২০২৫ সালের যুব বিশ্বকাপে মরক্কোর শিরোপা জয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছিলেন ওসমান। একইসঙ্গে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছিলেন। মাম্মা মনে করেন, তার ব্যক্তিগত জিনিস অন্য কাউকে দিলে সেটার অপব্যবহার হততে পারে। মরক্কোর সংবাদপত্র ‘আল-বাতাল’-এ প্রকাশিত তার এই মন্তব্য ফুটবল অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যক্তিগত দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মরক্কোর ফুটবলের ভবিষ্যৎ মাম্মা বলেন, ‘আমি এমন কেউ নই যে অন্যের কাছে জার্সি চাইব বা নিজের জার্সি কাউকে দিয়ে দেবে। ম্যাচ শেষে আমি সমর্থকদের অভিবাদন জানাই এবং দল জিতলে সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করি। আর হারলে সরাসরি ড্রেসিংরুমে চলে যাই।’
জার্সি হাতবদল না করার পেছনে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মাঝে মাঝে জার্সি উপহার দেওয়াটা ভালো দেখায়, কিন্তু আমি খুব সতর্ক থাকতে পছন্দ করি। আপনার ব্যবহৃত জিনিস নিয়ে অন্য কেউ কী করবে, তা আপনি কখনোই জানতে পারবেন না। তাই আমি সতর্ক থাকি, খুব বেশি কিছু কাউকে দিই না এবং নিজেকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করি।’
ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জার্সি বা বুট নিয়ে ভক্তদের উন্মাদনা নতুন কিছু নয়। তবে ‘নিরাপত্তা’র দোহাই দিয়ে কোনো ফুটবলারের এমন কড়া অবস্থান আগে খুব একটা দেখা যায়নি। ওসমান মাম্মার এই সতর্ক মানসিকতা কি মাঠের বাইরের কোনো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ফল, নাকি স্রেফ কুসংস্কার—তা নিয়ে এখন সমর্থকদের মধ্যে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ।















