নারী ক্রিকেট আটকে একই গণ্ডিতে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
আর্থ-সামাজিক অবস্থান কিংবা শারীরিক গঠন, শ্রীলঙ্কার নারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের নারীদের তফাত এই ক্ষেত্রে সামান্যই। ক্রিকেট মাঠেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা একটা সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতেন, মাঝেসাঝে জয়ের দেখাও পেতেন। হারিয়ে দিতেন দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। কিন্তু ইদানীং বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে সাফল্যের গল্প আটকে আছে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের বিপক্ষে, যেসব দেশে নারী ক্রিকেট এখনো শৈশবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কের আন্তর্জাতিক ম্যাচ সংখ্যাই কাঁটায় কাঁটায় ২০০!
বিদেশ সফরে ঘুরেফিরে কিছু চেনা মুখ, পূনর্বাসন কেন্দ্র হয়ে ওঠা কোচিং প্যানেল আর দলের ক্ষমতার নাটাই একজনের হাতে; বেশ কয়েক বছর ধরে এভাবেই চলছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট। ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হেরে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে নারী দল, এরপর তাদের গন্তব্য জাপানে এশিয়ান গেমস। সেখানে ভাগ্যচক্রে একটা ব্রোঞ্জ জুটলেই মুছে যাবে পেছনের সব ব্যর্থতা!
কিছুদিন আগে ভুটানে আইসিসি লেভেল-থ্রি কোচিং কোর্স শেষ করা নাসির উদ্দিন ফারুক বেশ কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের নারী দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে। তার লেভেল-থ্রি কোচিংয়ের বিষয় ছিল, ‘দলগত পরিবেশ এবং বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ভবিষ্যত।’ জ্যোতি ভারতের কাছে হারের পর সংবাদ সম্মেলনেও বলেছেন, ‘অনেক দিন ধরেই ব্যাটিং আমাদের প্রধান সমস্যা, ব্যাটিংই আমাদের বেশি ভোগাচ্ছে।’ তবুও ফারুক টিকে আছেন।
বাংলাদেশ নারী দলে প্রধান কোচ হিসেবে কিছুদিন আগে কাজ করে গেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক ক্রিকেটার হাসান তিলকারত্নে। দলের ভেতর বেশ কয়েকটি উপদলের কথা বলেছিলেন তিনি, ‘আমি গ্রুপিং বন্ধ করেছি। কিছু জিনিস বদলেছি।’ তবে সেসব অনেক কিছুই আবার ফিরে এসেছে বলে মনে করেন রুমানা আহমেদ। বাংলাদেশের হয়ে ১৩৭টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা রুমানা অভিমান নিয়েই ‘আগামীর সময়’কে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমার এসব নিয়ে কিছু বলার নেই। কারণ, এসব ব্যাপারে আমি নিজে কয়েক বছর ধরে ভুগেছি এবং অনেক কথা বলেছি। আমার মনে হয় না এসবে ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন এসেছে।’
ঘুরেফিরে কয়েকজন ক্রিকেটারই দলে থাকা আর নিচের সারির অপেশাদার দলের বিপক্ষে সাফল্যই বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের গণ্ডি হয়ে গেছে কি না— এই প্রসঙ্গে রুমানা বলেছেন, ‘আমি যখন কথা তুলেছিলাম তখন সবার মুখে একটাই কথা ছিল যে তারা তো জিতছে। আমি বলেছিলাম যে কাদের বিপক্ষে জিতেছে এটা দেখেন, আমাদের উন্নতি কতখানি হয়েছে, ব্যাটাররা কেমন করছে বা বোলাররা কেমন করছে, এগুলো নিয়ে কখনো কেউ এত সমালোচনা করেছে।’
এই বছরের গোড়ার দিকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল যখন বিসিবির সভাপতি, তখন ঘোষণা এসেছিল জুন-জুলাইয়ে তিন দল নিয়ে মেয়েদের বিপিএল করার। তখনকার নারী ক্রিকেট উইংয়ের চেয়ারম্যান রুবাবা দৌলা বলেছিলেন, ‘আমরা তিনটি দল নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট করব। মেয়েদের ক্রিকেটে এটা খুব ভালো সুযোগ হবে। দলগুলো চাইলে বিদেশি ক্রিকেটারদেরও আনতে পারবে।’ তামিম ইকবাল সভাপতি হয়ে পুরুষ ক্রিকেটারদের বিপিএলই স্থগিত করে দিয়েছেন, সেখানে নারীদের বিপিএলের ভবিষ্যৎ তো আরও অন্ধকারে।



