বেঁচে আছে ভিক্টোরিয়ান্স একাডেমি

একটি টার্ফ পিচ, চারটি নেট, চারজন কোচ আর একজন মাঠকর্মী। বিপিএলে ব্র্যান্ড হয়ে ওঠা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলটি এখন নেই, তবে তার একাডেমি টিকে আছে কোনোভাবে। নিজস্ব ক্রিকেটার গড়ার স্বপ্ন দেখা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির একাডেমি এখন অভিভাবকহীন।
এই একাডেমির অবস্থান লালমাই সরকারি কলেজ মাঠে। কোনোরকমে আঁকড়ে ধরে আছেন কোচ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। প্রায় ২০০ ক্রিকেট শিক্ষার্থীর হেড কোচ তিনি। আছেন ২০১৩ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ট্যালেন্ট হান্ট একাডেমির সূচনালগ্ন থেকে।
ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক সাবেক মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ে নাফিসা কামাল। ২০২৪ সালের আগস্টে মালিক দেশান্তরী হওয়ায় একাডেমির কার্যক্রমও বন্ধ ছিল কিছুদিন। অর্থের জোগানে ভাটা পড়ে। তবে ক্রিকেট প্রশিক্ষণের বন্ধ দুয়ার খুলতে বেশিদিন সময় নেননি আতিক। ২০২৫ সাল থেকে একাডেমি চলছে আতিকের প্রচেষ্টা ও খুদে ক্রিকেটারদের বেতনে।
এই একাডেমি বন্ধের ধাক্কাও এসেছিল, সঙ্গে ছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নাম বদলের চাপ। কিন্তু আতিক ছিলেন অনড়, ‘কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স নামটি ৬০ লাখ মানুষের আবেগ। কারণ এই দল বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হলে কুমিল্লার প্রতিটি রাস্তায় আনন্দ মিছিল বের হতো। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে মানুষ এই নামের দলটির খেলা দেখেছে। এই দলের নামটা কুমিল্লার মানুষ ধারণ করেছে।’
ক্রিকেট একাডেমির কার্যক্রম চললেও সমস্যা অর্থাভাব ও পরিচালনায়। প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকার বল কিনতে হয় আতিকদের। ক্রিকেটারদের উন্নতির জন্য মাসে ১০-১২টি অনুশীলন ম্যাচ খেলতে হয়। ঢাকা, কুমিল্লা অথবা কোনো টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলতে হলে খরচ হয় অনেক। প্রতি ম্যাচে ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।
অথচ একসময় খেলার জন্য ভাবতে হতো না আতিকদের। সাত বছর বন্ধ থাকা কুমিল্লা লিগ শুরু হয়েছিল তাদের হাতেই। একাডেমির ক্রিকেটারদের পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক কোচ স্টিভ রোডস। পাশে পাওয়া যেত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকেও। এই একাডেমি থেকে মেহেদী হাসান নামে উঠে আসা পেসার খেলেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স দলে। এরপর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও। এ ছাড়া ছয়জন ক্রিকেটার বাংলাদেশ বয়সভিত্তিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে খেলেছেন। এর মধ্যে অন্যতম সানজিদ মজুমদার, বর্তমান বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সদস্য এই বোলার। সাম্প্রতিক সময়ে মারুফ হাসান বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ এবং আফনান ইন্তেহাদ কম্বাইন্ড স্কুল ক্রিকেট থেকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৭ জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৪-এর পর অনেক বাধা সামলে এগিয়ে যাওয়া একাডেমির ৩০ ক্রিকেটার খেলছেন ঢাকার বিভিন্ন লিগে। আতিকের আশা, জেলার ক্রিকেট এগিয়ে নেওয়ার চিন্তা থেকে একাডেমির দায়িত্ব নেবে কেউ। অভিভাবক হিসেবে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সহযোগিতায় তাকিয়ে তিনি, ‘তামিম ভাই এই দলের চ্যাম্পিয়ন অধিনায়ক। তার কাছে আবেদন থাকবে একবার এখানে এসে দেখুন। বিসিবির মাধ্যমে এখানে ভালো অনুশীলন সুবিধার ব্যবস্থা করলে একাডেমিটা ভালোভাবে চলতে পারে। এই দলটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের অনেক বড় অংশ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আবার বিপিএলে ফিরুক, এটাও আমার আশা।’
এই একাডেমি এখনো বাঁচিয়ে রেখেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ভবিষ্যতের আশা। দল হিসেবে তারা ফিরতে চায় বিপিএলে।






