ওলি পোপ
গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে বাও বান খাচ্ছিলাম, তখনই ফোনটা এলো

ইংল্যান্ডের টপঅর্ডার ব্যাটার ওলি পোপ এবং তার গার্লফ্রেন্ড এলা গর্ডন।
অস্ট্রেলিয়া সফরের দুঃস্বপ্ন আর দল থেকে বাদ পড়ার দীর্ঘ ৯ মাস পর ইংল্যান্ড টেস্ট দলে ফিরেছেন টপঅর্ডার ব্যাটার ওলি পোপ। আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের প্রথম দুই টেস্টের স্কোয়াডে ডাক পাওয়া এই ব্যাটার জানিয়েছেন, গার্লফ্রেন্ড এলা গর্ডনের সঙ্গে বসে বাও বান খাওয়ার সময়ই হঠাৎ আসে সেই কাঙ্ক্ষিত ফোনকলটি, যা এক নিমিষেই পাল্টে দিয়েছে তার ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।
লর্ডসে ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কামব্যাক ও পেছনের গল্প শোনান ওলি পোপ। গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে বসে অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করার সেই মুহূর্তটি স্মরণ করে পোপ বলেন, ‘আমি তখন আমার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে বসে বাও বান খাচ্ছিলাম। আমরা সাধারণত ক্রিকেটের বিষয়ে খুব একটা কথা বলি না, তবে সেদিন আমার ক্যারিয়ারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হচ্ছিল।’
হঠাৎ ফোন বের করে দেখেন অচেনা একটি নম্বর থেকে মিসড কল এসেছে। কল ব্যাক করে ওলি পোপ জানতে পারেন, সেটি ইংল্যান্ডের পুরুষ দলের নির্বাচক মার্কাস নর্থের নাম্বার। পোপ বলেন, ‘মার্কাস নর্থের সঙ্গে এর আগে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না, তাই তার নম্বরটাও আমার কাছে ছিল না। মানে, টাইমিংটা অদ্ভুত ছিল। কারণ আমরা ঠিক সেই মুহূর্তে ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনা করছিলাম, তখনই ফোনটা এসেছিল! এটি যেন বাও বানগুলোর স্বাদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।’
অ্যাশেজ সিরিজের পর দল থেকে বাদ পড়া এবং পুনরায় দলে ফেরার অনুভূতি নিয়ে পোপ আরও বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে হতাশাজনক সময় কেটেছে। গতকালের ফোনটা পেয়ে মনে হচ্ছিল যেন অভিষেক ম্যাচের ডাক এসেছে! এমন একটা কিছু যা আমি আশা করছিলাম, কিন্তু ঠিক এভাবে প্রত্যাশা করিনি। আমি হয়তো একাদশে নাও থাকতে পারি, তবে এটি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের পারফরম্যান্স ও মানসিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে গিয়ে পোপ জানান, ‘সেই সময়টা... সত্যি বলতে খুব কঠিন ছিল। স্রেফ দুটি খারাপ ম্যাচ দল থেকে আমাকে ছিটকে দিয়েছিল। তখনকার অনুভূতিটা ছিল ভয়ানক... আমি আসলে এখানে কোনো বাজে শব্দ ব্যবহার করতে পারছি না... তবে এটা বেশ বাজে একটা অনুভূতি ছিল। হ্যাঁ, এটা বাজে ছিল।’
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে এই ব্যাটার বলেন, ‘আগামী গ্রীষ্মে অ্যাশেজ রয়েছে। আমি এখানে (লর্ডসে) কাঁধে চোট নিয়েও একটা ম্যাচ খেলেছি, এজবাস্টনেও একটা ম্যাচ খেলেছি। আমার মনে হয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রমাণ করার মতো আমার অনেক কিছু বাকি আছে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো অ্যাশেজ। তবে আমি এখনো একাদশে ফিরিনি, এবং অনেক কাজ বাকি আছে। তবে একটা জিনিস আমি কখনোই হতে দিতে চাইনি; সেটা হলো ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই ফুরিয়ে যাওয়া।’






