নুরুল ইসলাম লাগিয়েছেন লক্ষাধিক গাছ

নিজের লাগানো গাছের পরিচর্যা করছেন নুরুল ইসলাম। ছবি: আগামীর সময়
দেশে বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ায় চিন্তাগ্রস্ত শিক্ষক নুরুল ইসলাম। আর এ চিন্তা থেকেই তিনি প্রথমদিকে তালগাছ রোপণ শুরু করেন ফরিদপুরের বিভিন্ন রাস্তার পাশে। লক্ষ্য, বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করা। পরে তিনি জেলার বিভিন্ন সড়কে তালগাছের পাশাপাশি লাগিয়েছেন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ।
প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে একটি শুভকাজ দিয়ে যাত্রা শুরু হয় নুরুল ইসলামের। তিনি শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় রোপণ করেছেন নানা প্রজাতির গাছ। এসব গাছের পরিচর্যাও করেন। গাছগুলো যেমন মানুষের উপকারে আসছে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ টেপাখোলা এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম (৪৭)। তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে রসায়ন বিভাগে স্নাতকোত্তর পাস করে ফরিদপুর সরকারি গার্লস স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার।
পরিবেশ-প্রকৃতি এবং নদী রক্ষায় তালবীজের পাশাপাশি তিনি রোপণ করেছেন রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, খেজুর ও সুপারিগাছ। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে নদীতে প্লাস্টিক বর্জ্য না ফেলার আহ্বান-সংবলিত বিলবোর্ডও স্থাপন করেছেন। বৃক্ষপ্রেমী নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সাত বছরে তিনি জেলায় রোপণ করেছেন লক্ষাধিক বৃক্ষ।
দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই গাছ রোপণের উৎসাহ পান তিনি। এ কাজে তাকে বেশ উৎসাহ দেন পরিবারের সদস্যরাও। আত্মতৃপ্তি থেকে মানুষকে সাহায্য আর প্রকৃতি সবুজায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
নুরুল ইসলাম মনে করেন, সবাই মিলে ভালো ভালো কাজ করলে দেশে দারিদ্র্য কমে যাবে, প্রকৃতি ফিরে পাবে তার নিজস্ব রূপ, কমবে দূষণ। এ কারণে শিক্ষকতার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই এসব কাজে মন দেন নুরুল ইসলাম।
তিনি আরও বললেন, ‘২০১৯ সাল থেকে বৃক্ষরোপণের কাজ শুরু করি। ওই বছর ফরিদপুর শহর ও শহরতলির বিভিন্ন রাস্তার পাশে কয়েক হাজার তালগাছ, রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়াগাছ রোপণ করি।’
নুরুল ইসলামের স্বপ্ন— শহর জুড়ে একদিন লাল-সবুজের খেলা হবে। দূর থেকে মানুষ দেখতে আসবেন এ শহর। এ কারণে শহরের ভেতরে বেশি লাগানো হয়েছে কৃষ্ণচূড়াগাছ। তার প্রধান লক্ষ্য, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তালগাছের কয়েক লাখ বীজ লাগানো।
ফরিদপুরের শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আলতাফ হোসেন বললেন, মানুষের ভালোবাসা পাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। অনেক কিছুর বিনিময়ে এটি অর্জন করতে হয়। বৃক্ষপ্রেমিক নুরুল ইসলাম শহরের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়ে চলেছেন। প্রচারবিমুখ এই যুবক গাছ লাগানো ও পরিচর্যার পাশাপাশি প্রতি মাসে নীরবে কিছু মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করেন। তার ভালো কাজগুলো দেখেই বোঝা যায়, প্রবল আন্তরিকতা আর বুকের ভেতরে ভালোবাসার আকাশ ছাড়া এগুলো করা সম্ভব নয়।




