লক্ষ্ণৌতে ভবনে আগুন, শিশুসহ নিহত ১৪

সংগৃহীত ছবি
ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌর আলীগঞ্জ এলাকায় একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে লেগেছে আগুন। এতে নিহত হয়েছেন শিশুসহ অন্তত ১৪ জন। সোমবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।
নিহতদের মধ্যে প্রায় এক ডজন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। এ ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, আগুন ও ধোঁয়া থেকে বাঁচতে ভবনের শৌচাগারে আশ্রয় নিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। পরে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির মালিক বীরেন্দ্র শুক্লা। সেখানে একটি গ্রাফিকস সেন্টার পরিচালনা করতেন তার ছেলে অখিলেশ শুক্লা। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে আসেননি কেউ এবং তাদের বাসভবনে গিয়েও পাওয়া যায়নি কাউকে।
ভবনের নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান এবং ওপরের তলায় গ্রাফিকস ও অ্যানিমেশন প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল। তবে ভবনটিতে আর কী ধরনের কার্যক্রম চলত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক বলছেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে আছে সরকার। সত্যিই খুব দুঃখজনক একটি ঘটনা।’
ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে ১৪টি ফায়ার টেন্ডার। এর মধ্যে ছিল একটি হাইড্রোলিক প্ল্যাটফর্ম গাড়িও।
প্রত্যক্ষদর্শী আমান বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, ‘এখানে একটি লাইব্রেরি বা কম্পিউটার শেখার প্রতিষ্ঠান আছে। আমরা এসে দেখি, ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। আমরা পাঁচ-ছয়জনকে বাঁচাতে পেরেছি। আগুন লাগার পর এক ব্যক্তি ভবন থেকে লাফ দেন।’
ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আহতদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি জানান, ‘উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় শোকাহত আমি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমার সমবেদনা। আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন, এই কামনা করি।’




