দুই গোলে পিছিয়েও রোমাঞ্চকর জয় ইউনাইটেডের

সংগৃহীত ছবি
প্রিমিয়ার লিগ কিংবা চ্যাম্পিয়নস লিগ; দুই টুর্নামেন্টেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বেহাল দশা। লিগে তারা আছে ১৭তম অবস্থানে। সব টুর্নামেন্ট মিলিয়ে টানা ৯ ম্যাচে জয়হীন । ১৯৮৪ সালের পর এত খারাপ সময় আর আসেনি তাদের। কোচ মাইকেল ক্যারিকের চাকরিটা ঝুলছিল সুতোয়।
সেই ইউনাইটেড চ্যাম্পিয়নস লিগে পেল রোমাঞ্চকর জয়। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ২ গোলে পিছয়েও এ্রস রোমাকে হারাল ৩-২ ব্যবধানে। জোড়া গোলে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নায়ক ম্যাথিয়াস কুনিয়া। অপর গোলটি ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ২০০১ সালের পর প্রথমবার ইংল্যান্ডে কোনো ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে জয়ের আশা জাগিয়েও হার নিয়ে ফেরে রোমা।
ইউরোপ সেরার মঞ্চে চলতি আসরে এটা তাদের দ্বিতীয় জয়। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে প্রথম জয় পেল তারা। তাতে আপাতত হয়ত টিকে গেলেন ক্যারিক।
প্রথমার্ধে ১৭ মিনিটেই ২ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইউনাইটেড। ম্যাতিয়াস সুলে এবং ডনিয়েল মালানের গোলে এগিয়ে যায় রোমা। তখন মনে হচ্ছিল কোচ মাইকেল ক্যারিকের বরখাস্ত হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার।
এই জোড়া গোল ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের পরিবেশ বিষিয়ে তোলে। ক্লাবের মালিকানার বিপক্ষে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে মাঠে সবুজ টেনিস বল ছুঁড়ে মারেন দর্শকরা। স্লোগান উঠতে থাকে গ্লেজার পরিবার, শেয়ারহোল্ডার স্যার জিম র্যাটক্লিফ এবং ডিরেক্টর অব ফুটবল জেসন উইলকক্সের বিপক্ষে।
৭০ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে আসা মিডফিল্ডার কার্লোস বালেবা হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে মাঠ ছাড়লে ইউনাইটেডের দুর্যোগের মেঘ আরও ঘনীভূত হয়।
তারপরও খাদের কিনারা থেকেও ঘুরে দাঁড়ায় ইউনাইটেড। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে এক গোল ফেরান ফার্নান্দেজ। কুনিয়াকে ডি বক্সে রোমার জানলুকা মানচিনি ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। শুরুতে ফার্নান্দেজের স্পট কিক ঠেকিয়ে দেন রোমা গোলরক্ষক। তবে শট নেওয়ার আগেই ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে ডি বক্সে ঢুকে পড়ায় আবার র শট নেওয়ার সুযোগ পান ইউনাইটেড অধিনায়ক। এবার সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি।
এরপর ৮৩ মিনিটে লিওনার্দো বালের্দির ভুল কাজে লাগিয়ে সমতা ফেরান কুনিয়া। দুরূহ কোণ থেকে তার গতিময় শট জড়ায় জালে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র চার মিনিট আগে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডই নিশ্চিত করেন দলের জয়। ইনজুরি টাইমে কুনিয়া লাল কার্ড দেখলেও ইউনাইটেডের জয়ের নায়ক তিনিই।



