ডাকাতদের কবলে বাস, গুলিতে প্রাণ হারালেন ফুটবলার

ডাকাতের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ফ্রিমপং। ছবি: সংগৃহীত
বাসে ছিলেন ঘানা প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব বেরেকুম চেলসির ফুটবলাররা। সামনেই ডাকাত দল। বিপদ আঁচ করতে পেরে বাসকে পেছনে নেওয়ার চেষ্টা করেন চালক। তখনই হাতে থাকা মারণাস্ত্রের ট্রিগার চাপে তারা। একটি বুলেট গিয়ে বিদ্ধ হয় ডমিনিক ফ্রিমপংয়ের শরীরে। উদীয়মান এই ফুটবলারকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।
গত রবিবার সামরেবোইতে সামারটেক্সের বিপক্ষে একটি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলে ফেরার পথে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জিএফএ) জানিয়েছে, দলটিকে বহনকারী বাসটি গোয়াসো-বিবিয়ানি সড়কে পৌঁছলে একদল মুখোশধারী ও সশস্ত্র ডাকাত তাদের রাস্তা অবরোধ করে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীদের হাতে বন্দুক ও অ্যাসল্ট রাইফেল ছিল। চালক বাসটি উল্টোদিকে ঘুরিয়ে বিপদমুক্ত হওয়ার চেষ্টা করতেই ডাকাত দল বাসটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে দলের অন্যান্য খেলোয়াড় এবং স্টাফরা কাছের ঝোপঝাড়ে আশ্রয় নিলেও, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ফ্রিমপং প্রাণ হারান। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চললেও, সন্দেহভাজন কাউকে এখনো আটক করা যায়নি।
আজ সোমবার এক বিবৃতিতে ঘানা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই ঘটনায় গভীর শোক জানিয়েছে। নিহত খেলোয়াড়ের পরিবার, সতীর্থ এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে তারা লিখেছে, ‘ডমিনিক ছিলেন একজন সহজাত প্রতিভাবান খেলোয়াড়, যিনি আমাদের লিগের মূল চেতনাকে দারুণভাবে ধারণ করতেন। এটি পুরো ঘানা ফুটবলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’
এ বছরের জানুয়ারিতেই আদুয়ানা এফসি থেকে ধারে বেরেকুম চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন ফ্রিম্পং। প্রিমিয়ার লিগের শেষ পর্যন্ত তার খেলার কথা ছিল। চলতি মৌসুমে ১৩টি ম্যাচ খেলে তিনি দুটি গোল করে নিজের প্রতিভার ছাপও রেখেছিলেন।
ফুটবলারদের যাতায়াত পথে এমন নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘানায় এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও সামারটেক্সের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ফেরার পথে ‘লেগন সিটিস’ দলের বাসে প্রায় একই রকম হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যদিও সেবার কেউ হতাহত হননি।
জিএফএ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য ঘানার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ঘরোয়া ম্যাচগুলোতে ক্লাবগুলোর যাতায়াতের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।

















