খেলোয়াড়রা অসময়ে রাজনীতিতে পা রাখলেই বিপদ

সংগৃহীত ছবি
রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু এই রাজনীতি কখনো কখনো মরণঘাতী। কখনো আবার ক্রীড়া তারকার পতনেরও কারণ। সাম্প্রতিক সময়ের বড় উদাহরণ সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মর্তুজা। দুই ক্রিকেট তারকার প্রথমজন নির্বাসনে, অন্যজনকে স্বেচ্ছা আড়ালের জীবনে ঠেলে দিয়েছে এই রাজনীতি।
তাদের দুর্দশা দেখেই হয়তো সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনি কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয়; বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশ-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়ায় বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।’
এদিন এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১২৯ জন খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দিয়েছেন ক্রীড়া কার্ড ও মাসিক ভাতা। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে জাতীয় দলের এই খেলোয়াড়দের মাসে এক লাখ টাকা করে বেতন দেবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ফারুক আহমেদও। সাবেক এই ক্রিকেটার খেলায় থাকা খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে আসা বন্ধ করতে আইন করার পক্ষে, ‘স্টারডোমকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। রাজনীতি মানুষের অধিকার। যদি আমাকে জিজ্ঞাস করেন, তাহলে বলব যে আমি একটা দলের সমর্থক কিন্তু কর্মী নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের উদাহরণ যদি দেখেন সেদিক থেকে বলব, এটা (খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে আসা) একদম আইন করে বন্ধ করে দেওয়া উচিত।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘খেলা ছাড়ার পর রাজনীতিতে আসার অনেক উদাহরণ আছে। কিন্তু খেলা চলাকলীন রাজনীতিতে এসে আমাদের কিছু খেলোয়াড় বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন, তাদের নাম বলতে চাই না, এটা সবাই জানেন।’
সাকিব আল হাসান দেড় বছরেরও বেশি সময় দেশের বাইরে। ২০২৪ সালে ভারত সফরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার পর আর দেশের জার্সি গায়ে তুলতে পারছেন না। একই বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজে তার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হয়েছিল মিরপুর স্টেডিয়ামের সামনে।
সম্প্রতি সাকিবের ফেরার খবর আবার সামনে এলেও সরকার পড়েছে সিদ্ধান্তহীনতায়। তাই সামনের মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্য সাকিবের দেশে ফেরাও হচ্ছে না।
সাকিব তার খেলোয়াড়ি জীবনে ইতি না টেনেই ২০২৪-এর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করে জিতেছেন মাগুরা-১ আসন থেকে।
মাশরাফি বিন মর্তুজাও দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন নড়াইল-২ আসন থেকে। কিন্তু ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মাশরাফির নড়াইলের বাড়ি পোড়াবাড়ি রূপ নিয়েছে। সাকিবের বাড়ি-ঘর অক্ষত থাকলেও নিজের পরিবার নিয়ে তিনি একরকম নির্বাসনে। টানা ২০ মাসেরও বেশি সময় দেশের বাইরে!






