বিমানবন্দরে বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ সাঙ্গাকারার

আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বর্ণবৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রায়ানএয়ারের কর্মীদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তোলেন তিনি। কর্মীদের দুর্ব্যবহার, কথা বলার ধরন এবং নিয়মকানুন প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সাবেক ক্রিকেটার। ডাবলিনে এটিই তার প্রথম তিক্ত অভিজ্ঞতা বলেও জানান তিনি।
সাঙ্গাকারার পোস্টের জবাবে এক ব্যবহারকারী তাকে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশী বলে কটাক্ষ করেন। ওই ব্যক্তির দাবি, সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করাকে বৈষম্য বলা যায় না। বিশেষ সুবিধা পেতে অভ্যস্ত কেউ সমান আচরণ না পেলে সেটিকে বৈষম্য মনে করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন সাঙ্গাকারা, ‘যখন বলা হয়, আপনাদের মতো পাসপোর্টধারীদের এমন আচরণই আশা করা উচিত, আর এমন জঘন্য মন্তব্যের প্রতিবাদ করলে আমাদের অন্য যাত্রীদের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং বিমানে উঠতে দেওয়া হবে না, তখন সেটাকে সবার সঙ্গে সমান আচরণ বলা যায় না। এটা বর্ণবাদ।’
এর আগে এক্সে দেওয়া পোস্টে সাঙ্গাকারা লিখেছিলেন, ‘ডাবলিনে রায়ানএয়ারের বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন কেউ? আমি ও আমার পরিবার এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি, যা ছিল হতবাক করার মতো। কথা বলার ধরন, নিয়মকানুনের অপব্যবহার এবং হুমকিমূলক আচরণ—কোনো যাত্রীর সঙ্গেই এমনটা করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
এদিকে সাঙ্গাকারার পোস্টে মন্তব্য করেছেন ডব্লিউএসও২-এর প্রধান নির্বাহী সঞ্জীবা বীরাওয়ারানা। পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় নিজেও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি। জবাবে সাঙ্গাকারা বলেন, ‘নিজের সঙ্গে এমন কিছু ঘটলে তা সত্যিই বিস্ময়কর লাগে।’
বর্ণবাদের অভিযোগ ঘিরে মুখ খুলেছে রায়ানএয়ার। বিমান সংস্থাটির দাবি, ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে প্রথমে রাজি হননি কুমার সাঙ্গাকারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রায়ানএয়ার জানায়, বাধ্যতামূলক অভিবাসন যাচাইয়ের অংশ হিসেবে বোর্ডিং গেটের এক কর্মী তার কাছে ভিসার কাগজপত্র দেখতে চান। কিন্তু সাঙ্গাকারা তা দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
তবে এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত বিমানে ওঠা নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি শ্রীলঙ্কার সাবেক এই অধিনায়ককে। রায়ানএয়ারের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে তার ভ্রমণের অনুমতি নিশ্চিত করা হয়। এরপর গত ২৮ অক্টোবর ডাবলিন থেকে ব্রিস্টলগামী নির্ধারিত ফ্লাইটেই যাত্রা করেন তিনি।
তবে বিমান সংস্থার এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন সাঙ্গাকারা। তার অভিযোগ, ভিসার নথি যাচাইয়ের বিষয়টির বাইরেও কর্মীদের আচরণ ও মন্তব্য ছিল আপত্তিকর এবং বর্ণবাদী।
বিষয়টি নিয়ে সাঙ্গাকারার পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রিটিশ টেলিভিশন উপস্থাপক পিয়ার্স মরগান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘কুমার সাঙ্গাকারার চেয়ে ভদ্র ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ খুব কমই দেখেছি। তিনি যখন এমন অভিযোগ করছেন, তখন নিশ্চয়ই অত্যন্ত লজ্জাজনক কোনো ঘটনা ঘটেছে। আশা করি, রায়ানএয়ার দ্রুত ও যথাযথভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।’



