নেইমারের ফিট হওয়ার রহস্য

বিশ্বকাপ দলে যোগ দেওয়ার পর থেকে কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন নেইমার। তিনি যেমন জানেন, এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ, তেমনি ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিও জানেন, শিরোপা জিততে নেইমারের মতো ‘এক্স ফ্যাক্টর’ দরকার। তাই নানা ধাপে চলেছে নেইমারকে ফিট করে তোলার চেষ্টা। একের পর এক রক্ত পরীক্ষা, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার আর মেডিকেল দলের আন্তরিকতায় নেইমার এখন তৈরি স্কটল্যান্ড ম্যাচের জন্য।
গত ২৭ মে দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নেইমারকে নিয়ে ডাক্তার, ফিজিক্যাল ট্রেইনার, ফিজিওথেরাপিস্ট, পারফরম্যান্স অ্যানালিস্টদের সমন্বয়ে গড়া হয়েছিল একটি দল। কোচ কার্লো আনচেলত্তি আর অন্য কোচিং স্টাফরাও ছিলেন তাদের সঙ্গে। এই প্রক্রিয়ায় আনচেলত্তি নিজেই ভ্রমণ ক্লান্তি এড়াতে নেইমারকে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দলের সঙ্গে নেননি। সেই ম্যাচ শেষে নেইমার বল নিয়ে অনুশীলন করেছেন দলের সঙ্গে। আর উচ্ছ্বাস জানিয়ে বলেছেন, ‘হে ঈশ্বর, তোমাকে ধন্যবাদ। আমি সত্যিই অনেক খুশি।’
বারবার রক্ত পরীক্ষা
কোচিং স্টাফদের লক্ষ্য ছিল নতুন কোনো ইনজুরির ঝুঁকি না বাড়িয়ে কীভাবে নেইমারকে তার আদর্শ শারীরিক সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা যায়। এজন্য তৈরি করা হয় একটি বিশেষ ‘মাসল স্ট্রেন্থেনিং’ বা পেশিশক্তি করার সূচি। সেখানে বিশেষ জোর দেওয়া হয় তার পায়ের ওপর। ডান পায়ের কাফ মাসলের চোট সেরে ওঠার পর নেইমার কাজ করেছেন পেশির ভর বৃদ্ধিতে। নেইমারের শরীর কতটা ধকল সামলাতে পারছে, কোনো ক্লান্তি আছে কি না এবং অনুশীলনের মাত্রার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে পারছে কি না— তা পরিমাপ করতে ঘন ঘন রক্ত পরীক্ষা করা হতো। এই তথ্য জিম এবং মাঠে তার অনুশীলনের সময় সাহায্য করেছে। এ ছাড়া স্ক্যান বা এক্স-রে থেকে পাওয়া নতুন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে জিমে ও মাঠে দুইবেলা তার ব্যায়ামের ধরন সমন্বয় করা হতো।
প্রযুক্তির ছোঁয়া
অনুশীলনের সময় নেইমারের শরীরে জিপিএস সিস্টেম যুক্ত করা ছিল। তিনি কতটা দূরত্ব দৌড়াচ্ছেন, তার গতি বাড়ানো-কমানোর হার, সর্বোচ্চ গতি ও স্প্রিন্টের পরিমাণ নিখুঁতভাবে রেকর্ড করা হতো তা দিয়ে। এই তথ্যগুলো মেডিকেল রিপোর্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হতো, যেন কোচিং স্টাফরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে একটি নিখুঁত ও বাস্তব চিত্র পেতে পারেন। নেইমার একটি ‘অ্যান্টিগ্রাভিটি ট্রেডমিল’ও ব্যবহার করেছেন, যা চোট পাওয়া অংশে কোনো অতিরিক্ত চাপ বা আঘাত ছাড়াই হাঁটা এবং দৌড়ানোর সুবিধা দেয়। তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি ধাপ সাবধানে করাতেই সম্ভব হয়েছে নেইমারের ফিট হয়ে ওঠা।




