অলিম্পিকে ফিরল ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়া

সংগৃহীত ছবি
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বছরের পর বছর দাপট দেখিয়েছে তারা। বিশেষ করে অলিম্পিক এলে রাশিয়ান অ্যাথলেটদের জাদু দেখতে মুখিয়ে থাকতো পুরো বিশ্ব। সেই রাশিয়াইহারিয়ে গিয়েছিল সবকিছু থেকে। ডোপ কেলেঙ্কারির সঙ্গে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা; হারিয়ে যাওয়া সেই রাশিয়া দীর্ঘদিন পর ফিরেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। সেনেগালের ডাকারে শুরু হওয়া যুব অলিম্পিক দিয়ে বড় মঞ্চে ফিরল হারিয়ে যাওয়া ‘নিষিদ্ধ’ রাশিয়া। সর্বশেষ তারা বড় মঞ্চে খেলেছিল ২০২০ সালে লুসানের শীতকালিন যুব অলিম্পিকে। ৬ বছর পর তারা ফিরল ডাকারে শুরু হওয়া যুব অলিম্পিক দিয়ে।
আফ্রিকার মাটিতে ফিরল নিষিদ্ধ রাশিয়া
দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার পর ২০২৬ সালে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে রাশিয়ান ক্রীড়াঙ্গন। এই বছরে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে আইওসি। গত জুলাইয়ে সাময়িকভবে তুলে নেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আর এতেই সেনেগালে চলমান যুব অলিম্পিকে ফিরেছে রাশিয়ান পতাকা।
৩১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনেকদিন পর রাশিয়ান অ্যাথলেটরা তাদের পতাকা নিয়েই প্যারেডে অংশ নিয়েছেন। সেখানে তারা জিতেছে পদকও। ডাকারে অংশ নিয়েছেন ১৩ জন রাশিয়ান অ্যাথলেট। প্রায় ২৭০০ অ্যাথলেটের এই অলিম্পিকে ২৫টি খেলায় রয়েছে ১৫৩টি ইভেন্ট।
অ্যাথলেটিক্সের পর ফুটবলসহ বাকি সব খেলাতেও অংশ নিতে পারবে রাশিয়ান দলগুলো, আশা করা হচ্ছে এমনটাই। কেননা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক আইস হকি ফেডারেশনকে নির্দেশ দিয়েছে, ২০২৬-২৭ মৌসুমে তাদের সব টুর্নামেন্টে রাশিয়াকে খেলতে দেওয়ার।
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ডোপিং কেলেঙ্কারি (২০১৪–২০১৯)
২০১৪ শীতকালীন অলিম্পিক। রাশিয়ান অ্যাথলেটদের দিকে উঠল ডোপিংয়ের অভিযোগ। সেই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করল দেশটি। দীর্ঘ এক তদন্তের পর বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর এক তথ্য। দেশটির সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা সরাসরি অ্যাথলেটদের ডোপ টেস্টের নমুনা বদলানোর সঙ্গে জড়িত ছিল!
এই ঘটনায় বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা রাশিয়াকে ৪ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া থেকে নিষিদ্ধ করে। পরে অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত সেটা কমিয়ে ২ বছর করে। এই নিষেধাজ্ঞায় বড় ধাক্কা খায় রাশিয়ান ক্রীড়া জগত।
ইউক্রেন আক্রমণ ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা (২০২২)
ডোপিংয়ের সেই নিষেধাজ্ঞার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক বিপাকে পড়ে রাশিয়া। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে। দেশটির বিরুদ্ধে তখন পুরো ইউরোপ একজোট। শুধু কী ইউরোপ, বিশ্বজুড়ে এই আগ্রাসনে নিন্দার ঝড় উঠল।
সেই আগ্রাসনের প্রভাব পড়ল ক্রীড়াঙ্গনেও। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি , ফিফা, উয়েফা সহ প্রায় সব বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থা রাশিয়ান ও বেলারুশিয়ান অ্যাথলেটদের নিষিদ্ধ করার সুপারিশ করে।
২০২৩ সালে দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলোর আঞ্চলিক অলিম্পিক পরিষদকে স্বীকৃতি দেওয়ায় রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটিকেও স্থগিত করে আইওসি।
এই নিষেধাজ্ঞার কার্যত ক্রীড়া বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাশিয়া।
নিষেধাজ্ঞায় যেসব বড় টুর্নামেন্টে খেলতে পারেনি রাশিয়া
২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ (কাতার): বাছাইপর্বের প্লে-অফ খেলার কথা থাকলেও ফিফা ও উয়েফা নিষিদ্ধ করায় রাশিয়া প্লে-অফ ম্যাচ না খেলেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ে।
ইউরো ২০২৪ (জার্মানি): ইউরোপীয় ফুটবলের এই শীর্ষ টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব থেকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়া হয়।
উয়েফা ক্লাব টুর্নামেন্ট (চ্যাম্পিয়নস লিগ, ইউরোপা লিগ): ২০২২ সালের পর থেকে রাশিয়ার কোনো ফুটবল ক্লাবকে উয়েফার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেনি।
টোকিও অলিম্পিক ২০২০ (গ্রীষ্মকালীন) ও বেইজিং অলিম্পিক ২০২২ (শীতকালীন): এই দুই অলিম্পিকে রাশিয়ার নাম, পতাকা বা জাতীয় সংগীত ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। অ্যাথলেটরা অবশ্য রাশিয়ান অলিম্পিক কমিটি নামে নিরপেক্ষ দলে হিসেবে অংশগ্রহণ করে।
প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪ (গ্রীষ্মকালীন): পূর্ণ জাতীয় দল হিসেবে রাশিয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ হয়। অতি-কঠোর সামরিক ও ডোপিং তদন্ত শেষে হাতেগোনা কয়েকজন অ্যাথলেট ‘একক নিরপেক্ষ অ্যাথলেট’ হিসেবে খেলার সুযোগ পান।
মিলান-কোর্টিনা অলিম্পিক ২০২৬ (শীতকালীন): এই আসরেও রাশিয়ার দলীয় অংশগ্রহণ বা জাতীয় প্রতীকের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ বজায় থাকে।
ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ (২০১৬–বর্তমান): বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে রাশিয়ার ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড দলকে দীর্ঘ বছর ধরে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে।
আইস হকি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২২-২০২৬): রাশিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় শীতকালীন খেলা আইস হকিতেও টানা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়।



