‘বিদায়’ বলা রুবেলকে শুভকামনা তামিম-মুশফিকদের

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন রুবেল হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
২০২১ সালের এপ্রিলে নিউজিল্যান্ড সফরে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন রুবেল হোসেন। চার বছর পর আরেকটি এপ্রিলে নিউজিল্যান্ড এসেছে বাংলাদেশ সফরে। আর সিরিজ শুরু হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন ৩৬ বছরের এই পেসার। তবে ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাবেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে অবসরের ঘোষণা দিয়ে রুবেল লিখেছেন, ‘জাতীয় দল আমার আবেগ। কিন্তু একটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতেই হতো। সেই চিন্তা করেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে গুডবাই জানালাম। তবে ঘরোয়া আসরের ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, গণমাধ্যমকর্মী ও ভক্তদের ধন্যবাদ। বাকি সময়টাতেও এভাবেই আমাকে আপনাদের পাশে রাখবেন এটা আমার বিশ্বাস।’
রুবেল যে এতদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি সেটা হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন অনেকে। তবে তার অবসর নেওয়ার দিনে সাবেক সতীর্থরা জানালেন ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা।
বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘মাঠের ভেতরে ও বাইরে অনেক স্মৃতি। তোমার সঙ্গে এই পথচলা ভাগ করে নেওয়াটা ছিল এক বিশেষ সৌভাগ্য। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে যা কিছু দিয়েছ, তার জন্য ধন্যবাদ। তোমার অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অভিনন্দন, রুবেল হোসেন।’
মুশফিকুর রহিম ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৫ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই দিনটি সকল বাংলাদেশির স্মৃতিতে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। আগামীর দিনগুলোর জন্য রইল শুভকামনা রুবেল।’
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ লিখেছেন, ‘জাতীয় দলে তোমার অবদানের জন্য ধন্যবাদ। তোমার অর্জন ও অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য অনেক অভিনন্দন রুবেল হোসেন। ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল।’
বাংলাদেশের হয়ে ১০৪ ওয়ানডে ১২৯ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। ২৭ টেস্টে তার উইকেট ৩৬টি। আর টি–টোয়েন্টিতে ২৮ ম্যাচে রুবেল নিয়েছেন ২৮ উইকেট।
২০টির বেশি উইকেট নেওয়া আর আড়াই হাজার বল করা বোলারদের ক্ষেত্রে টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে বোলিং গড় তার। তবে ওয়ানডে অভিষেকে ৪ উইকেট শিকারি বাংলাদেশের প্রথম বোলার রুবেল। ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করা সিরিজের শেষ ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি।
২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই মিরপুরে হ্যাটট্রিকসহ ২৬ রানে ৬ উইকেট, এখনও যা মাশরাফির বিন মর্তুজার সঙ্গে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে তার সেই দুই ডেলিভারি তো বাংলাদেশ ক্রিকেটের রূপকথা হয়ে থাকবে।
২০২০ সালের পর আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেননি রুবেল। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরেও খেলেননি তিনি। বিপিএলেও নেয়নি কোনো দল। তাই ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা কীভাবে এগিয়ে নেন সেটাই দেখার।

